ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১৭.০৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার ৯০ শতাংশই কাপড় বা পোশাকজাত। একটি রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি বলেন, ‘আমরা প্রায় সব রপ্তানি একটিমাত্র পণ্যের ওপর নির্ভর করি, এটা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’ বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সুবিধার আওতায় রয়েছে।

  1. ক)

    GSP-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের কাপড় বা পোশাকজাত পণ্যের রপ্তানি মূল্য নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘একটিমাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে’—যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর GSP-এর পূর্ণরূপ হলো Generalized System of Preferences।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব পণ্য সচরাচর আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হয় না, সেগুলোকে অপ্রচলিত পণ্য বলে। যেমন হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত দ্রব্য, জুতা, সিরামিক দ্রব্য, শুকনো মাছ ইত্যাদি। এসব পণ্যের রপ্তানি বাড়িয়ে প্রচলিত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। বর্তমানে তৈরি পোশাক অপ্রচলিত পণ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আনে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেওয়া আছে, মোট রপ্তানি = ১৭.০৫ বিলিয়ন ডলার এবং কাপড় বা পোশাকজাত পণ্য মোট রপ্তানির ৯০%।

    সুতরাং পোশাকজাত পণ্যের রপ্তানি মূল্য = 17.05×9010017.05 \times \frac{90}{100} বিলিয়ন ডলার
    = 17.05×0.917.05 \times 0.9 বিলিয়ন ডলার
    = 15.34515.345 বিলিয়ন ডলার।

    অতএব, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকজাত পণ্যের রপ্তানি মূল্য ১৫.৩৪৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৫.৩৫ বিলিয়ন ডলার)। বাকি পণ্যের রপ্তানি = 17.05−15.345=1.70517.05 - 15.345 = 1.705 বিলিয়ন ডলার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপক অনুযায়ী ১৭.০৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির ৯০ শতাংশই পোশাকজাত, অর্থাৎ বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রগামী রপ্তানি একটি পণ্যনির্ভর। সভাপতির উক্তিটি যুক্তিসংগত।

    ঝুঁকির দিকগুলো হলো: প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি বড় রপ্তানি বাজার। দেশটি কোনো কারণে শুল্ক বাড়ালে বা আমদানি কমালে পোশাক শিল্প বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ GSP সুবিধার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির সুযোগ পায়। এ সুবিধা সীমিত বা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে। তৃতীয়ত, একটি পণ্যের দাম কমলে বা চাহিদা কমলে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সামাজিক প্রভাবও পড়বে।

    এ ঝুঁকি কমাতে অন্যান্য অপ্রচলিত পণ্য যেমন কুটির শিল্পজাত দ্রব্য, শুকনো মাছ, হিমায়িত খাদ্য, জুতা ও সিরামিক দ্রব্য রপ্তানি বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি নতুন বাজার খুঁজতে হবে।

    সুতরাং একক পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখী করা প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও