সাহিত্য পাঠ • মৌসুম

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

বন্যাকবলিত শালিখা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন সাহেবকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চিঠি লিখে জানতে চান, এলাকায় খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে কি না। হারুন সাহেব ঠিক করেন উত্তরে লিখবেন, ‘কোনো সংকট নেই, সাহায্যের প্রয়োজন নেই।’ কারণ, ত্রাণের চাল তিনি নিজের গুদামে মজুত রেখেছেন, বাজারে দাম বাড়লে চড়া দামে বিক্রি করবেন। এলাকার কয়েকজন তরুণ গোপনে গুদামের খবর সংগ্রহ করে সংবাদমাধ্যমে জানিয়ে দেয়। খবরটি প্রকাশ পেলে সবাই হারুন সাহেবকে ধিক্কার দিতে থাকে।

  1. ক)

    ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারিকানাথকে ব্যক্তিগত চিঠিতে কী জানতে চেয়েছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    দ্বারিকানাথ কেন নিজে গ্রাম ঘুরে দেখতে বের হলেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হারুন সাহেবের সিদ্ধান্ত ‘মৌসুম’ গল্পের দ্বারিকানাথের কোন সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “হাওয়ায় একটা দূরাগত হাসির রোল ভেসে আসছে নাকি?”—গল্পের শেষের এই বাক্যের তাৎপর্য উদ্দীপকের শেষাংশের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারিকানাথকে ব্যক্তিগত চিঠিতে জানতে চেয়েছিলেন, তাঁদের এলাকায় অন্নাভাব শুরু হয়েছে—এ কথা সত্যি কি না।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দ্বারিকানাথ ভেবেছিলেন সখানাথ নিজেই তাঁর কাছে আসবে। কিন্তু সে না আসায় এবং প্রজাদের কেউ সেলাম জানাতে না আসায় তিনি বিরক্ত হন। আবার ম্যাজিস্ট্রেট অন্নাভাবের খবর জানতে চেয়ে চিঠি লেখেন। উত্তর ঘরে বসে লিখে দেওয়া সম্ভব হলেও প্রজাদের প্রকৃত অবস্থা এবং তাদের এই আচরণের কারণ নিজের চোখে দেখার ইচ্ছাও তাঁর হয়। এসব কারণে তিনি নিজেই বের হলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের হারুন সাহেবের সিদ্ধান্তটি ‘মৌসুম’ গল্পের দ্বারিকানাথের ম্যাজিস্ট্রেটকে মিথ্যা তথ্য জানানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    গল্পে ম্যাজিস্ট্রেট এলাকায় অন্নাভাবের খবর জানতে চাইলে দ্বারিকানাথ ঠিক করেন, তিনি আজই লিখে দেবেন, ‘কোনো অভাব নেই, কিছু করতে হবে না তোমার।’ কারণ তিনি চাল মজুত করে রেখেছেন। বর্ষা নামার পর আকাল দেখা দিলে তাঁর স্টক করা চালের দাম আরও বেড়ে যাবে এবং প্রজারা তাঁর দুয়ারে মাথা কুটবে। উদ্দীপকেও হারুন সাহেব সরকারি কর্মকর্তাকে জানাবেন যে কোনো সংকট নেই, কারণ তিনি ত্রাণের চাল মজুত করে রেখেছেন এবং দাম বাড়লে বিক্রি করবেন। দুজনের ক্ষেত্রেই মানুষের দুর্দশাকে নিজেদের মুনাফার সুযোগ হিসেবে দেখার স্বার্থপর মানসিকতা এবং কর্তৃপক্ষকে প্রতারিত করার সিদ্ধান্ত সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মৌসুম’ গল্পের শেষে দ্বারিকানাথ যখন আগামী দিনে প্রজাদের ওপর তাঁর দোর্দণ্ড প্রতাপের কথা কল্পনা করে খুশি হয়ে ওঠেন, তখন পেছনে তাকিয়ে হাওয়ায় ভেসে আসা দূরাগত হাসির রোল শুনতে পান। এই হাসি কৃষকদের এবং তাতে গভীর ব্যঞ্জনা রয়েছে।

    দ্বারিকানাথ মনে করেন চাল মজুত করে, সংগঠকদের জেলে পাঠিয়ে এবং আকাল সৃষ্টি করে তিনি প্রজাদের ফুর্তি শেষ করে দেবেন। কিন্তু কৃষকেরা আর আগের মতো ভীত ও নতজানু নেই। সখানাথ-রমানাথের মতো মানুষেরা শোষণের স্বরূপ চিনে ফেলেছে। তাদের এই জাগরণ জমিদারি ক্ষমতার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। হাসির রোল তাই জমিদারের কূটকৌশলকে তুচ্ছ করার, শোষণের পরিণতির ইঙ্গিত এবং কৃষকদের ভবিষ্যৎ বিজয়ের প্রতীক।

    উদ্দীপকেও হারুন সাহেব ভেবেছিলেন তাঁর মজুতদারি ও মিথ্যা প্রতিবেদন কেউ ধরতে পারবে না। কিন্তু সচেতন তরুণেরা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে ফাঁস করে দেয় এবং সবাই তাঁকে ধিক্কার দেয়। এতে বোঝা যায়, জনগণ সচেতন হয়ে উঠলে অন্যায়কারীর কৌশল ব্যর্থ হয়। গল্পের শেষের অনুচ্চারিত ইঙ্গিত উদ্দীপকে বাস্তব রূপ পেয়েছে।

    সুতরাং ‘দূরাগত হাসির রোল’ জমিদারি শোষণের অবসান ও সচেতন জনতার আগামী জয়ের ইঙ্গিতবাহী, যা উদ্দীপকের হারুন সাহেবের ধিক্কৃত হওয়ার ঘটনায় তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও