বাংলা ১ম পত্র • বাংলা শব্দ
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
দশম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার বাজারে গেল। দোকানি বলল, “খালের ওপারে নতুন ঘড়ার দোকান বসেছে, দাম একটু কমই।” শুনে তানিয়া ভাবল, প্রতিদিনের এই সহজ শব্দগুলো কি সত্যিই খাঁটি বাংলা? সে ফিরে এসে শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, “এসব শব্দের কোনোটি এসেছে তামিল থেকে, কোনোটি গ্রিক থেকে। আবার কিছু শব্দ আছে যেগুলোর উৎস আজও অজানা।”
- ক)(1)
‘দাম’ শব্দটি কোন ভাষার কোন শব্দ থেকে এসেছে?
- খ)(2)
“এ-তীর্থযাত্রীরা আমাদের সবচেয়ে প্রিয়রা”— লেখক কেন এ কথা বলেছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ‘খাল’ ও ‘দাম’ শব্দ দুটি কীভাবে বাংলা ভাষায় এসেছে? ‘বাঙলা শব্দ’ প্রবন্ধ অনুসারে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের শিক্ষকের বক্তব্যে ‘বাঙলা শব্দ’ প্রবন্ধের শব্দ-বৈচিত্র্যের ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছে।”— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘দাম’ শব্দটি গ্রিক ভাষার ‘দ্রাখমে’ শব্দ থেকে এসেছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এখানে ‘তীর্থযাত্রী’ বলতে বাংলা ভাষায় আগত তদ্ভব শব্দগুলোকে বোঝানো হয়েছে। এই শব্দগুলো প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে নিয়ম মেনে অনেক শতক পথ হেঁটে বাংলায় এসেছে। আমাদের প্রতিদিনের কথাবার্তায় এগুলোর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। বাংলা ভাষাকে এরা সমৃদ্ধ করেছে, তাই লেখক এদের ‘আমাদের সবচেয়ে প্রিয়রা’ বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘খাল’ ও ‘দাম’ উভয়ই তদ্ভব শব্দ, যারা অন্য ভাষা থেকে সংস্কৃত ও প্রাকৃত হয়ে বাংলায় এসেছে। ‘খাল’ শব্দটি তামিল ভাষার ‘কাল’ থেকে এসেছে। ‘কাল’ সংস্কৃতে হয় ‘খল্ল’, প্রাকৃতেও ‘খল্ল’ থাকে এবং বাংলায় হয় ‘খাল’। অন্যদিকে ‘দাম’ এসেছে গ্রিক ‘দ্রাখমে’ (একরকম মুদ্রা) থেকে। সংস্কৃতে তা হয় ‘দ্রম্ম’, প্রাকৃতে ‘দম্ম’ এবং বাংলায় ‘দাম’। এভাবে প্রথমে সংস্কৃতে, তারপর প্রাকৃতে এবং সবশেষে বাংলায় এসে শব্দ দুটি বর্তমান রূপ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন, বাংলা শব্দভাণ্ডার একটিমাত্র উৎস থেকে গড়ে ওঠেনি। উদ্দীপকে শিক্ষক বলেছেন, কিছু শব্দ তামিল থেকে, কিছু গ্রিক থেকে এসেছে এবং কিছু শব্দের উৎস অজানা। ১. ভিন্ন ভাষার শব্দ: প্রবন্ধে ‘খাল’ তামিল থেকে, ‘ঘড়া’ তামিল-মালয়ালি ‘কুটম’ থেকে এবং ‘দাম’ ও ‘সুড়ঙ্গ’ গ্রিক থেকে এসেছে। ‘ঠাকুর’ এসেছে তুর্কি ‘তিগির’ থেকে। উদ্দীপকের তামিল ও গ্রিক শব্দের কথা এর সঙ্গে মেলে। ২. অজানা উৎসের শব্দ: প্রবন্ধে বলা হয়েছে, কিছু শব্দের মূল ভাষাতাত্ত্বিকেরা নির্ণয় করতে পারেননি। এগুলো ‘দেশি’ শব্দ, যেমন ডাব, ঢোল, ঢেউ। উদ্দীপকের অজানা উৎসের শব্দের ইঙ্গিত এখানেই। ৩. বাংলার নিজস্ব সম্পদ: লেখক এসব শব্দকে বিদেশি না ভেবে বাংলার আপন শব্দ হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলেছেন। সুতরাং শিক্ষকের বক্তব্যে প্রবন্ধের শব্দ-বৈচিত্র্যের ধারণাই প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও