জীববিজ্ঞান • জীবনপাঠ

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

পরীক্ষার খাতায় মিম তিনটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম হাতে এভাবে লিখেছে।

জীবমিমের লেখা নাম
ধানoryza Sativa
আমMangifera indica (পুরো নামের নিচে একটিমাত্র দাগ)
রুই মাছLabeo rohita (দুই অংশের নিচে আলাদা আলাদা দাগ)

তার শিক্ষক জানালেন, কোনো কোনো নামে দ্বিপদ নামকরণের নিয়ম মানা হয়নি। এছাড়া মিম পাঠ্যবইয়ে পড়েছে, দুইজন বিজ্ঞানী একই মাছকে ভিন্ন সময়ে ভিন্ন নাম দিলে একটি নামই গ্রহণ করা হয়।

  1. ক)

    দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি কী?

    (1)
  2. খ)

    জীবের বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন ভাষায় দেওয়া হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছকে মিমের লেখা কোন নামগুলোতে ভুল আছে? সঠিক নিয়মসহ নামগুলো পুনরায় লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ অংশে বর্ণিত পরিস্থিতিতে কোন নামটি গ্রহণযোগ্য হবে এবং বৈজ্ঞানিক নাম অনন্য হওয়া কেন জরুরি— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে পদ্ধতিতে কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়, যার প্রথম অংশ গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশ প্রজাতির নাম, তাকে দ্বিপদ নামকরণ (binomial nomenclature) পদ্ধতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন ভাষায় বা ল্যাটিন ভাষার মতো করে উপস্থাপন করতে হয়। নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়। ফলে ভাষা বা অঞ্চল ভেদে নামের বিভ্রান্তি দূর হয় এবং বিশ্বের সব বিজ্ঞানী একই নামে জীবটিকে শনাক্ত করতে পারেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিমের লেখা প্রথম ও দ্বিতীয় নামে ভুল আছে। ১. ধান: গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় এবং বাকি অক্ষর ছোট হবে, আর প্রজাতি নাম পুরোটাই ছোট অক্ষরে লিখতে হবে। মিম গণ নামের প্রথম অক্ষর ছোট এবং প্রজাতি নামের প্রথম অক্ষর বড় লিখেছে। সঠিক নাম: Oryza sativa, হাতে লেখায় উভয় অংশের নিচে আলাদা দাগ দিয়ে লিখতে হবে। ২. আম: হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতির নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হয়; মিম একটিমাত্র দাগ দিয়েছে। সঠিক নাম: Mangifera indica, দুই অংশের নিচে আলাদা দাগসহ। তৃতীয় নামটি Labeo rohita সঠিকভাবে লেখা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ অংশে একই জীবকে দুইজন বিজ্ঞানী ভিন্ন নাম দিয়েছেন। দ্বিপদ নামকরণের অগ্রাধিকার আইন অনুসারে যিনি আগে বৈজ্ঞানিকভাবে নাম দিয়েছেন, তাঁর প্রদত্ত নামটিই গৃহীত হবে। অর্থাৎ পরবর্তীকালে দেওয়া নামটি বাতিল হবে। বৈজ্ঞানিক নাম অনন্য হওয়া জরুরি, কারণ: ১. একই নাম দুটি পৃথক জীবের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেই; তাই প্রতিটি নাম একটিমাত্র জীবকেই নির্দেশ করে। ২. নামটি ল্যাটিন ভাষায় হওয়ায় সারা বিশ্বে একই নামে জীবটি পরিচিত হয় এবং আঞ্চলিক নামের বিভ্রান্তি থাকে না। ৩. একই জীবের একাধিক নাম প্রচলিত থাকলে গবেষণা ও তথ্যবিনিময়ে জটিলতা সৃষ্টি হতো। ৪. ICBN ও ICZN নামক আন্তর্জাতিক কোডের নিয়ম মেনে নাম নির্ধারিত হওয়ায় সব দেশের বিজ্ঞানী এটি গ্রহণ করেন। সুতরাং অগ্রাধিকার আইন ও অনন্যতা বজায় রাখা জীবের সঠিক শনাক্তকরণের জন্য অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও