সাহিত্য পাঠ • কারবালা-প্রান্তর
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক আবদুল জব্বার সাহেব রাতের বেলা বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারী সোহেলের হাতে আক্রান্ত হন। সোহেল তাঁর বুকের ওপর চেপে বসে ছুরি ধরে। জব্বার সাহেব ভয় না পেয়ে ধীরকণ্ঠে বললেন, “বাবা, আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম। টাকা নিয়ে যাও। ভালো পথে ফিরলে আল্লাহর কাছে আমি তোমার জন্য দোয়া করব।” সোহেল এতে নরম হলো না, টাকা নিয়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে চলে গেল।
- ক)(1)
সীমার শরসন্ধানে কেমন ছিলেন?
- খ)(2)
ইমাম হোসেন সীমারকে বক্ষের বসন খুলতে বলেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
“তোমাকে স্বর্গে লইয়া যাইতে না পারিলে আমি কখনই স্বর্গের দ্বারে পদনিক্ষেপ করিব না।” — ইমাম হোসেন সীমারকে কেন এ আশ্বাস দিয়েছিলেন? উদ্দীপকের জব্বার সাহেবের কথার সূত্র ধরে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“ঘাতকের প্রতি আচরণে ইমাম হোসেন জব্বার সাহেবের চেয়েও অধিক মহত্ত্বের পরিচয় দিয়েছেন।” — মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সীমার শরসন্ধানে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন না।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইমাম হোসেনের মাতামহ হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলে গিয়েছিলেন, যার বক্ষ লোমশূন্য, তার হাতেই হোসেনের মৃত্যু হবে। সীমার সত্যিই তাঁর হত্যাকারী কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য হোসেন তাকে বক্ষের বসন খুলতে বলেন। বসন খুলে সীমার ও হোসেন দুজনেই দেখলেন, সীমারের বক্ষ লোমশূন্য। হোসেন মাতামহের বাক্য অলঙ্ঘনীয় জেনে নিজের মৃত্যু অনিবার্য বলে মেনে নিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইমাম হোসেন বিষাক্ত তীরবিদ্ধ হয়ে ভূতলে পড়ে যান এবং সীমার তাঁর বুকের ওপর চেপে খঞ্জর চালাতে থাকে। কিন্তু মাতামহের চুম্বনের মাহাত্ম্যে খঞ্জরের ধার বারবার ফিরে যাচ্ছিল, ফলে সীমারের কষ্ট বাড়ছিল এবং হোসেনেরও অসহ্য যন্ত্রণা দীর্ঘ হচ্ছিল। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি সীমারকে ক্ষতস্থানে খঞ্জর বসাতে বলেন। সীমার ‘আমার কী লাভ’ জিজ্ঞাসা করলে হোসেন পরকালে তাকে মুক্ত করার এবং স্বর্গে নেওয়ার ধর্মত প্রতিজ্ঞা করেন। উদ্দীপকের জব্বার সাহেবও আক্রমণকারী সোহেলকে ক্ষমা করে তার জন্য দোয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। দুজনের কথাতেই ঘাতকের প্রতি ঘৃণার বদলে ক্ষমা ও কল্যাণকামনা প্রকাশ পেয়েছে। তাই হোসেনের আশ্বাস ছিল শত্রুকেও ক্ষমা করার মহত্ত্ব এবং কষ্টের দ্রুত অবসান কামনার প্রকাশ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। ঘাতকের প্রতি আচরণে জব্বার সাহেব ও ইমাম হোসেন উভয়েই ক্ষমাশীল ও উদার। জব্বার সাহেব ছুরির সামনে ভয় না পেয়ে সোহেলকে ক্ষমা করেছেন ও তার জন্য দোয়ার কথা বলেছেন। তবে তাঁর আশ্বাস ক্ষমা ও দোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ; পরকালে ঘাতকের মুক্তির দায় নেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি তিনি দেননি। অন্যদিকে হোসেন তাঁর প্রাণ নিতে আসা সীমারকে কেবল ক্ষমাই করেননি। তিনি নিজের মৃত্যুযন্ত্রণার মধ্যেও সীমারের ‘লাভ’-এর কথা ভেবে পরকালে তাকে মুক্ত করার এবং স্বর্গে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এমনকি সীমারকে স্বর্গে না নিয়ে তিনি নিজে স্বর্গে যাবেন না বলে ঈশ্বরের নামে প্রতিজ্ঞা করেছেন। বুকের ওপর বসা খঞ্জরধারী ঘাতককে তিনি সম্বোধন করেছেন ‘ভাই’ বলে এবং ‘তুমি ঈশ্বরের সৃষ্ট জীব’ বলে তার মানবিক সত্তাকে স্মরণ করিয়েছেন। এছাড়া হোসেন আহত, পিপাসার্ত ও সর্বস্বহারা অবস্থায় এই উদারতা দেখিয়েছেন, যেখানে ঘাতক সীমার ছিল নির্দয়, তাঁর বুকে চেপে বসে নির্মম আঘাত করছে। তাই বলা যায়, শত্রুর প্রতি ক্ষমা, কল্যাণকামনা ও মানবিকতায় হোসেনের মহত্ত্ব জব্বার সাহেবের চেয়ে বিস্তৃত ও গভীর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও