সাহিত্য পাঠ • শিক্ষাচিন্তা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
নওগাঁর একটি কলেজের ছাত্র রাকিবের বাবা আজমল সাহেব ছেলের পড়াশোনার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। তাঁর একটাই লক্ষ্য, ছেলে একটি ভালো সনদ নিয়ে সরকারি চাকরিতে ঢুকবে। ছেলে কী শিখছে, তার চিন্তা ও সৃজনশীলতা কতটা বিকশিত হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই। কলেজের শিক্ষক সালাম স্যার বলেন, “সনদ দিয়ে হয়তো চাকরি মেলে, কিন্তু মানুষ গড়ে ওঠে না। শিক্ষা মানুষের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তোলে।”
- ক)(1)
‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধটি কোথায় পঠিত হয়েছিল?
- খ)(2)
“সেই মোহ আজো পুরোপুরি কাটে নি।”—কোন মোহের কথা বলা হয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আজমল সাহেবের মানসিকতায় ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সালাম স্যারের বক্তব্য ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধে বর্ণিত শিক্ষার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের ষষ্ঠবার্ষিক অধিবেশনে পঠিত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ পেলেই জীবিকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে—এই মোহের কথা বলা হয়েছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ জোগাড় করতে পারলেই অন্নসংস্থানের একটা উপায় হতো। সেই অভ্যাসের কারণে জনসাধারণ এখনো সনদকেই শিক্ষার একমাত্র ফল মনে করে। তাই পুত্র-কন্যার শিক্ষায় ব্যয়ের বিনিময়ে তারা কী পাচ্ছে, সে প্রশ্ন তারা নিজেদের ভালোভাবে করতে পারছে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আজমল সাহেবের মানসিকতায় ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধের জনসাধারণের অজ্ঞতা ও সনদের প্রতি মোহের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, শিক্ষকদের অস্বস্তির একটি কারণ জনসাধারণের অজ্ঞতা ও উদাসীনতা। সন্তানের শিক্ষায় অর্থ ব্যয় করলেও তারা ভাবে না তার বিনিময়ে কী পাচ্ছে, কারণ সনদ পেলেই অন্নের ব্যবস্থা হবে—এই মোহ তাদের কাটে নি। উদ্দীপকে আজমল সাহেব ছেলের পড়াশোনায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন, কিন্তু তাঁর লক্ষ্য কেবল একটি সনদ ও সরকারি চাকরি। ছেলের জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তাঁর কোনো ভাবনা নেই। প্রবন্ধে বর্ণিত জনসাধারণের এই সনদকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই আজমল সাহেবের মধ্যে ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধে কাজী আবদুল ওদুদ শিক্ষার উদ্দেশ্য হিসেবে জ্ঞানার্জন এবং মানুষের ভেতরকার সুপ্ত সৃষ্টি-শক্তিকে সচেতন করে তোলার কথা বলেছেন। সনদ অর্জনের মোহে আচ্ছন্ন জনসাধারণের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, যে শিক্ষা জীবিকা আহরণে সাহায্য করে না তা কেন শিক্ষা নামে খ্যাত হবে। লেখক বলেছেন, এ প্রশ্নের মুখে শিক্ষকদের হুঁশিয়ার হয়ে উঠতে হবে।
উদ্দীপকে সালাম স্যার বলেছেন, সনদ চাকরি দিতে পারে কিন্তু মানুষ গড়ে না; শিক্ষা মানুষের ভেতরের শক্তি জাগিয়ে তোলে। এটি প্রবন্ধের সৃষ্টি-শক্তিকে সচেতন করার বক্তব্যের সঙ্গেই মেলে। অন্যদিকে আজমল সাহেবের মনোভাব সনদের মোহে আচ্ছন্ন জনসাধারণেরই প্রতিনিধিত্ব করে। তবে প্রবন্ধে লেখক জীবিকার প্রশ্নটিকে একেবারে উড়িয়ে দেননি; জনসাধারণ যখন শিক্ষকদের প্রদত্ত শিক্ষার মূল্য যাচাই করতে চাইবেন, তা শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করাই দেশের জন্য কল্যাণকর বলে তিনি মনে করেন। সালাম স্যারের বক্তব্যে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হলেও এই ভারসাম্যের দিকটি অনুপস্থিত। তবু মূল ভাবের দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও