সাহিত্য পাঠ • আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মধুপুর গ্রামে প্রতি বছর পূজামণ্ডপ সাজাতে মুসলমান যুবকেরা এগিয়ে আসত, আর ঈদের দিন হিন্দু প্রতিবেশীরা সেমাই খেতে আসত। গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক দলাদলি ও পারস্পরিক সন্দেহে সেই সম্পর্কে চিড় ধরেছে। এ বছর পূজায় কেউ কাউকে ডাকেনি। উঠানে বসে বৃদ্ধ সুধীর বাবু ও করিম মিয়া চুপচাপ থাকেন। অনেকক্ষণ পর করিম মিয়া শুধু বলেন, “আর কি ফিরে পাব সেই দিন?”

  1. ক)

    শাহ আবদুল করিমের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    শাহ আবদুল করিমকে ভাটি বাংলার লোককবি বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কবিতায় বর্ণিত অতীত সমাজের বৈসাদৃশ্য দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    “সম্প্রীতি ও লোকসংস্কৃতির চর্চাই কবির কাছে সুন্দর দিনের মূল ভিত্তি ছিল”— উদ্দীপক ও ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শাহ আবদুল করিমের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম ‘আফতাব সংগীত’ (১৯৪৮)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শাহ আবদুল করিম সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, যা বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের অন্তর্গত। তিনি বাংলা লোকগানের অগ্রগণ্য সাধকদের একজন। তাঁর গানে মাটি ও মানুষের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা এবং ভাটি অঞ্চলের জনজীবনের ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে। তাঁর ভাবমানস জুড়ে রয়েছে মর্মি সাধনার বহুমাত্রিক বিস্তার। এসব কারণে তাঁকে ভাটি বাংলার লোককবি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্প্রীতির সংকট দেখা যায়, আর কবিতায় বর্ণিত অতীত সমাজে ছিল অটুট সম্প্রীতি। উদ্দীপকে রাজনৈতিক দলাদলি ও সন্দেহের কারণে এ বছর পূজায় কেউ কাউকে ডাকেনি, হিন্দু-মুসলমান পরস্পর থেকে দূরে সরে গেছে। অথচ কবিতায় কবি স্মরণ করেছেন, “গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমান মিলিয়া বাউলা গান ঘাটু গান গাইতাম”। সেখানে হিন্দু বাড়িতে যাত্রাগান হলে সবাই নিমন্ত্রণ পেয়ে যেত এবং সবাই মিলে আনন্দ করত। অর্থাৎ কবিতার অতীতে সম্প্রীতি ও আনন্দময় মেলবন্ধন ছিল, উদ্দীপকে তা ভেঙে পড়েছে। কবিতার সমাজে ক্ষমতার দলাদলি নিয়ে মানুষের আগ্রহ ছিল না, আর উদ্দীপকে দলাদলিই সম্পর্ক নষ্টের কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। কবিতায় কবি অতীতের দিনকে সুন্দর বলেছেন, কারণ তখন গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমান মিলে বাউলা গান ও ঘাটুগান গাইত, গাজির গাইন ও সারিগানে আনন্দ পেত, নৌকা বাইচে নামত এবং হিন্দু বাড়িতে যাত্রাগানের নিমন্ত্রণে সবাই যেত। ধর্ম নির্বিশেষে এই মেলামেশা ও লোকসংস্কৃতির চর্চাই ছিল তাদের সুখের উৎস। উদ্দীপকেও দেখা যায়, মধুপুর গ্রামে পূজামণ্ডপ সাজাতে মুসলমান যুবকেরা এগিয়ে আসত, ঈদে হিন্দু প্রতিবেশীরা সেমাই খেতে আসত। সম্প্রীতির এই বন্ধনেই গ্রামের জীবন সুন্দর ছিল। সেই সম্পর্কে চিড় ধরায় সুধীর বাবু ও করিম মিয়া আজ নীরব ও বিষণ্ন, করিম মিয়া তাই আক্ষেপ করে বলেন, “আর কি ফিরে পাব সেই দিন?” কবিতার কবিও সম্প্রীতি ও সংস্কৃতিময় সেই দিন হারিয়ে “করি ভাবনা সেদিন আর পাব না” বলে হাহাকার করেছেন। তবে কবির সুখের ভিত্তিতে পঞ্চাইতের ন্যায়বিচার এবং মানুষের সরলতা ও ধর্মবলও ছিল, যা উদ্দীপকে নেই। তবু সম্প্রীতি ও সংস্কৃতিই ছিল প্রধান ভিত্তি। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও