জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : বর্জ্য ও নিষ্কাশন
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
৪০ বছর বয়সী সালিম সাহেব দুই দিন ধরে তীব্র ডায়রিয়ায় ভুগছেন, কিন্তু যথেষ্ট স্যালাইন খাননি। গতকাল থেকে তিনি মাত্র ৮০ মি.লি. প্রস্রাব করেছেন। তিনি দুর্বল বোধ করছেন এবং বুক ধড়ফড় করছে। পরীক্ষায় তাঁর রক্তে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ও পটাশিয়াম আয়নের মাত্রা বেশি পাওয়া গেল।
- ক)(1)
তাৎক্ষণিক বৃক্ক বিকল কাকে বলে?
- খ)(2)
দীর্ঘস্থায়ী বৃক্ক বিকল ও তাৎক্ষণিক বৃক্ক বিকলের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখ।
- গ)(3)
সালিম সাহেবের মূত্রের অবস্থাটি কী নামে পরিচিত? তাঁর এ অবস্থার সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সালিম সাহেবের জীবন ঝুঁকিতে আছে কেন? তাঁর জন্য কী ধরনের জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যখন বৃক্ক দেহের বর্জ্যপদার্থ অপসারণ, পানিসাম্য ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন সে অবস্থাকে বৃক্কের তাৎক্ষণিক বিকল (Acute Renal Failure) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১. সময়কাল: তাৎক্ষণিক বিকলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বৃক্ক কাজ করতে অক্ষম হয়; আর দীর্ঘস্থায়ী বিকলে বৃক্কের কার্যকারিতা ৩ মাস বা তার বেশি সময় ধরে লোপ পায়।
২. উপসর্গ ও চিকিৎসা: তাৎক্ষণিক বিকলে প্রস্রাব হঠাৎ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় এবং ডায়ালাইসিস বা অন্যান্য চিকিৎসায় সেরে ওঠা সম্ভব। দীর্ঘস্থায়ী বিকলে সাধারণত শুরুতে তেমন উপসর্গ থাকে না এবং ওষুধে পুরোপুরি সারানো কঠিন; ডায়ালাইসিস বা বৃক্ক প্রতিস্থাপনই তখন একমাত্র চিকিৎসা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুস্থ মানুষের মূত্র দৈনিক ৬০০–২৫০০ ml। মূত্রের পরিমাণ ১০০ ml-এর কম হলে তাকে অ্যানুরিয়া (anuria) বলে। সালিম সাহেব ৮০ ml মূত্র ত্যাগ করেছেন, তাই তাঁর অবস্থাটি অ্যানুরিয়া।
কারণ: তীব্র ডায়রিয়ায় দেহ থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে গেছে এবং তিনি যথেষ্ট স্যালাইন খাননি। ফলে তীব্র পানিশূন্যতা দেখা দিয়ে বৃক্কে রক্তপ্রবাহ কমে গেছে। রক্তপ্রবাহ কমলে গ্লোমেরুলাসে পরিশ্রাবণ ব্যাহত হয়, ফলে বৃক্ক পর্যাপ্ত মূত্র তৈরি করতে পারে না। বৃক্কে রক্তপ্রবাহ হ্রাস তাৎক্ষণিক বৃক্ক বিকলের একটি প্রধান কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সালিম সাহেবের মূত্র প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃক্ক বর্জ্য ও ইলেকট্রোলাইট অপসারণ করতে পারছে না। এ কারণেই তাঁর রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন বেড়েছে।
জীবনের ঝুঁকির কারণ: এ অবস্থায় দেহে উৎপন্ন পটাশিয়াম আয়ন (K⁺) মূত্রের মাধ্যমে অপসারিত হয় না, ফলে রক্তে K⁺-এর পরিমাণ বেড়ে যায়। পটাশিয়ামের মাত্রা কম বা বেশি হলে হৃদরোগ সৃষ্টি হয়। রক্তে K⁺ অতিরিক্ত বাড়লে হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাঁর বুক ধড়ফড়ও সম্ভবত এর ইঙ্গিত। দ্রুত চিকিৎসা না হলে মৃত্যুও ঘটতে পারে।
জরুরি ব্যবস্থা:
১. তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে বৃক্ক বিশেষজ্ঞের চিকিৎসাধীন করতে হবে।
২. ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে রক্ত থেকে ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ও অতিরিক্ত K⁺ অপসারণ করতে হবে।
৩. স্যালাইন ও তরলের মাধ্যমে দেহের পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করে বৃক্কে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে।তাৎক্ষণিক বৃক্ক বিকল ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য চিকিৎসায় সারানো সম্ভব। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নিলে সালিম সাহেব সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও