সহপাঠ • বহিপীর

সহপাঠ প্রশ্ন

শফিক সাহেব এক এতিম ছেলে রনির অভিভাবকত্ব নিয়েছেন মাত্র দুই মাসের জন্য, যতদিন না তার চাচা ফিরে আসেন। তবু তিনি বলেন, ‘দুই মাস হোক বা দুই বছর, একবার দায়িত্ব নিলে তা পূর্ণ মাত্রায় পালন করা আমার কর্তব্য।’ রনি কিন্তু শফিক সাহেবের কড়া নিয়মে অতিষ্ঠ হয়ে একদিন বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চায়।

  1. ক)

    বহিপীরের মতে এক মুহূর্তের স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব কত বছরের স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বের সমান?

    (1)
  2. খ)

    ‘কেহ কখনো একেবারে নিঃস্ব হয় না’—বহিপীর একথা বলেছেন কেন? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    শফিক সাহেবের উক্তিতে ‘বইপীর’ নাটকের বহিপীরের যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘বহিপীরের দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয় হলেও তা তাহেরার প্রতি সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত নয়।’—উদ্দীপকের আলোকে তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বহিপীরের মতে এক মুহূর্তের স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব দশ বছরের স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বের সমান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাতেম আলি জমিদারি হারাতে বসে নিজেকে সর্বস্বান্ত ভাবছিলেন। বহিপীর তখন তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, খোদাই রিজিকদাতা এবং তিনি কিছু না কিছু ব্যবস্থা করেন। বাহ্যিক সম্পদ না থাকলেও মানুষের রুহানিয়াত অর্থাৎ আত্মিক শক্তি থাকে। তাই কোনো মানুষকেই একেবারে নিঃস্ব বলা যায় না। এভাবে তিনি হতাশ হাতেম আলিকে আশ্বাস দিতে চেয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শফিক সাহেবের উক্তিতে বহিপীরের দায়িত্বের মেয়াদ নয়, গুরুত্বই বড়—এই মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। নাটকে বহিপীর বলেন, তাহেরাকে তিনি চোখে না দেখলেও শাদি মোবারক সম্পন্ন হওয়ায় তাঁর প্রতি দায়িত্ব সম্পূর্ণ মাত্রায় রয়েছে। তাঁর মতে, সময়ের স্বল্পতার কথা বলে দায়িত্ব এড়ানো যায় না, কারণ একবার দায়িত্ব নিলে তা পালন করা ফরজ। শফিক সাহেবও দুই মাস বা দুই বছরের পার্থক্য না করে পূর্ণ দায়িত্ব পালনের কথা বলেছেন। দুজনের চিন্তার মূলে আছে দায়িত্ব পালনে সময়ের হিসাব না রাখার নীতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমি মন্তব্যটির সঙ্গে একমত। ১. দায়িত্ববোধের প্রশংসনীয় দিক: শফিক সাহেব যেমন রনির প্রতি অল্প সময়ের দায়িত্বকেও গুরুত্ব দিয়েছেন, বহিপীরও কাবিনের মাধ্যমে স্ত্রী হওয়া তাহেরার প্রতি দায়িত্বকে বড় করে দেখেছেন। তাঁর দায়িত্বের ধারণা সৎ ও আন্তরিক, এমনকি তিনি তাহেরাকে বিপথ থেকে সুপথে আনার কর্তব্যের কথাও বলেছেন। ২. ন্যায়সংগত না হওয়ার দিক: উদ্দীপকে রনি কড়া নিয়মে অতিষ্ঠ হয়ে চলে যেতে চায়, অর্থাৎ দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নাটকেও তাহেরা সুস্পষ্টভাবে বলেছে, তার বিয়েতে মত ছিল না, সে বহিপীরকে স্বামী হিসেবে মানে না। তবু বহিপীর আদর-আবাদ, শয়তান ঝেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব, পুলিশ ডাকা এবং শেষে জমিদারি বাঁচানোর শর্তের মাধ্যমে তাকে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। সম্মতি ছাড়া এই চাপ প্রয়োগ ন্যায়সংগত নয়। ৩. বহিপীরের শেষ উপলব্ধি: তিনি শেষে শর্তহীনভাবে হাতেম আলিকে টাকা দিতে চেয়েছেন এবং হাশেম-তাহেরার চলে যাওয়া মেনে নিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, দায়িত্ববোধ নিজের মতো করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়, এটি তিনিও কিছুটা উপলব্ধি করেছেন। অতএব দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয় হলেও তাহেরার সম্মতিকে উপেক্ষা করায় তা ন্যায়সংগত ছিল না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও