সাহিত্য পাঠ • তাজমহল

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

আজমল সাহেবের পাঁচ বছরের মেয়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। পাশের বাড়ির লোকজন সংক্রমণের ভয়ে তাঁদের বাড়ির ধারেকাছেও আসে না। এক ঝড়-বৃষ্টির রাতে ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেলে আজমল সাহেব নিজে ভিজে ভিজে ছাতা ধরে মেয়েকে ভেজা থেকে বাঁচান। তিনি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেন, ‘মেয়েটা কি ভালো হবে?’ ডাক্তার সত্যি কথা বলায় তিনি নীরব হয়ে যান।

  1. ক)

    বৃদ্ধ বৃষ্টির দিনে চাদরের দুটি খুঁট কোথায় বেঁধেছিল?

    (1)
  2. খ)

    “এর বাঁচবার কোনও আশা আছে হুজুর?”—বৃদ্ধ কেন এ প্রশ্ন করেছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আজমল সাহেবের আচরণে ‘তাজমহল’ গল্পের বৃদ্ধের যে মানসিক দৃঢ়তা প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “গল্পের বৃদ্ধ ও উদ্দীপকের প্রতিবেশীদের আচরণের বৈপরীত্যই গল্পের মর্মবাণী ফুটিয়ে তুলেছে”—উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃদ্ধ বৃষ্টির দিনে চাদরের দুটি খুঁট গাছের ডালে বেঁধেছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃদ্ধ তার বেগমকে প্রাণের চেয়ে ভালোবাসত। বেগমের মুখ ক্যান্সার অরিসে পচে গিয়েছিল এবং বৃষ্টিতে ভিজে সে জ্বরে কাঁপছিল। বেগম বাঁচবে কি না তা জানার তীব্র আকুলতা থেকে সে ডাক্তারের কাছে এ প্রশ্ন করেছিল। ডাক্তারের ‘না’ উত্তর তাকে নীরব করে দিয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আজমল সাহেব ও গল্পের বৃদ্ধ উভয়েই প্রিয়জনের কষ্ট লাঘবের জন্য নিজের কষ্টকে তুচ্ছ করেছেন। গল্পের বৃদ্ধ মুষলধারে বৃষ্টির দিনে একটি চাদরের দুটি খুঁট গাছের ডালে বেঁধে বাকি দুটি নিজে ধরে দাঁড়িয়ে থেকেছে, যাতে বেগম কম ভেজে। যদিও চাদরে বৃষ্টি আটকায়নি, তার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি ছিল না। উদ্দীপকের আজমল সাহেবও ঝড়-বৃষ্টির রাতে নিজে ভিজে মেয়েকে ছাতা দিয়ে আড়াল করেছেন। দুজনেই প্রতিকূল পরিবেশ ও সমাজের অবহেলায় ভেঙে পড়েননি। এখানে প্রিয়জনের জন্য ত্যাগ ও অবিচল মানসিক দৃঢ়তা প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘তাজমহল’ গল্পে বেগমের মুখ ক্যান্সার অরিসে পচে ভীষণ দুর্গন্ধ ছড়ালে অন্যান্য রোগীরা আপত্তি করে, কম্পাউন্ডার, ড্রেসার, এমনকি মেথর পর্যন্ত কাছে যেতে রাজি হয় না। ফলে হাসপাতালের বারান্দা ছেড়ে গাছতলায় থাকতে হয়। অথচ বৃদ্ধ কিছুমাত্র বিরক্ত না হয়ে দিনরাত স্ত্রীর সেবা করে, বৃষ্টিতে ভিজে ছাউনি ধরে রাখে এবং শেষে নিজ হাতে কবর গাঁথে। এই বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন, সমাজের অন্য মানুষরা শারীরিক কদর্যতা দেখে সরে যায়, কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা তা উপেক্ষা করে।

    উদ্দীপকে প্রতিবেশীরা সংক্রমণের ভয়ে দূরে থাকে, আর আজমল সাহেব নিজের কষ্ট তুচ্ছ করে মেয়ের পাশে অবিচল থাকেন। এখানেও স্বার্থ ও ভয়ে পিছিয়ে যাওয়া মানুষের পাশে ভালোবাসায় আত্মনিবেদিত মানুষের ছবি ফুটেছে।

    সুতরাং বৈপরীত্যের মধ্য দিয়েই গল্পের মর্মবাণী—অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মানবিকতা বাহ্যিক বিচারের ঊর্ধ্বে—স্পষ্ট হয়েছে। উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও