বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংকব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

রফিক সাহেব দোকান থেকে দেশে উৎপাদিত এক প্যাকেট সিগারেট কিনলেন। প্যাকেটের গায়ে লেখা দামের মধ্যে সরকারের একটি কর অন্তর্ভুক্ত আছে। এই করের হার অন্যান্য সাধারণ দ্রব্যের তুলনায় অনেক বেশি। রফিক সাহেবের ছেলে নাঈম নবম শ্রেণিতে পড়ে। সে বাবাকে জিজ্ঞেস করল, 'সরকার এই দ্রব্যের ওপর এত বেশি কর বসায় কেন?'

  1. ক)

    আবগারি শুল্ক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাণিজ্য শুল্ক ও আবগারি শুল্কের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রফিক সাহেব যে করটি দিয়েছেন, সরকার কী কী উদ্দেশ্যে তা ধার্য করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সরকার যদি উদ্দীপকের দ্রব্যটির ওপর শুল্কের হার আরও বাড়ায়, তাহলে সরকারের আয় ও সমাজের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাণিজ্য শুল্ক ধার্য করা হয় আমদানি ও রপ্তানিকৃত দ্রব্যের ওপর। অন্যদিকে আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয় দেশের ভেতরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর। বাণিজ্য শুল্ক বাংলাদেশ সরকারের আয়ের প্রধান উৎস। আবগারি শুল্ক রাজস্ব সংগ্রহের পাশাপাশি ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ কমানোর উদ্দেশ্যেও ধার্য করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রফিক সাহেব দেশে উৎপাদিত সিগারেটের ওপর ধার্য আবগারি শুল্ক দিয়েছেন। সরকার প্রধানত দুটি উদ্দেশ্যে এ শুল্ক ধার্য করে।
    ১. রাজস্ব সংগ্রহ: দেশে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর শুল্ক বসিয়ে সরকার প্রচুর রাজস্ব আয় করে, যা প্রশাসন পরিচালনা ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়।
    ২. ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস: সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর ওপর উচ্চ হারে শুল্ক ধার্য করলে দাম বেড়ে যায় এবং মানুষ এর ভোগ কমাতে বাধ্য হয়।
    এভাবে আবগারি শুল্ক সরকারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দ্রব্যটি সিগারেট, যার ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। শুল্কের হার আরও বাড়ালে এর প্রভাব দুই দিক থেকে দেখা যায়।
    ১. সরকারের আয়ের ওপর প্রভাব: শুল্ক বাড়লে প্রতিটি প্যাকেট থেকে সরকার বেশি রাজস্ব পাবে। তবে দাম খুব বেশি বেড়ে গেলে ভোগ কমে যেতে পারে, ফলে মোট আয় সব সময় একই হারে বাড়বে না।
    ২. সমাজের ওপর প্রভাব: দাম বাড়লে মানুষ, বিশেষ করে কম আয়ের ও কমবয়সী ব্যক্তিরা, সিগারেট কম কিনবে। এতে ধূমপানজনিত রোগ কমবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। পরিবারের অর্থ অপচয় কমে সঞ্চয় বাড়তে পারে।
    ৩. সম্ভাব্য নেতিবাচক দিক: অতিরিক্ত দামের কারণে চোরাচালান ও অবৈধ বাজার বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
    সুতরাং শুল্কের হার বাড়ালে সরকারের রাজস্ব ও জনস্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল আসবে, তবে চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও