সাহিত্য পাঠ • ব্ল্যাক-আউটের পূর্ণিমায়
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
নদীর বাঁকে কাশবন লুকিয়ে রাখে নৌকা,
কুয়াশা ঢেকে দেয় যোদ্ধার পথ;
সন্ধ্যার শিশির হয়ে ওঠে সহযোদ্ধা,
মাটির গন্ধে জেগে ওঠে সাহস।
শত্রুর বুটের তলায় পিষ্ট হয়েও
এই দেশ কখনো মাথা নোয়ায়নি।
- ক)(1)
‘ব্ল্যাক-আউটের পূর্ণিমায়’ কবিতাটি শহীদ কাদরীর কোন গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে?
- খ)(2)
কবি স্বদেশকে জেব্রার সঙ্গে তুলনা করেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রকৃতির যে ভূমিকা ফুটে উঠেছে তা ‘ব্ল্যাক-আউটের পূর্ণিমায়’ কবিতার সঙ্গে সম্পর্কিত করে বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে প্রতীক ও চিত্রকল্প আছে, কিন্তু ‘ব্ল্যাক-আউটের পূর্ণিমায়’ কবিতার মতো বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনা নেই।”—আঙ্গিকের দিক থেকে মন্তব্যটি বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবিতাটি শহীদ কাদরীর ‘নির্বাচিত কবিতা’ গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জেব্রা শারীরিক গঠন ও স্বভাবে অত্যন্ত স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত এবং সৌন্দর্য, সততা ও স্বাধীনতার প্রতীক। এর সাদা-কালো ডোরা বৈপরীত্যের মিলনকে বোঝায়, যেমন এদেশেও নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ অনায়াসে মিলেমিশে থাকে। তা ছাড়া জেব্রা সামাজিক এবং একের বিপদে অন্যের এগিয়ে আসার প্রবণতা এদেশের চিরায়ত সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গে মেলে। তাই কবি স্বদেশের ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতে জেব্রার উপমা দিয়েছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে কাশবন নৌকা লুকিয়ে রাখে, কুয়াশা যোদ্ধার পথ ঢেকে দেয় এবং শিশির সহযোদ্ধা হয়ে ওঠে। অর্থাৎ প্রকৃতি এখানে নীরব দর্শক নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের সক্রিয় সহযোগী। ‘ব্ল্যাক-আউটের পূর্ণিমায়’ কবিতাতেও আক্রান্ত স্বদেশ নিজেই এক সাহসী যোদ্ধা। কবি বলেছেন, আবাল্য নির্বিকার যে নিসর্গ, তা সুরক্ষিত দুর্গের মতো প্রতিরোধে সহায় হয়েছে। কবিতায় ঘাসের বিস্তার উদ্ধত তলোয়ারের মতো দীপ্তিমান, আর পূর্ণিমা ব্ল্যাক-আউট অমান্য করে বিদ্রোহী আলো ছড়ায়। দুই ক্ষেত্রেই প্রকৃতি প্রাকৃতিক কৌশলে যোদ্ধাদের জয়ী হতে সাহায্য করে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে অলঙ্ঘ্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাই উদ্দীপকের প্রকৃতির ভূমিকা কবিতার প্রধান ভাবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে কাশবন, কুয়াশা, শিশির ও মাটির গন্ধের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে সুন্দর চিত্রকল্প তৈরি হয়েছে এবং প্রকৃতির সহযোদ্ধা রূপ প্রতীকী ব্যঞ্জনা পেয়েছে। কিন্তু প্রতীকগুলোর অর্থ মূলত একমুখী, অর্থাৎ প্রকৃতির সহায়তা ও দেশের অনমনীয়তা। ‘ব্ল্যাক-আউটের পূর্ণিমায়’ কবিতায় কবি প্রতীক ও চিত্রকল্পের বহুমাত্রিক সমাহার ঘটিয়েছেন। ‘কনি আঙুল’ লড়াই ও নিরাপত্তার প্রতীক, ‘আঙটি’ কবির অভিজ্ঞান ও পরিচয়-চিহ্ন, ‘জেব্রা’ সৌন্দর্য, স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির প্রতীক, ‘জীবনানন্দের নরম শরীর’ বাংলার চিরায়ত কোমলতার ব্যঞ্জনা বহন করে এবং ‘বিদ্রোহী পূর্ণিমা’ প্রতিরোধের আলো। এর সঙ্গে ‘বলসে যাওয়া স্বজনের রক্তমাংসের ঘ্রাণ’ ও ‘মগজের কুণ্ডলীকৃত মেঘে পিস্তলের প্রোজ্জ্বল আদল’-এর মতো চিত্রকল্প পাঠকের ইন্দ্রিয়াতীত বোধকে জাগিয়ে তোলে। কবিতাটি অসমপর্ব বিশিষ্ট, অক্ষরবৃত্তের চালে গদ্যছন্দে রচিত, যা এর স্বাতন্ত্র্য আরও বাড়িয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকের প্রতীক ও চিত্রকল্প সুন্দর হলেও কবিতার ব্যঞ্জনার গভীরতা ও বহুমাত্রিকতা তাতে নেই।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও