ভূগোল ১ম পত্র • প্রাকৃতিক ভূগোল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
শর্মী হিমালয় অঞ্চল ভ্রমণে গিয়ে এক পাহাড়ের চূড়ার কাছে আরামকেদারার মতো গোলাকার একটি খাঁজ (A) দেখল। মূল উপত্যকার ওপরে ঝুলে থাকা একটি শাখা উপত্যকা (B) তার চোখে পড়ল। আবার নিচের সমভূমিতে উল্টানো চামচের মতো কয়েকটি ছোট টিলা (C) এবং সাপের মতো আঁকাবাঁকা লম্বা বালু ও নুড়ির বাঁধ (D) দেখে সে বিস্মিত হলো। গাইড জানাল, এসব বরফের কার্যের ফল।
- ক)(1)
হিমবাহতত্ত্ব কী?
- খ)(2)
সার্ক বা কোরি বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের A, B, C ও D ভূমিরূপগুলোকে হিমবাহের ক্ষয়জাত ও সঞ্চয়জাত ভূমিরূপে ভাগ করে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রাকৃতিক ভূগোলে হিমবাহতত্ত্বকে ভূমিরূপবিদ্যা থেকে আলাদা শাখা হিসেবে বিবেচনা করা কি যুক্তিযুক্ত? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রাকৃতিক ভূগোলের যে শাখায় হিমবাহ, বরফখণ্ড, সামুদ্রিক শৈলশিরা এবং হিমবাহের ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপ নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে হিমবাহতত্ত্ব (Glaciology) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে পাহাড়ের উঁচু অংশে বরফ জমে থাকা স্থানটি ক্ষয় পেয়ে আরামকেদারার মতো যে গোলাকার বা অর্ধবৃত্তাকার গহ্বর সৃষ্টি হয়, তাকে সার্ক বা কোরি বলে। এর পেছনের ও দুই পাশের দেয়াল খাড়া এবং তলদেশ অনেকটা সমতল থাকে। এটি হিমবাহের ক্ষয়জাত একটি প্রধান ভূমিরূপ। সাধারণত সার্ক থেকেই হিমবাহ নিচের দিকে নামতে শুরু করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের A হলো সার্ক, B ঝুলন্ত উপত্যকা, C ড্রামলিন এবং D এসকার।
ক্ষয়জাত ভূমিরূপ: হিমবাহ চলার সময় নিচের শিলা ও মাটি ক্ষয় করে যেসব ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, সেগুলো ক্ষয়জাত। উদ্দীপকের A (সার্ক) ও B (ঝুলন্ত উপত্যকা) এ ধরনের ভূমিরূপ। মূল হিমবাহ গভীর উপত্যকা কেটে ফেলায় তার শাখা উপত্যকা ওপরে ঝুলে থাকে, তাই একে ঝুলন্ত উপত্যকা বলে।
সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ: হিমবাহ বয়ে আনা শিলা, কাঁকর, বালু ও নুড়ি কোনো স্থানে জমা হয়ে যেসব ভূমিরূপ গঠিত হয়, সেগুলো সঞ্চয়জাত। উদ্দীপকের C (ড্রামলিন) উল্টানো চামচ বা নৌকার মতো ছোট টিলা এবং D (এসকার) বরফগলা পানির স্রোতে জমা হওয়া সর্পিল বালু-নুড়ির বাঁধ। এ দুটি সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ।
অতএব A ও B ক্ষয়জাত এবং C ও D সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রাকৃতিক ভূগোলের বিষয়বস্তুর আটটি শাখার মধ্যে ভূমিরূপবিদ্যা ও হিমবাহতত্ত্ব দুটি আলাদা শাখা হিসেবে স্বীকৃত। আমার মতে এই স্বীকৃতি যুক্তিযুক্ত, যদিও দুটি শাখার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। নিচে যুক্তি দেওয়া হলো।
১. সম্পর্ক: ভূমিরূপবিদ্যা ভূতকের বিভিন্ন ভূমিরূপের উৎপত্তি, গঠন ও বিন্যাস এবং নদী, বায়ু প্রভৃতি শক্তির কার্য নিয়ে আলোচনা করে। হিমবাহতত্ত্ব ভূতক গঠনকারী আরেকটি শক্তি, হিমবাহের কার্য নিয়ে আলোচনা করে। উদ্দীপকের সার্ক, ঝুলন্ত উপত্যকা, ড্রামলিন ও এসকার একই সঙ্গে ভূমিরূপ এবং হিমবাহের কার্যের ফল।
২. পরিবর্তনশীলতার ব্যাখ্যা: ভূমিরূপবিদ্যা ভূমিরূপের পরিবর্তনশীলতা ব্যাখ্যা করে। হিমবাহতত্ত্ব দেখায় যে বরফের ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্যে ভূপৃষ্ঠ কীভাবে বদলায়। উদ্দীপকে পাহাড়ের চূড়ার সার্ক থেকে নিচের সমভূমির ড্রামলিন পর্যন্ত বদলে যাওয়া ভূদৃশ্য এর প্রমাণ।
৩. পরিধির পার্থক্য: ভূমিরূপবিদ্যা প্লেট সঞ্চালন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি, সুনামি, শিলা ও খনিজসহ বহু বিষয় আলোচনা করে এবং এর পরিধি বড়। হিমবাহতত্ত্ব কেবল বরফজনিত শক্তি ও তার সৃষ্ট ভূমিরূপে সীমাবদ্ধ।
সুতরাং দুটি শাখা পরস্পর পরিপূরক হলেও আলোচ্য শক্তি ও পরিধির ভিন্নতার কারণে হিমবাহতত্ত্বকে আলাদা শাখা হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও