পদার্থ বিজ্ঞান • ভৌত রাশি এবং তাদের পরিমাপ

পদার্থ বিজ্ঞান প্রশ্ন

দশম শ্রেণির ছাত্র তানভীর একটি বইয়ে এক বাঙালি বিজ্ঞানীর কথা পড়ল। তিনি বৈদ্যুতিক তার ছাড়াই দূরে সংকেত পাঠিয়ে দেখিয়েছিলেন এবং সংকেত শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেছিলেন। এই আবিষ্কার পেটেন্ট করে লাভ করার সুযোগ থাকলেও তিনি তা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। পরে তিনি গাছপালার ওপর গবেষণা করে একটি যন্ত্রও আবিষ্কার করেন।

  1. ক)

    বসু বিজ্ঞান মন্দির কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    জগদীশচন্দ্র বসুকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত যন্ত্রটির নাম কী এবং এটি দিয়ে বিজ্ঞানী কোন ধারণা পরিবর্তন করেছিলেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিজ্ঞানী আবিষ্কারটি পেটেন্ট না করে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন—তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিজ্ঞান ও মানবসভ্যতার জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ১৯১৭ সালে কলকাতায় বসু বিজ্ঞান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জগদীশচন্দ্র বসু ১৮৯৫ সালে প্রথমবারের মতো বেতারে দূরবর্তী স্থানে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে দেখান। তিনি মাইক্রোওয়েভ গবেষণায়ও অবদান রাখেন এবং বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় ৫ মিলিমিটারে নামিয়ে আনেন। এছাড়া রেডিও সংকেত শনাক্ত করতে তিনি অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহার করেন। এসব অবদানের জন্য IEEE তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লেখিত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু এবং যন্ত্রটি হলো ক্রেস্কোগ্রাফ। এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করতে এবং খুব সূক্ষ্ম নড়াচড়া শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

    আগে ধারণা করা হতো যে বিভিন্ন উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক। জগদীশচন্দ্র বসু গবেষণা করে দেখান যে উদ্ভিদের এই সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি আসলে বৈদ্যুতিক। এভাবে তিনি উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের পুরনো ধারণা বদলে দেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু। তিনি রেডিও সংকেত শনাক্ত করার জন্য অর্ধপরিবাহী জংশন ব্যবহারের আবিষ্কারটি পেটেন্ট করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেননি, বরং সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

    এই সিদ্ধান্তের ফলে যে কেউ এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও কাজ করার সুযোগ পায়। এতে বিজ্ঞানের জ্ঞান সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং রেডিও ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ সহজ হয়। অর্ধপরিবাহী নিয়ে গবেষণা পরে ইলেকট্রনিকসের ভিত্তি তৈরি করেছে, যা বর্তমান সভ্যতার ভিত্তিমূল।

    উপমহাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এই বিজ্ঞানী ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে জ্ঞানের বিস্তারকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যা বিজ্ঞানীর আদর্শ হিসেবে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। IEEE তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা তাঁর কাজের গুরুত্ব প্রমাণ করে।

    সুতরাং, তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও মানবসভ্যতার কল্যাণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও