তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন

বান্দরবানের প্রত্যন্ত একটি পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দা কাজল চাকমার মেয়ে জ্বরে ভুগছিল। নিকটস্থ হাসপাতাল ঘণ্টার পর ঘণ্টা দূরে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেয়েটিকে দেখলেন এবং পরীক্ষার রিপোর্ট ই-মেইলে পাঠাতে বললেন। পরে মেয়েটির সকল রিপোর্ট ও ব্যবস্থাপত্র একটি অনলাইন ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হলো।

  1. ক)

    EHR এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    টেলিমেডিসিন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শেষ ঘটনাটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কোন চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের গ্রামটিতে এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকলে কাজল চাকমার পরিবারকে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো? তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর EHR এর পূর্ণরূপ Electronic Health Record।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী রোগীদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা সেবা দেওয়াকে টেলিমেডিসিন বলে। এর মূল কথা হলো তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। টেলিফোন, ভিডিও কনফারেন্স ও ই-মেইলের মাধ্যমে রোগীর পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করে রোগ নির্ণয় ও পরামর্শ প্রদান এর অন্তর্ভুক্ত। দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ ঘটনায় মেয়েটির সকল রিপোর্ট ও ব্যবস্থাপত্র অনলাইন ডেটাবেজে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে, যা ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড (EHR) ব্যবস্থাপনার সাথে সংগতিপূর্ণ।
    EHR ব্যবস্থাপনায় ডেটাবেজে রোগীর সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকে। রোগী তার EHR ব্যবহার করে যেকোনো স্থান থেকে রোগ সম্পর্কিত তথ্য, রিপোর্ট ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র পেতে পারেন। এ কাজে Therapy Notes, Epic care, Next Gen Ambulatory EHR, Care 360 ইত্যাদি সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়। ফলে ভবিষ্যতে কাজলের মেয়ে যেকোনো চিকিৎসকের কাছে গেলে পূর্বের সকল তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে এবং সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের গ্রামটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এমন অঞ্চলে হাসপাতাল, চিকিৎসা সুবিধা ও ভালো যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায়ই থাকে না। টেলিমেডিসিন ও EHR ব্যবস্থা না থাকলে কাজলের পরিবারকে নিম্নোক্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো:
    ১. অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে বহু ঘণ্টা বা কয়েক দিন ভ্রমণ করে হাসপাতালে যেতে হতো, ফলে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হতো।
    ২. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়া যেত না, ফলে সঠিক রোগ নির্ণয় কঠিন হতো।
    ৩. ভ্রমণ ও চিকিৎসার ব্যয় বেশি হতো, যা দরিদ্র পরিবারের জন্য বোঝা হতো।
    ৪. রিপোর্ট ও ব্যবস্থাপত্র কাগজে থাকলে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত।
    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এসব সমস্যার সমাধান করেছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকার বিশেষজ্ঞ ঘরের কাছেই চিকিৎসা দিতে পেরেছেন এবং ই-মেইলে রিপোর্ট দেখে রোগ নির্ণয় সহজ হয়েছে। EHR এর মাধ্যমে রোগীর তথ্য সংরক্ষিত ও যেকোনো স্থান থেকে সহজলভ্য হয়েছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে সূক্ষ্মভাবে রোগ নির্ণয়ও সম্ভব হচ্ছে।
    অতএব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সময়, অর্থ ও জীবনের ঝুঁকি কমিয়ে দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও