তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
‘গ্রিন টেক’ কোম্পানির একটি শাখা ট্যানারির বর্জ্যকে ন্যানো পার্টিকেলের সাহায্যে অক্ষতিকর বস্তুতে রূপান্তর করে নদীতে ফেলে। কোম্পানির দ্বিতীয় শাখা একটি বড় আকারের ধাতব খণ্ডকে ভেঙে ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে, আর তৃতীয় শাখা ক্ষুদ্র আণবিক উপাদান জুড়ে জুড়ে ধীরে ধীরে বড় বস্তু তৈরি করে। তাদের উৎপাদিত সানস্ক্রিনে জিঙ্ক অক্সাইডের ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহৃত হয়।
- ক)(1)
এক ন্যানোমিটার কত মিটার?
- খ)(2)
ন্যানো পার্টিকেল রাসায়নিকভাবে অনেক বেশি ক্রিয়াশীল হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোম্পানির দ্বিতীয় ও তৃতীয় শাখায় ন্যানো প্রযুক্তির যে দুটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে তা চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
গ্রিন টেক কোম্পানির কার্যক্রমে ন্যানো প্রযুক্তির উপকারিতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এক ন্যানোমিটার মিটার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ন্যানো পার্টিকেলের আকার ১ থেকে ১০০ ন্যানোমিটার, অর্থাৎ অত্যন্ত ক্ষুদ্র। এই ক্ষুদ্র আকারের কারণে এর আয়তনের তুলনায় পৃষ্ঠদেশের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। পৃষ্ঠদেশ বেশি হওয়ায় বিক্রিয়ার জন্য অধিক সংখ্যক পরমাণু বা অণু উন্মুক্ত থাকে। তাই ন্যানো পার্টিকেল রাসায়নিকভাবে অনেক বেশি ক্রিয়াশীল হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ন্যানো প্রযুক্তি দুটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়: বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র (Top Down) এবং ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ (Bottom Up)।
দ্বিতীয় শাখা: এখানে বড় আকারের ধাতব খণ্ডকে ভেঙে ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করা হচ্ছে। একটু বড় আকৃতির বস্তু থেকে শুরু করে ভেঙে ছোট করে ক্ষুদ্রাকৃতিতে আনা হয় বলে এটি বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র (Top Down) পদ্ধতি।
তৃতীয় শাখা: এখানে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আণবিক উপাদান থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় বস্তু তৈরি করা হচ্ছে। তাই এটি ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ (Bottom Up) পদ্ধতি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উপকারিতা: ১. পরিবেশ রক্ষা: ট্যানারির ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য ন্যানো পার্টিকেলের মাধ্যমে অক্ষতিকর বস্তুতে রূপান্তর করে নদীর পানিদূষণ রোধ করা যায়। একইভাবে কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়াও দূষণমুক্ত করা সম্ভব।
২. প্রসাধন শিল্প: সানস্ক্রিনে জিঙ্ক অক্সাইডের ন্যানো পার্টিকেল ব্যবহারে ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে।
৩. কার্যকর পণ্য: ন্যানো প্রযুক্তিতে তৈরি পণ্য আকারে ছোট হলেও মজবুত, হালকা, টেকসই ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়।
ঝুঁকি: ১. ন্যানো পার্টিকেল দিয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরি করা যেতে পারে।
২. এর অপব্যবহার ও কালোবাজারির আশঙ্কা রয়েছে।
৩. মানবদেহের কোষের গঠন পরিবর্তন বা কোষ ধ্বংস করে ফেলার মতো ক্ষতিকর প্রভাব এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।
মূল্যায়ন: পরিবেশ রক্ষা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষায় ন্যানো প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং কোম্পানির কার্যক্রম সমাজের জন্য কল্যাণকর। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে সতর্কতার সাথে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও