‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

তিনটি দেশের চিত্র: দেশ 'ক'-এ নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা, সংগঠন করা ও রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার সম্পূর্ণ স্বীকৃত। সরকার কোনো জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে। দেশ 'খ'-তে একটিমাত্র দল ক্ষমতায় আছে, সব প্রচারমাধ্যম রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এবং দলের আদর্শের বিরোধী যেকোনো মতকে কঠোরভাবে দমন করা হয়। দেশ 'গ'-তে শাসক গোষ্ঠী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সরকারবিরোধী সব দলকে দমন করে কেবল নিজেদের মতকে জনমত বলে প্রচার করে।

  1. ক)

    কোন দার্শনিক সর্বপ্রথম 'জনমত' কথাটি রাজনৈতিক অর্থে প্রয়োগ করেন?

    (1)
  2. খ)

    ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় জনমতের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'গ' দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনমতের ভূমিকা কেমন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জনমতের ভূমিকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফরাসি দার্শনিক রুশো সর্বপ্রথম 'জনমত' কথাটি রাজনৈতিক অর্থে প্রয়োগ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এমনকি পারিবারিক জীবনের ওপরও রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকে। এখানে শুধু সরকারি কর্তৃপক্ষের মতামতকে সব প্রচারমাধ্যমে একতরফাভাবে প্রচার করা হয়। সরকারবিরোধী যেকোনো মত কঠোর হাতে দমন করা হয়। ফলে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পায় না, তাই এ ব্যবস্থায় জনমতের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'গ' দেশে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। এ ব্যবস্থায় কঠোর হাতে সরকারবিরোধী সব মত ও দলকে দমন করে একাধিপত্য কায়েম করা হয়। এখানে সংখ্যালঘু ক্ষমতাসীনদের মতকেই জনমত হিসেবে প্রচার করা হয়। শাসকরা রাজনৈতিক সংহতি ও আনুগত্য লাভের জন্য বলপ্রয়োগের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়, ফলে সরকারবিরোধী প্রকৃত জনমত সহজে আত্মপ্রকাশ করতে পারে না। উদ্দীপকের 'গ' দেশেও বলপ্রয়োগে বিরোধী দল দমন করে শুধু শাসকদের মতকে জনমত বলে চালানো হচ্ছে। সুতরাং এ দেশে জনমতের ভূমিকা অত্যন্ত সীমিত বা প্রায় অকার্যকর।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'ক' দেশে উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং 'খ' দেশে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। উভয় ব্যবস্থায় জনমতের ভূমিকা তুলনা করা হলো। ১. মত প্রকাশের স্বাধীনতা: উদারনৈতিক গণতন্ত্রে বাক-স্বাধীনতা, সভা-সমিতি, দল গঠন ও ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার সবার জন্য উন্মুক্ত, তাই জনগণ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে। সমাজতন্ত্রে একটিমাত্র দল থাকায় মত প্রকাশের এমন স্বাধীনতা থাকে না। ২. প্রচারমাধ্যম: 'ক' দেশে প্রচারমাধ্যম মুক্ত, ফলে বিভিন্ন মত প্রকাশ পায়। 'খ' দেশে প্রচারমাধ্যম রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত, তাই জনমতের স্বাধীন আত্মপ্রকাশ সম্ভব হয় না। ৩. সরকারের ওপর প্রভাব: 'ক' দেশে সরকার জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে এবং সরকার জনমতকে উপেক্ষা করতে পারে না। 'খ' দেশে কমিউনিস্ট পার্টির অনিয়ন্ত্রিত নিয়ন্ত্রণে জনমত সরকারকে প্রভাবিত করতে পারে না। ৪. বিরোধী মতের অবস্থান: গণতন্ত্রে বিরোধী মত সহ্য করা হয়, সমাজতন্ত্রে কমিউনিস্ট আদর্শের বিরোধী সব মত ও দলকে কঠোরভাবে উৎখাত করা হয়। উপসংহার: সুতরাং 'ক' দেশে জনমত সক্রিয় ও কার্যকর এবং সরকারকে গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করে, অন্যদিকে 'খ' দেশে জনমতের ভূমিকা সীমিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও