বাংলা ১ম পত্র • জীবন বিনিময়
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বিদেশে শ্রমিকের কাজ করতেন আনোয়ার সাহেব। নিজে সামান্য খেয়ে, ছেঁড়া জামা পরে মাসের পর মাস তিনি টাকা পাঠিয়েছেন ছেলে ফাহিমের পড়াশোনার জন্য। একদিন কাজের মাঝে অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান, আর ফাহিমকে দেখে যেতে পারেননি। বছর কয়েক পর ফাহিম ডাক্তার হয়ে গ্রামের গরিব রোগীদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেয়। সবাই বলে, “আনোয়ার সাহেব মরেননি, ছেলের কাজের মধ্যে বেঁচে আছেন।”
- ক)(1)
দরবেশ বাবরের কাছে কী দান করতে বলেছিলেন?
- খ)(2)
“তিমির রাতের তোরণে তোরণে উষার পূর্বাভাস”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
আনোয়ার সাহেবের চরিত্রে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবরের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“মরিয়া বাবর অমর হয়েছে, নাহি তার কোন ক্ষয়”—উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেবের পরিণতির আলোকে উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দরবেশ বাবরকে তাঁর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন দান করতে বলেছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভোরের আগমন যেমন অন্ধকার রাতের অবসান ঘোষণা করে, তেমনি এখানে হুমায়ুনের মুমূর্ষু অবস্থাকে তিমির রাত বলা হয়েছে। বাবরের প্রার্থনা কবুল হওয়ার পর হুমায়ুনের রোগমুক্তির লক্ষণ দেখা দেয়। এই লক্ষণকে কবি ঊষার পূর্বাভাস বলেছেন। অর্থাৎ নিরাশার মধ্যে আশার আলো ফুটে ওঠার কথা বোঝানো হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আনোয়ার সাহেবের চরিত্রে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবরের সন্তানের জন্য আত্মত্যাগী পিতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কবিতায় বাবর পুত্র হুমায়ুনের জীবনের বিনিময়ে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়েছেন। তিনি সবচেয়ে প্রিয় ধন, নিজের প্রাণ, আল্লাহর কাছে দান করে পুত্রের প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছেন। উদ্দীপকে আনোয়ার সাহেব নিজে সামান্য খেয়ে ও ছেঁড়া জামা পরে ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে দেখার সুযোগ না পেয়েও তিনি পরিশ্রম থামাননি। দুজনই সন্তানের মঙ্গলের জন্য নিজের সুখ ও জীবনকে তুচ্ছ করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। কবিতায় বাবর পুত্রের জীবনের বিনিময়ে নিজের প্রাণ দান করেন। সেদিন থেকে বাবর রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, আর হুমায়ুন সুস্থ হয়ে নতুন জীবন পান। তবু কবি বলেছেন, বাবর মরেননি; পিতৃস্নেহের কাছে মৃত্যুর পরাজয় হয়েছে। ১. ত্যাগের অমরত্ব: বাবরের শারীরিক মৃত্যু হলেও তাঁর মহান ত্যাগ মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে। ২. উদ্দীপকের মিল: আনোয়ার সাহেব বিদেশে মারা গেলেও তাঁর কষ্টের ফসল ফাহিম ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করে। গ্রামের মানুষ বলে, তিনি ছেলের কাজের মধ্যে বেঁচে আছেন। ৩. পার্থক্য: বাবর সরাসরি প্রাণের বিনিময় চেয়েছেন, আনোয়ার সাহেব সংসারের কষ্টে ক্ষয় হয়ে মারা গেছেন; কিন্তু দুজনের মূলে একই পিতৃস্নেহ। ৪. মৃত্যুর পরাজয়: দুই ক্ষেত্রেই সন্তানের মধ্য দিয়ে পিতার স্নেহ ও আদর্শ টিকে থাকে, ফলে মৃত্যু পরাজিত হয়। সুতরাং উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও