সাহিত্য পাঠ • সৌদামিনী মালো
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আজিজ সাহেবের জমি সংক্রান্ত মামলার তদ্বির করেন তাঁর বন্ধু উকিল মনসুর। একদিন মনসুর তাঁকে জোর করে আদালতের পেছনের মাঠে একটি জটলার দিকে টেনে নিয়ে গেলেন। আজিজ সাহেবের যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু মামলার ভরসায় রাজি হতেই হলো। জটলার মাঝে এক লোককে দেখে মনসুর বললেন, ‘একে আমি আদালতে দেখেছি। এর পুরো কাহিনি তোমাকে সন্ধ্যায় শোনাব।’ আজিজ সাহেব সন্ধ্যার অপেক্ষায় রইলেন।
- ক)(1)
‘হায়েস্ট বিডার’ বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
“অগত্যা মোগলের সাথে খানা খেতে হয়”—বাক্যবন্ধটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আজিজ সাহেবের অবস্থা ‘সোদামিনী মালো’ গল্পের কথকের কোন পরিস্থিতিকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“গল্পের কাঠামো নির্মাণে নাসির মোল্লা চরিত্রটি অপরিহার্য।”—উদ্দীপকের মনসুরের ভূমিকার সঙ্গে তুলনা করে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘হায়েস্ট বিডার’ বলতে নিলামে যিনি সবচেয়ে বেশি দাম হাঁকেন তাঁকে বোঝায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘অগত্যা মোগলের সাথে খানা খেতে হয়’ বাক্যবন্ধটি ‘পড়েছি মোগলের হাতে খানা খেতে হবে সাথে’ প্রবাদ অনুসরণে রচিত। এর অর্থ বাধ্য হয়ে নতি স্বীকার করা, অর্থাৎ পরিস্থিতির চাপে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্মতি দেওয়া। গল্পের কথক আদালতের পেছনে যেতে চাননি। কিন্তু মামলার তদ্বির নাসির মোল্লাই করে বলে তাকে অসন্তুষ্ট করা যায় না। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি নাসিরের সঙ্গে যেতে বাধ্য হন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আজিজ সাহেবের অবস্থা গল্পের কথকের নাসির মোল্লার অনুরোধে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আদালতের পেছনে যাওয়ার পরিস্থিতিকে মনে করিয়ে দেয়। গল্পের কথকের তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল এবং টিলার ধাপ বেয়ে নেমে আবার ওঠা তাঁর কাছে কষ্টকর ছিল। কিন্তু তাঁর খাজনা-সংক্রান্ত মামলায় তদ্বির-পরামর্শ নাসিরই করে, তাই তিনি তাঁর অনুরোধ এড়াতে পারেননি। উদ্দীপকের আজিজ সাহেবও মামলার ভরসায় বন্ধু মনসুরের সঙ্গে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দুজনেরই সম্মতি স্বেচ্ছায় নয়, বরং নির্ভরতার চাপে। ‘মোগলের সাথে খানা খেতে হয়’ বাক্যবন্ধটিই এ অবস্থাকে প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সোদামিনী মালো’ গল্পের কাঠামো নির্মাণে নাসির মোল্লা সত্যিই অপরিহার্য। গল্পের সূচনায় সে কথককে নিয়ে আদালতের পেছনে নিলামস্থলে যায় এবং ব্রাদার জনকে চিনিয়ে দেয়। নাসির আগে ব্রাদার জনের কেরোসিন ব্ল্যাকমার্কেটের মামলায় বিচারক ছিলেন, তাই তাকে খুব ভালোভাবে চেনে। নিলামের ঘটনা দেখে কথকের কৌতূহল জাগলে নাসির বলে, সন্ধ্যায় সে সোদামিনী মালো ও ব্রাদার জনের পুরো উপাখ্যান বলবে। তারপর নাসিরের মুখ দিয়েই জগদীশ, মনোরঞ্জন, হরিদাস ও সোদামিনীর কাহিনি উন্মোচিত হয়। অর্থাৎ নাসিরের বর্ণনার মধ্য দিয়েই গল্পের মূল কাহিনি পাঠকের কাছে পৌঁছায়। উদ্দীপকে মনসুরও নিলামস্থলে এক লোককে চিনিয়ে সন্ধ্যায় তার কাহিনি শোনানোর কথা বলেন, যা নাসিরের ভূমিকার সঙ্গে মিলে যায়। তবে নাসিরের ভূমিকা কেবল তথ্য দেওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়; তার ব্যঙ্গ ও মন্তব্যে ব্রিটিশ মিশনারি ও সমাজের ভণ্ডামি সম্পর্কে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ পায়। তাই নাসিরকে বাদ দিলে গল্পের কাঠামো ও বক্তব্য দুটিই অসম্পূর্ণ থাকত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও