পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'ঘ' দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে প্রায়ই হরতাল, অবরোধ ও জ্বালাও-পোড়াও চলে। একই সঙ্গে ক্ষমতার হিসাব-নিকাশে রাজনীতিকদের দল ছাড়া, নতুন দল গঠন এবং জোট তৈরি ও ভাঙার ঘটনা চোখে পড়ে। দেশটিতে একবার সামরিক শাসক ক্ষমতা দখল করলে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনে। তবু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব রয়ে গেছে।
- ক)(1)
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
- খ)(2)
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ধর্মের প্রভাব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোন কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'ঘ' দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কি মিশ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলা যায়? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সকলেই ধর্মকে সমীহ করে চলে। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম হওয়ায় ইসলাম ধর্ম রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের নির্ধারক শক্তি হিসেবে কাজ করে। ধর্মনিরপেক্ষ বা বামপন্থী দলগুলোও ধর্মের প্রতি দুর্বল। আবার কোনো কোনো দল বা গোষ্ঠী ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। একেই ধর্মের প্রভাব বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। ১. সহিংসতা: বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আলোচনার টেবিলে না হয়ে রাজপথে খোঁজা হয়, ফলে জ্বালাও-পোড়াও ও সংঘাত চলতে থাকে। উদ্দীপকের হরতাল, অবরোধ ও জ্বালাও-পোড়াও এই বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন। ২. জোট গঠনের প্রবণতা: রাজনীতিকদের দল ত্যাগ, নতুন দল গঠন, নতুন দলে যোগদান এবং জোট গঠন ও ভাঙন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিদ্যমান। উদ্দীপকে দল ছাড়া ও জোট তৈরি-ভাঙার বিষয়টি তাই প্রতিফলিত। ৩. সহনশীলতার অভাব: দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার অভাব উদ্দীপকে সরাসরি উল্লেখ আছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও বৈশিষ্ট্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'ঘ' দেশের চিত্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মিশ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলা হয়, কারণ এখানে বিপরীতধর্মী উপাদানের সহাবস্থান রয়েছে। ১. সংকীর্ণ বা অধীন সংস্কৃতির উপাদান: বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংকীর্ণ বা অধীন সংস্কৃতির উপাদান লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকেও সহিংসতা, দলত্যাগ, সহনশীলতার অভাব রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দুর্বলতা নির্দেশ করে। ২. জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ: বাংলাদেশের জনগণ রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় নয়, তারা সচেতন এবং অংশগ্রহণ করে। উদ্দীপকে সামরিক শাসক ক্ষমতা দখল করলে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনে, যা সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ। ৩. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাব: বাংলাদেশের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক হলেও দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রচর্চা, পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মনোভাব গড়ে ওঠেনি; উদ্দীপকেও একই চিত্র দেখা যায়। উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, একদিকে সহিংসতা ও অসহনশীলতা এবং অন্যদিকে জনগণের সচেতন গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ—এই দুই বিপরীত বৈশিষ্ট্যের সহাবস্থানের কারণে 'ঘ' দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মিশ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলা যুক্তিসংগত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিও একইভাবে মিশ্র প্রকৃতির।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও