সাহিত্য পাঠ • গহন কোন বনের ধারে

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মোস্তাফা সাহেবের বাড়ির পেছনে একটি বিশাল তেঁতুলগাছ বহু আগে মরে গেছে। ডালপালা খসে পড়লেও তার কোটরে শালিক, বুলবুলি ও দোয়েল বাসা বাঁধে। তাঁর ছেলে রাশেদ গাছটি কেটে জ্বালানি ও আসবাব বানাতে চাইলে তিনি রাজি হলেন না। তিনি বললেন, এই পাখিরা ক্ষেতের পোকামাকড় খেয়ে ফসল বাঁচায়, গাছটি তাদের ঘরবাড়ি। রাশেদ কথাটা ফেলতে পারল না।

  1. ক)

    শোভা বুড়ো জাতিগতভাবে কোন গোষ্ঠীর মানুষ ছিল?

    (1)
  2. খ)

    মরা গাছটি কেটে ফেলার প্রস্তাবে শোভা বুড়ো অমত জানিয়েছিল কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মোস্তাফা সাহেবের যুক্তির সঙ্গে 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার শোভা বুড়োর যুক্তির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে শোভা বুড়োর প্রকৃতিচেতনার সবটুকু প্রকাশ পায়নি।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শোভা বুড়ো জাতিগতভাবে কোল-ভিল-সাঁওতাল ধরনের কোনো একটি গোষ্ঠীর মানুষ ছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শোভা বুড়ো জানত যে মরা গাছটি নানা জাতের পাখপাখালির ঘরসংসার। গাছের খোঁড়লে ময়না বাসা বাঁধত। সে বুঝত, এসব পাখি ফসলের পোকামাকড়, ইঁদুর এমনকি সাপও খায় এবং তাতে মানুষের উপকার হয়। পাখির আশ্রয় নষ্ট হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হবে, এই ভাবনা থেকেই সে গাছ কাটার প্রস্তাবে অমত জানিয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মোস্তাফা সাহেবের যুক্তির সঙ্গে শোভা বুড়োর যুক্তির সাদৃশ্য রয়েছে পাখির আশ্রয় রক্ষা এবং পাখির উপকারী ভূমিকা স্বীকারের ক্ষেত্রে। উদ্দীপকে মোস্তাফা সাহেব মরা তেঁতুলগাছটি কাটতে দেননি, কারণ তার কোটরে শালিক, বুলবুলি ও দোয়েল বাসা বাঁধে এবং তারা ক্ষেতের পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে। দ্বিজেন শর্মার রচনাতেও আমরা দেখি, ক্ষেতের কিনারে থাকা প্রকাণ্ড মরা গাছটির খোঁড়লে ময়না বাসা বাঁধত। গাছটি কেটে ফেলার প্রস্তাব এলে শোভা বুড়ো অমত জানায় এবং যুক্তি দেয়, গাছটি নানা জাতের পাখির ঘরসংসার; তারা ফসলের পোকামাকড়, ইঁদুর, এমনকি সাপও খায় এবং তাতে মানুষের উপকার হয়। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই মৃত গাছকে অকেজো না ভেবে পাখির আবাস ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উপায় হিসেবে দেখা হয়েছে। এ কারণেই মোস্তাফা সাহেবের যুক্তি শোভা বুড়োর যুক্তির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে কেবল মরা গাছ ও পাখির আশ্রয় রক্ষার দিকটি এসেছে, কিন্তু 'গহন কোন বনের ধারে' রচনায় শোভা বুড়োর প্রকৃতিচেতনা তার চেয়ে অনেক ব্যাপক ও গভীর। উদ্দীপকের মোস্তাফা সাহেব পাখির উপকারী ভূমিকার কথা ভেবে গাছ রক্ষা করেছেন। শোভা বুড়োর ক্ষেত্রেও গাছ না কাটার পেছনে এই যুক্তি ছিল। কিন্তু রচনায় তার প্রকৃতিপ্রেম আরও নানা রূপে প্রকাশ পেয়েছে। সে গাছ জড়িয়ে ধরে চোখ বুজে নিজেকে গাছের অংশ ভাবতে শেখাত, শুকনো পাতা দিয়ে গা ঢেকে মাটিতে মিশে যেতে বলত। শিস দিয়ে বুনো পাখিকে মাথায় ও হাতে বসাতে পারত। শঙ্খচূড় সাপকে সে দেবতা জ্ঞানে সম্মান করত। বড়দা সাপের জঙ্গলে আগুন লাগালে সে অসন্তুষ্ট হয়েছিল এবং বলেছিল, বনজঙ্গল জীবজন্তুরই রাজ্য, সেখানে মানুষের কোনো একতিয়ার নেই। এমনকি শিকারে অভ্যস্ত হলেও পরে মন্ত্র নিয়ে শিকার ছেড়ে দিয়েছিল। এসব দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং উদ্দীপকে শোভা বুড়োর প্রকৃতিচেতনার কেবল একটি অংশ প্রতিফলিত হয়েছে; সবটুকু নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও