বাংলা ১ম পত্র • মিছিল

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

জাদুঘর ঘুরে এসে নবম শ্রেণির ছাত্রী নাজিয়া খাতায় লিখল, “আমাদের পূর্বপুরুষেরা এমন সূক্ষ্ম কাপড় বুনতেন যা একটি আংটির ভেতর দিয়ে টেনে নেওয়া যেত। দেখলাম পুরোনো লাঙল, ধান ঝাড়ার কুলা আর নকশিকাঁথা। আমাদের দেশের কৃষক ও তাঁতির হাতের কাজ সত্যিই গর্ব করার মতো। এই গর্ব নিয়েই আমরা দেশকে গড়ব।”

  1. ক)

    ‘মিছিল’ কবিতায় কাদের আঙুলের কথা বলা হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    “কৃষি সভ্যতার স্মৃতি, সুপ্রাচীন মহান গৌরব”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    “কার্পাশের দুকূল, পত্রোর্ণ আর মিহি মসলিন”—চরণটির আলোকে নাজিয়ার জাদুঘরে দেখা ঐতিহ্যের যে দিক ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘মিছিল’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি”—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মিছিল’ কবিতায় তনু-দক্ষ শিল্পীদের আঙুলের কথা বলা হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলা অঞ্চল অতি প্রাচীনকাল থেকে কৃষিকাজে উন্নত ছিল। ক্ষেত, নদী ও ফসলকে ঘিরে এখানে এক সমৃদ্ধ কৃষিনির্ভর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। কবি এই সমৃদ্ধ অতীতকেই ‘কৃষি সভ্যতার স্মৃতি’ ও ‘সুপ্রাচীন মহান গৌরব’ বলেছেন। এই গৌরবের স্মৃতি আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে নাজিয়ার জাদুঘরে দেখা অতি সূক্ষ্ম কাপড়, লাঙল, কুলা ও নকশিকাঁথায় বাংলার বয়নশিল্প ও কৃষির ঐতিহ্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। ‘মিছিল’ কবিতার “কার্পাশের দুকূল, পত্রোর্ণ আর মিহি মসলিন” চরণে বাংলার বিখ্যাত বস্ত্রশিল্পের গৌরবের কথা বলা হয়েছে। মসলিন এতই মিহি ছিল যে তার খ্যাতি দেশের বাইরেও ছড়িয়েছিল। উদ্দীপকে আংটির ভেতর দিয়ে টেনে নেওয়ার মতো কাপড়ের উল্লেখে সেই মসলিনের ঐতিহ্যই প্রতিফলিত। আবার লাঙল ও কুলা কবিতার কৃষি সভ্যতার স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। এভাবে চরণটির আলোকে উদ্দীপকে শিল্প ও কৃষিনির্ভর গৌরবময় ঐতিহ্যের দিক ফুটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে নাজিয়া বাংলার তাঁতশিল্প ও কৃষির ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করেছে এবং সেই গর্ব নিয়ে দেশ গড়ার কথা বলেছে। এটি ‘মিছিল’ কবিতার ঐতিহ্যচেতনার একটি অংশকে ধারণ করেছে। ১. ঐতিহ্যের মিল: কবিতায় কৃষি সভ্যতার স্মৃতি, মিহি মসলিন ও শিল্পীর আঙুলের কথা আছে, যা উদ্দীপকের জাদুঘরের নিদর্শনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। ২. সংগ্রামের অনুপস্থিতি: কবিতায় বায়ান্নর শহিদ মিনার, গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের গেরিলা ও ত্রিশ লক্ষ শহিদের কথা আছে। উদ্দীপকে এসব সংগ্রামের ইতিহাসের কোনো উল্লেখ নেই। ৩. প্রতিবাদী সুরের অভাব: কবিতার মূল সুর ভীরুতা পুড়িয়ে স্লোগানে বিশ্ব কাঁপিয়ে শ্রেণিহীন পৃথিবীর দিকে এগিয়ে যাওয়া। উদ্দীপকে এই দ্রোহ ও সংঘবদ্ধ মিছিলের চেতনা নেই। সুতরাং উদ্দীপক কবিতার কেবল ঐতিহ্যচেতনার দিকটি ধারণ করেছে, সমগ্র ভাব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও