রসায়ন • পদার্থের অবস্থা (States of Matter)

রসায়ন প্রশ্ন

পরীক্ষাগারে সালফারের একটি নমুনা S-এর গলনাঙ্ক নির্ণয়ের সময় দেখা গেল নমুনাটি ১০৬°C-এ গলতে শুরু করে ১১২°C-এ সম্পূর্ণ গলে গেছে। বিশুদ্ধ সালফারের গলনাঙ্ক ১১৫°C। একই সময়ে পাশের টেবিলে একজন শিক্ষার্থী ইউরিয়া সারের গলনাঙ্ক নির্ণয় করছিল এবং আরেকজন শিক্ষার্থী মোমের গুঁড়ার গলনাঙ্ক নির্ণয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

  1. ক)

    গলনাঙ্ক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'ইউরিয়ার গলনাঙ্ক ১৩৩°C' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নমুনা S বিশুদ্ধ সালফার কি না? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় শিক্ষার্থী মোমের গলনাঙ্ক কীভাবে নির্ণয় করবে তা বর্ণনা করো এবং এখানে সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা না পেয়ে কেন একটি পরিসর পাওয়া যাবে তা নমুনা S-এর সাথে তুলনা করে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১.০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রয়োগের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, সেই তাপমাত্রাকে ঐ কঠিন পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর এর অর্থ হলো ১.০ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ইউরিয়াকে তাপ দিতে থাকলে ১৩৩°C তাপমাত্রায় এটি গলতে শুরু করে। ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রাতেই সকল কঠিন ইউরিয়া তরলে পরিণত হয়। এর চেয়ে কম তাপমাত্রায় ইউরিয়া কঠিন অবস্থায় থাকে। বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থের এই নির্দিষ্ট তাপমাত্রাই তার গলনাঙ্ক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রত্যেক বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ একটি নির্দিষ্ট গলনাঙ্কে গলে। বিশুদ্ধ সালফারের গলনাঙ্ক ১১৫°C, অর্থাৎ ১১৫°C-এ একসাথে গলার কথা।

    কিন্তু নমুনা S ১১৫°C-এর কম তাপমাত্রায় (১০৬°C) গলতে শুরু করেছে এবং একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় না গলে ১০৬°C থেকে ১১২°C এই পরিসরে গলেছে। অর্থাৎ এর কোনো নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক নেই এবং তা বিশুদ্ধ সালফারের গলনাঙ্কের চেয়ে কম। নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক ছাড়া অন্য তাপমাত্রায় বা তাপমাত্রার পরিসরে গললে ধরে নিতে হয় পদার্থটি বিশুদ্ধ নয়।

    অতএব, নমুনা S বিশুদ্ধ সালফার নয়; এতে ভেজাল মিশ্রিত আছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মোমের গলনাঙ্ক নির্ণয়ের পদ্ধতি:
    ১. প্রথমে মোমকে চূর্ণ করে গুঁড়ায় পরিণত করতে হবে।
    ২. গুঁড়া মোম একটি এক মুখ বন্ধ কাচনলে নিয়ে তাতে একটি থার্মোমিটার রাখতে হবে।
    ৩. কাচনলটি এমনভাবে বিকারের পানিতে ডুবাতে হবে যেন খোলা মুখে পানি না ঢোকে।
    ৪. বিকারে ধীরে ধীরে তাপ দিতে হবে এবং থার্মোমিটারে তাপমাত্রা লক্ষ করতে হবে।
    ৫. দেখা যাবে মোম কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় না গলে একটি তাপমাত্রা পরিসরে গলছে। এই পরিসরই মোমের গলনাঙ্ক।

    পরিসর পাওয়ার কারণ: মোম বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, অর্থাৎ এটি অবিশুদ্ধ পদার্থ। বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থেরই কেবল নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক থাকে। মিশ্র বা অবিশুদ্ধ পদার্থের সুনির্দিষ্ট গলনাঙ্ক থাকে না, ফলে তা একটি তাপমাত্রা পরিসরে গলে।

    নমুনা S-এর সাথে তুলনা: S-ও একটি পরিসরে (১০৬°C থেকে ১১২°C) গলেছে এবং তার গলনাঙ্ক বিশুদ্ধ সালফারের চেয়ে কম। মোমের মতোই এটিও অবিশুদ্ধ। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রেই গলনাঙ্কের পরিসর পাওয়া অবিশুদ্ধতার লক্ষণ, আর গলনাঙ্ক নির্ণয় করে কঠিন পদার্থের বিশুদ্ধতা যাচাই করা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও