জীববিজ্ঞান • জীবে পরিবহন
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
নার্স শাহীনা রোগী আমিনের হাতের কব্জিতে আঙুল রেখে প্রতি মিনিটের স্পন্দন গণনা করলেন। এরপর রক্ত সংগ্রহের জন্য তিনি আমিনের হাতের এমন একটি নালি বেছে নিলেন, যার প্রাচীর কম পুরু, নালিপথ চওড়া এবং যার মধ্যে কপাটিকা আছে।
- ক)(1)
নাড়িস্পন্দন কাকে বলে?
- খ)(2)
ফুসফুসীয় ধমনিকে ব্যতিক্রমধর্মী ধমনি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
শাহীনা যে নালিতে স্পন্দন গণনা করলেন, তার প্রাচীরের গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
রক্ত সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত নালিটি এবং কব্জির নালিটির মধ্যে গঠন ও কাজের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হৃৎপিণ্ডের প্রত্যেক সংকোচনের ফলে ধমনির ভেতর দিয়ে রক্ত তরঙ্গের মতো প্রবাহিত হলে ধমনিগাত্রের যে স্ফীতি ও সংকোচন ঘটে, তাকে নাড়িস্পন্দন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাধারণত ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে উচ্চমাত্রায় অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত সারা দেহে বহন করে। কিন্তু ফুসফুসীয় ধমনি ডান নিলয় থেকে উচ্চমাত্রায় কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ফুসফুসে পৌঁছে দেয়। ধমনি হওয়া সত্ত্বেও এটি অক্সিজেনবিহীন রক্ত বহন করে বলে একে ব্যতিক্রমধর্মী ধমনি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাতের কব্জিতে নাড়িস্পন্দন অনুভব করা যায় ধমনিতে। ধমনির প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক এবং তিনটি স্তরে গঠিত:
১. টিউনিকা এক্সটার্না: তন্তুময় যোজক টিস্যু দিয়ে তৈরি বাইরের স্তর।
২. টিউনিকা মিডিয়া: বৃত্তাকার অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে তৈরি মাঝের স্তর।
৩. টিউনিকা ইন্টার্না: সরল আবরণী টিস্যু দিয়ে তৈরি ভেতরের স্তর।
এর নালিপথ সরু এবং এতে কপাটিকা থাকে না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রক্ত সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত নালিটি হলো শিরা এবং কব্জির নালিটি হলো ধমনি। এদের মধ্যে পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রাচীর: ধমনির প্রাচীর পুরু, স্থিতিস্থাপক ও অধিক পেশিময়। শিরার প্রাচীর কম পুরু, কম স্থিতিস্থাপক ও কম পেশিময়, যদিও উভয়ের প্রাচীর তিন স্তরবিশিষ্ট।
২. নালিপথ: ধমনির নালিপথ সরু, শিরার নালিপথ তুলনায় চওড়া।
৩. কপাটিকা: ধমনিতে কপাটিকা থাকে না, শিরায় থাকে। এই কপাটিকা রক্তকে উল্টো দিকে ফিরতে দেয় না।
৪. রক্তপ্রবাহের দিক: ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে রক্ত নিয়ে যায়, আর শিরা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিণ্ডে রক্ত ফিরিয়ে আনে।
৫. রক্তের প্রকৃতি: ধমনি সাধারণত অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত বহন করে (ফুসফুসীয় ধমনি ব্যতিক্রম)। শিরা সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত বহন করে (ফুসফুসীয় শিরা ব্যতিক্রম)।
৬. স্পন্দন: ধমনিতে রক্ত তরঙ্গের মতো প্রবাহিত হয় বলে নাড়িস্পন্দন অনুভূত হয়, শিরায় হয় না।
এসব পার্থক্য তাদের কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও