বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
তেরো বছর বয়সী করিম পরিবারের অভাবের কারণে স্কুল ছেড়ে একটি ইটভাটায় দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করে। তার বাবা মালিকের সাথে লিখিত চুক্তি করেছেন যে করিম বছরখানেক ওই ভাটায় কাজ করবে। করিমের বন্ধু ষোলো বছর বয়সী জামাল একটি ওয়েল্ডিং কারখানায় রাত নয়টা পর্যন্ত কাজ করে। কারখানার মালিক তার জন্য কোনো ডাক্তারি সনদ সংগ্রহ করেননি।
- ক)(1)
বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী কিশোর শ্রমিকের স্বাভাবিক দৈনিক কাজের সময়সীমা কত ঘণ্টা?
- খ)(2)
বাংলাদেশে শিশুশ্রমের প্রধান কারণ অর্থনৈতিক দুরবস্থা কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শ্রম আইন ২০০৬-এর আলোকে করিমের ক্ষেত্রে কোন কোন বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের জামালের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের কোন বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে তা চিহ্নিত করো এবং শিশুশ্রম নিরসনে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী কিশোর শ্রমিকের স্বাভাবিক দৈনিক কাজের সময়সীমা ৫ ঘণ্টা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে অনেক পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। এসব পরিবারের বাবা-মা সন্তানের ভরণপোষণ মিটিয়ে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারেন না। ফলে তারা সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন এবং মনে করেন সন্তান কাজ করে আয় করলে পরিবারের উপকার হবে। নিয়োগকর্তারাও কম পারিশ্রমিকে শিশুদের দীর্ঘক্ষণ কাজে খাটাতে পারেন বলে তাদের নিয়োগ দিতে আগ্রহী হন। তাই অর্থনৈতিক দুরবস্থাই শিশুশ্রমের প্রধান কারণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬-এ শিশুর ন্যূনতম বয়স ১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে কাজে নিয়োগ করা যাবে না। এছাড়া শিশুর পিতামাতা বা অভিভাবক শিশুকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য কারও সাথে কোনো প্রকার চুক্তি করতে পারবেন না।
উদ্দীপকে করিমের বয়স তেরো বছর, অর্থাৎ ১৪ বছরের কম। তা সত্ত্বেও তাকে ইটভাটায় কাজে নিয়োগ করা হয়েছে, যা আইনের প্রথম বিধানের লঙ্ঘন। আবার করিমের বাবা মালিকের সাথে করিমের কাজ করার লিখিত চুক্তি করেছেন, যা অভিভাবকের চুক্তি করার নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন। সুতরাং করিমের ক্ষেত্রে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে নিয়োগ এবং অভিভাবকের চুক্তি সংক্রান্ত দুটি বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জামাল ষোলো বছর বয়সী, তাই শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী সে কিশোর শ্রমিক (১৪ থেকে ১৮ বছর)। আইনে কিশোর শ্রমিক নিয়োগ সম্পর্কে যেসব বিধান আছে, তার কয়েকটি এখানে লঙ্ঘিত হয়েছে।
১. কিশোর শ্রমিক নিয়োগের আগে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের কাছ থেকে মালিকের খরচে ফিটনেস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়। মালিক তা করেননি।
২. সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৭টা পর্যন্ত কোনো কিশোর শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। জামালকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়েছে, যা এ বিধানের লঙ্ঘন।
৩. এছাড়া আইনে কিশোর শ্রমিককে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক কাজ করানো নিষিদ্ধ। ওয়েল্ডিং কারখানার কাজ যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে এ বিধানও লঙ্ঘিত হবে।শিশুশ্রম নিরসনে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংবিধানে শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। শ্রম আইন ২০০৬-এ শিশু ও কিশোরদের নিয়োগের শর্ত নির্ধারিত হয়েছে। জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০-এ শিশুশ্রম প্রতিরোধে কৌশলগত ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ এবং সব ধরনের শিশুশ্রম বিলোপে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯-এ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে শিশুশ্রমের বয়স, কর্মঘণ্টা ও নিয়োগের শর্ত নির্ধারণ এবং শিশুর সুরক্ষা ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে এ সনদ অনুসমর্থন করেছে।তবে আইন থাকলেও তা প্রয়োগ না হলে জামালের মতো কিশোররা ঝুঁকিতেই থাকবে। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগ, অভিভাবকদের সচেতনতা ও দরিদ্র পরিবারের আর্থিক সহায়তা জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও