জীববিজ্ঞান • জীবনপাঠ
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
জাহিদ সাহেব একটি অনলাইন বইয়ের দোকান পরিচালনা করেন। আগে তাঁর গুদামে হাজার হাজার বই এলোমেলো পড়ে থাকত, ফলে কোনো বই খুঁজে পেতে অনেক সময় লাগত। পরে তিনি বইগুলোকে বিষয় অনুযায়ী ভাগ করে তাকে সাজিয়ে রাখলেন এবং প্রতিটি বইয়ের আলাদা নম্বর দিলেন। এখন তিনি অল্প সময়ে যেকোনো বই খুঁজে পান। তাঁর ছেলে জীববিজ্ঞানের ছাত্র সাব্বির বলল, “বাবা, জীবজগতের ক্ষেত্রেও আমরা এ কাজটিই করি।”
- ক)(1)
ট্যাক্সোনমি কাকে বলে?
- খ)(2)
জীবের শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজন হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জাহিদ সাহেবের কাজটির সাথে শ্রেণিবিন্যাসের কোন কোন উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাব্বিরের উক্তিটি যথার্থ— শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্যের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জীবজগতের বিশাল বৈচিত্র্যময় জীবকে স্বাভাবিক নিয়মে সাজিয়ে সহজে ও অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানার জন্য জীববিজ্ঞানের যে শাখা গড়ে উঠেছে, তাকে ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আজ পর্যন্ত উদ্ভিদের প্রায় চার লক্ষ এবং প্রাণীর প্রায় তেরো লক্ষ প্রজাতির বর্ণনা করা হয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন প্রজাতি যুক্ত হচ্ছে। এত অসংখ্য জীবকে বিন্যাস না করলে তাদের জানা, বোঝা ও শেখা কঠিন হয়ে পড়ে। শ্রেণিবিন্যাস করলে জীবজগতের এ বিশাল বৈচিত্র্যকে সহজভাবে, অল্প পরিশ্রমে ও অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা যায়। তাই শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজন হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাহিদ সাহেবের বই সাজানোর কাজটির সাথে শ্রেণিবিন্যাসের নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যগুলোর মিল রয়েছে। ১. দল ও উপদল সম্পর্কে জ্ঞান: জাহিদ সাহেব বইগুলোকে বিষয় অনুযায়ী দলে ভাগ করেছেন। শ্রেণিবিন্যাসেও প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা হয়। ২. শনাক্তকরণ ও নামকরণ: তিনি প্রতিটি বইয়ের আলাদা নম্বর দিয়েছেন, ফলে বই সহজে শনাক্ত করা যায়। শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমেও প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা হয়। ৩. সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন: সাজানো বই থেকে অল্প সময়ে তথ্য পাওয়া যায়; তেমনি শ্রেণিবিন্যাসে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাব্বিরের উক্তিটি যথার্থ। কারণ, গুদামের এলোমেলো বইকে সাজিয়ে সহজে খুঁজে পাওয়ার মতো জীবজগতের অসংখ্য জীবকে শ্রেণিবিন্যাস করে সহজে জানার ব্যবস্থা করা হয়। শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্যের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো। ১. জ্ঞান আহরণ ও সংরক্ষণ: শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা এবং জীবজগতের ভিন্নতার দিকে আলোকপাত করে সে জ্ঞান সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়, যেমন বই বিষয়ভিত্তিক সাজানোর ফলে তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ২. সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন: এর ফলে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা যায়। ৩. শনাক্তকরণ ও নামকরণ: প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে নামকরণ করা যায়, বইয়ে নম্বর দেওয়ার মতো। ৪. সংরক্ষণে সচেতনতা: মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবগুলোকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণে সচেতন হওয়া যায়, যা বইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় কিন্তু শ্রেণিবিন্যাসের বাড়তি তাৎপর্য। সুতরাং বই সাজানোর সাথে মিল থাকলেও শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য আরও ব্যাপক এবং সাব্বিরের কথা মূলত সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও