বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের স্বাধীনতা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

একটি দেশে সেনাপ্রধান নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন এবং বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দূর করার কথা বলেন। কিন্তু তাঁর শাসনামলে দুর্নীতি বহুগুণ বেড়ে যায় এবং সব নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ছাত্র-জনতা, শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন আন্দোলন চালায়। একসময় সামরিক বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগে অস্বীকৃতি জানালে সরকারের পতন ঘটে।

  1. ক)

    কোন সালে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার ফলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যায় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আন্দোলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনগুলো কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠায় যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিব সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন। এতে বহুদলীয় রাজনীতি ও বিরোধী মত প্রকাশের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জনগণ আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের যে প্রত্যাশা করেছিল তা পূরণ হয়নি। ফলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থেমে যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আন্দোলন বাংলাদেশের নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই আন্দোলনে রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনগুলো নিম্নরূপে সংগঠিত হয়।
    ১. ছাত্রসমাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাজপথে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলে। ২৪টি ছাত্রসংগঠন মিলে গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য।
    ২. রাজনৈতিক দলগুলো ধীরে ধীরে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন জোরদার করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট এবং বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়। পরে ১৫ দলীয় জোট ভেঙে ৫ দলীয় জোট হয় এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮ দলীয় জোট পুনর্গঠিত হয়।
    ৩. জামায়াতে ইসলামীসহ আরও কিছু দল আন্দোলনে শামিল হয়।
    এভাবে ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনে এরশাদ সরকার কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনা ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন ও নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে নির্দেশ করে। এরপর গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠায় যে পদক্ষেপ নেওয়া হয় তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
    পদক্ষেপ: এরশাদবিরোধী তিনটি রাজনৈতিক জোটের রূপরেখা অনুযায়ী তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের অধীনে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে।
    তাৎপর্য: প্রথমত, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অপেক্ষাকৃত সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ায় জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। তৃতীয়ত, ১৯৯০-এর অভ্যুত্থান আইনের শাসনভিত্তিক সরকারের জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটায়।
    তবে পরবর্তী সরকারগুলোর বিচ্যুতি ও সুশাসনের অভাবে আস্থাহীনতা আবার তৈরি হয়। তবু নব্বইয়ের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও