সাহিত্য পাঠ • গন্তব্য কাবুল
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
বান্দরবানের একটি পাহাড়ি সড়ক। দুধারে উঁচু পাহাড়, মাঝখানে আঁকাবাঁকা পথ। সেই পথ ধরে চলেছে নানা জাতির মানুষ, কারও মাথায় ঝুড়িতে কমলা-আনারস, কারও হাতে ধারালো দা, কারও কাঁধে রঙিন কাপড়ের ঝোলা। একটি অঞ্চলে সীমান্ত সংলগ্ন কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে সরকার প্রতি বছর নির্দিষ্ট অর্থ দেয়, যেন তারা সড়কে ডাকাতি না করে। কিন্তু সড়ক ছেড়ে দুপাশের জঙ্গলে নামলে বিপদ হতে পারে, এমন সতর্কবার্তা সবাই জানে।
- ক)(1)
খাইবার পাসের দুদিকে কত উঁচু পাহাড়?
- খ)(2)
“এদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে”- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় খাইবার পাসের পণ্যবাহিনীর যে বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে, উদ্দীপকের সঙ্গে তুলনা করে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের ব্যবস্থা এবং রচনায় ইংরেজদের ব্যবস্থা পথিকের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়।”- যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর খাইবার পাসের দুদিকে হাজার ফুট উঁচু পাথরের নেড়া পাহাড়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর খাইবার পাসে লেখক দেখলেন, ভীষণ গরমের মধ্যে পুশিন ব্যবসায়ীরা দুই পুরু লোমওয়ালা চামড়ার ওভারকোট গায়ে দিয়ে চলেছেন। এর রহস্য জানতে চাইলে সর্দারজি বলেন, এদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে, তাই এই জামা তাদের কাছে আরামদায়ক। এতে বাইরের গরম ভেতরে ঢুকতে পারে না, শরীর ঠান্ডা থাকে। অর্থাৎ কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের অভ্যাসে মানুষ কঠিন পরিবেশেও সহজে মানিয়ে নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে পাহাড়ি পথে নানা জাতির মানুষের নানা ধরনের জিনিসপত্রসহ চলাচলের চিত্র আছে, যার সঙ্গে ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় খাইবার পাসের পণ্যবাহিনীর বৈচিত্র্যময় ছবির মিল আছে।
খাইবার পাসের দুটি রাস্তার একটি মোটরের জন্য, আরেকটি উট, খচ্চর, গাধা ও ঘোড়ার ক্যারাভানের জন্য। এখানে কত দেশের কত রকম লোক চলেছে। কত ঢঙের টুপি, কত রঙের পাগড়ি, কত যুগের অস্ত্র, যেমন গাদাবন্দুক থেকে আধুনিকতম জার্মান মাউজার, দামেস্কের তলোয়ার, বর্শা কিংবা পেতলে বাঁধানো লাঠি। উটের পিঠে রেশমে বোনা কার্পেট, সামোভার, বস্তা বস্তা পেস্তা-বাদাম-আখরোট-কিসমিস চলেছে হিন্দুস্থানের দিকে।
উদ্দীপকের পাহাড়ি সড়কেও কেউ ফল বহন করছে, কারও হাতে দা, কারও কাঁধে রঙিন কাপড়। দুই ক্ষেত্রেই চলাচলকারী মানুষের পোশাক, পণ্য ও অস্ত্রের বিচিত্রতা সেই স্থানের সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে। তবে রচনায় পণ্যবাহিনী আরও বিশাল ও বহু দেশের মানুষ নিয়ে গঠিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে অর্থ দিয়ে সড়ক নিরাপদ রাখার চেষ্টা আছে, আর ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় ইংরেজরা খাইবার পাসের দুদিকের বসতির পাঠানদের বছরে দু-টাকা করে খাজনা দিত, যাতে তারা রাস্তার বুকের ওপর রাহাজানি না করে। পরে ইংরেজরা আরেকটি শর্ত আদায় করেছিল, আফ্রিদিতে আফ্রিদিতে ঝগড়া বাধলে রাস্তার এপার-ওপারে যেন বন্দুক মারা না হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থা পূর্ণ নিরাপত্তা দেয় না, মন্তব্যটি তাই যথার্থ।
প্রথমত, নিরাপত্তা কেবল রাস্তার ওপরেই সীমাবদ্ধ। রচনায় সর্দারজি স্মরণ করিয়ে দেন, রাস্তা সরকারের হলেও দুদিকের জমি পাঠানের। সেখানে নামা মানেই মরণ, কারণ পাঠানরা আড়ালে-আবডালে সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে। টায়ার ফেটে গেলেও তাই কারও রাস্তা ছেড়ে নামার উপায় ছিল না।
দ্বিতীয়ত, এই ব্যবস্থা অর্থের বিনিময়ে কেবল সাময়িক সুরক্ষা দেয়। উদ্দীপকেও সড়ক ছেড়ে জঙ্গলে নামলে বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই সুরক্ষা সড়কের ভেতর সীমাবদ্ধ, বাইরে পথিক অরক্ষিত।
তাই বলা যায়, অর্থ দিয়ে নিরাপত্তা কিনে নেওয়ার এই ব্যবস্থা পথিকের পূর্ণ নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়। মন্তব্যটি যুক্তিসংগত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও