ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
বন্যাপ্রবণ কুড়িগ্রামের চরপাড়া গ্রামে প্রতি বছর বর্ষায় ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সম্প্রতি সরকার নদীর পাড়ে বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং গ্রামে একটি উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে। এছাড়া একটি বেসরকারি সংস্থা গ্রামবাসীকে বন্যার সতর্কসংকেত বোঝা ও নিরাপদে সরে যাওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
- ক)(1)
দুর্যোগ কী?
- খ)(2)
দুর্যোগ প্রতিরোধ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে চরপাড়া গ্রামে গৃহীত ব্যবস্থাগুলোকে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত ভাগে ভাগ করে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“দুর্যোগ প্রতিরোধে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত উভয় ব্যবস্থাই সমান গুরুত্বপূর্ণ”— উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় এবং মানব সমাজের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে এরূপ ঘটনাকে দুর্যোগ বলে। যেমন: ঘূর্ণিঝড়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিপদকে প্রতিহত করা যায়, তাকে প্রতিরোধ বলে। যেকোনো দুর্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হয়। যেমন: বন্যার জন্য বাঁধ নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। এর ফলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দুর্যোগ প্রতিরোধে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত এই দুই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
কাঠামোগত ব্যবস্থা: যেসব ব্যবস্থায় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় সেগুলো কাঠামোগত। উদ্দীপকে সরকার নদীর পাড়ে বাঁধ নির্মাণ করেছে এবং উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে। এ দুটি কাঠামোগত ব্যবস্থা। বাঁধ বন্যার পানি আটকায় এবং আশ্রয়কেন্দ্র মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেয়।
অকাঠামোগত ব্যবস্থা: যেসব ব্যবস্থায় কোনো অবকাঠামো তৈরি না করে মানুষের জ্ঞান, সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়ানো হয় সেগুলো অকাঠামোগত। উদ্দীপকে বেসরকারি সংস্থা সতর্কসংকেত বোঝা ও নিরাপদে সরে যাওয়ার যে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, তা অকাঠামোগত ব্যবস্থা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দুর্যোগ প্রতিরোধে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত উভয় ব্যবস্থা পরস্পরের পরিপূরক। উদ্দীপকের চরপাড়া গ্রামের ক্ষেত্রে উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে সরকারের নির্মিত বাঁধ বন্যার পানিকে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেয়, ফলে ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি কমে। উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র বন্যা প্রবল হলে মানুষ ও গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করে। কিন্তু শুধু অবকাঠামো থাকলেই সুরক্ষা পাওয়া যায় না। বাঁধ ভেঙে যেতে পারে, আবার সতর্কসংকেত না বুঝলে মানুষ সময়মতো আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবে না।
এখানেই বেসরকারি সংস্থার প্রশিক্ষণের গুরুত্ব। সতর্কসংকেত বোঝা ও নিরাপদে সরে যাওয়ার প্রশিক্ষণ পেলে গ্রামবাসী আগেভাগে সচেতন হয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারবে। আবার প্রশিক্ষিত মানুষ থাকলেও আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঁধ না থাকলে তাদের যাওয়ার নিরাপদ জায়গা থাকবে না।
অতএব, কাঠামোগত ব্যবস্থা দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকানোর ভৌত সুরক্ষা দেয় এবং অকাঠামোগত ব্যবস্থা মানুষকে সচেতন ও প্রস্তুত করে। দুটি একসাথে গ্রহণ করলেই দুর্যোগ প্রতিরোধ কার্যকর হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও