ভূগোল ১ম পত্র • বারিমণ্ডল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

১৯৬৩ সালের নভেম্বর মাসে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অংশে সমুদ্রের তলদেশে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় এবং চার বছরেরও অধিককাল ধরে চলতে থাকে। এর ফলে সমুদ্র সমতলের ওপরে তিনটি ছোট দ্বীপ জেগে ওঠে, যার বৃহত্তমটি ১০০ মিটারেরও বেশি উঁচু ছিল। অগ্ন্যুৎপাত বন্ধ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষুদ্র দ্বীপগুলো ধুয়ে যেতে থাকে। শিক্ষার্থী তন্ময় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠে।

  1. ক)

    দ্বীপ বলয় কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ক্যালডেরা কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বীপগুলো সৃষ্টির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বীপগুলো দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না— তোমার মতামতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বক্রাকারে সজ্জিত দ্বীপপুঞ্জ ও তার ভেতরের দিকের আগ্নেয়গিরিগুলো, যা গিরিখাতের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের দ্বীপ বলয় (island arc) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আগ্নেয়গিরির উদগিরণের পর কখনও কখনও আগ্নেয়গিরির আংশিক পতন বা ধ্বংস ঘটে। আগ্নেয় উদগিরণ নিমজ্জিত হলে নিচ থেকে ওপরের দিকে ধাবিত গলিত শিলাও নিমজ্জিত হতে পারে। তখন আগ্নেয়গিরির ওপরের অংশ ধসে পড়ে এবং শুধু একটি ডুবে যাওয়া জ্বালামুখ বা ক্যালডেরা অবশিষ্ট থাকে। যেমন: অরিগনের জ্বালামুখ হ্রদ। উপকূল বরাবর ক্যালডেরা গঠিত হলে গভীর ও গোলাকার উপসাগরের সৃষ্টি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দ্বীপগুলো আগ্নেয় দ্বীপ, যা সমুদ্রের তলদেশে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রক্রিয়া নিম্নরূপ: ১. সমুদ্রের তলদেশে ভূত্বকের দুর্বল অংশের ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ ধুম, গ্যাস, গলিত শিলা (লাভা), ভস্ম এবং বিবিধ তরল ও কঠিন পদার্থ নির্গত হয়। ২. দীর্ঘকাল ধরে অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা ও ভস্ম তলদেশে জমা হতে থাকে। ৩. এই জমাট বস্তু ক্রমান্বয়ে স্তূপাকার হয়ে সমুদ্র তলদেশে পাহাড়, পর্বত বা উঁচু টিলার সৃষ্টি করে। ৪. অগ্ন্যুৎপাত যথেষ্ট দীর্ঘ সময় চললে এই আগ্নেয় স্তূপের চূড়া সমুদ্র সমতলের ওপরে উঠে এসে দ্বীপের সৃষ্টি করে। মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরায় এভাবেই আইসল্যান্ডের মতো দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমার মতে উদ্দীপকের দ্বীপগুলো, বিশেষ করে ছোট দ্বীপগুলো, দীর্ঘস্থায়ী হবে না; তবে বৃহত্তম দ্বীপটি কিছুকাল টিকে থাকতে পারে। আমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি: ১. আগ্নেয় দ্বীপ নতুন অগ্ন্যুৎপাত দ্বারা ভূত্বক নবায়িত না হলে বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ ও ঢেউয়ের দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। উদ্দীপকে অগ্ন্যুৎপাত বন্ধ হওয়ার পর ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষুদ্র দ্বীপগুলো ধুয়ে যাচ্ছে, যা এই ক্ষয়ের প্রমাণ। ২. সময়ের সাথে ক্ষয় চলতে থাকলে দ্বীপগুলো ক্রমে সমুদ্র সমতলের নিচে চলে যায়। মৃত আগ্নেয়গিরিগুলোও অনেক সময় নিমজ্জিত হয়ে প্রবাল শৈল বা পলি দ্বারা আবৃত হয়ে পড়ে। ৩. দ্বীপের আকার ক্ষুদ্র হওয়ায় ঢেউয়ের আঘাতে তা দ্রুত ধ্বংস হয়। বৃহত্তম দ্বীপটি ১০০ মিটারের বেশি উঁচু হওয়ায় অপেক্ষাকৃত বেশিদিন টিকতে পারে। ৪. তবে সবিরাম আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত যদি আবার ঘটে, তাহলে প্রায় ক্ষয়প্রাপ্ত দ্বীপও পুনর্গঠিত হতে পারে। সুতরাং নতুন অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূত্বক নবায়িত না হলে দ্বীপগুলো দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও