জীববিজ্ঞান • জীবপ্রযুক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

কৃষি গবেষক ড. নাসরিন লক্ষ করলেন, একটি উচ্চফলনশীল ধানের জাত পোকার আক্রমণে খুব সহজে নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে একটি দেশি জাত কম ফলন দিলেও পোকা প্রতিরোধে সক্ষম। তিনি প্রথমে দুই জাতের মধ্যে সংকরায়নের মাধ্যমে নতুন জাত পেতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু অনেক বছরেও আশানুরূপ ফল পেলেন না। পরে তাঁর সহকর্মী একটি ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধী জিন ধান গাছে স্থানান্তর করে অল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত জাত পেলেন।

  1. ক)

    জিন ক্লোনিং কী?

    (1)
  2. খ)

    রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ড. নাসরিনের প্রথম পদ্ধতিতে কেন কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি? তিনটি কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবনে ড. নাসরিনের সহকর্মীর পদ্ধতি তাঁর নিজের পদ্ধতির চেয়ে বেশি কার্যকর— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়া, অর্থাৎ নির্দিষ্ট জিনবহনকারী ডিএনএ খণ্ডকে বাহকের মাধ্যমে জীবকোষে প্রবেশ করিয়ে এর অসংখ্য কপি তৈরি করার প্রক্রিয়াকে জিন ক্লোনিং বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জিন প্রকৌশল কৌশলে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অণুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এর ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। সাধারণত দাতা জীবের কাঙ্ক্ষিত জিনকে ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিডে জুড়ে এটি তৈরি করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ড. নাসরিন প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। এ পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার কারণ হলো:
    ১. সময়সাপেক্ষ: প্রচলিত প্রজননে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের জাত পেতে অনেক বছর সময় লাগে।
    ২. অনিশ্চয়তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত জিন: এ পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত জিনের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত জিনও স্থানান্তর হয়ে যেতে পারে এবং কাঙ্ক্ষিত জিনের স্থানান্তরও অনিশ্চিত।
    ৩. সীমাবদ্ধতা: এ পদ্ধতিতে জিন স্থানান্তর শুধু একই বা খুব নিকটবর্তী প্রজাতির মধ্যে সম্ভব।
    এসব কারণে তাঁর প্রথম প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ড. নাসরিনের পদ্ধতি প্রচলিত প্রজনন এবং সহকর্মীর পদ্ধতি জিন প্রকৌশল। জিন প্রকৌশল অধিক কার্যকর হওয়ার কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. জিন স্থানান্তরের পরিধি: প্রচলিত প্রজননে জিন স্থানান্তর একই বা নিকটবর্তী প্রজাতিতে সীমাবদ্ধ। উদ্দীপকে ব্যাকটেরিয়া থেকে ধানে জিন স্থানান্তর হয়েছে, যা জিন প্রকৌশলে দূরবর্তী প্রজাতির মধ্যেও সম্ভব।
    ২. সময়: জিন প্রকৌশলে খুব দ্রুত কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব পাওয়া যায়। উদ্দীপকে সহকর্মী অল্প সময়েই ফল পেয়েছেন, অথচ প্রচলিত প্রজননে অনেক বছর লেগেছে।
    ৩. নির্ভুলতা: জিন প্রকৌশলে অনাকাঙ্ক্ষিত জিন স্থানান্তরের সম্ভাবনা নেই এবং কাঙ্ক্ষিত জিন স্থানান্তরের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
    ৪. নিরাপত্তা: জিন প্রকৌশল আন্তর্জাতিক জীবনিরাপত্তা নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং এতে বিষাক্ততা পরীক্ষা করা হয়, যা প্রচলিত প্রজননে হয় না।
    সুতরাং নতুন জাত উদ্ভাবনে সহকর্মীর গৃহীত জিন প্রকৌশল পদ্ধতিই অধিক কার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও