সাহিত্য পাঠ • সাহিত্যে খেলা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
গ্রামের গৃহিণী নুরজাহান বেগম প্রতি দুপুরে নকশিকাঁথায় ফুল, পাখি আর নদীর ছবি তোলেন। বিক্রির কথা তিনি কখনো ভাবেন না। কাঁথা শেষ হলে নিজের মনে যে তৃপ্তি পান, সেটাই তাঁর পুরস্কার; তাঁর সেলাই দেখে প্রতিবেশীরাও মুগ্ধ হয়। একবার এক ব্যবসায়ী প্রস্তাব দিয়েছিলেন, প্রতি মাসে ক্রেতাদের পছন্দমতো নকশায় দশটি কাঁথা বানিয়ে দিতে হবে। নুরজাহান রাজি হননি।
- ক)(1)
লেখকের মতে মোক্ষলাভের একমাত্র উপায় কী?
- খ)(2)
“সৃষ্টি তাঁর লীলামাত্র।”— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের নুরজাহানের সৃষ্টিকর্মের উদ্দেশ্যের সঙ্গে ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত কবির সৃষ্টির উদ্দেশ্যের সাদৃশ্য দেখাও।
- ঘ)(4)
ধরা যাক, নুরজাহান ব্যবসায়ীর প্রস্তাবে রাজি হলেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর সৃষ্টির স্বরূপ কী হতো? ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখকের মতে নিষ্কাম কর্মই মোক্ষলাভের একমাত্র উপায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রমথ চৌধুরী ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে বলেছেন, ভগবানের কোনো অভাব নেই, তবুও তিনি এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ বিশ্বসৃষ্টির মূলে কোনো প্রয়োজন বা স্বার্থ নেই, আছে কেবল স্ফূর্তি ও আনন্দ। তাই সৃষ্টিকে ভগবানের লীলা বা খেলা বলা হয়েছে। লেখকের মতে কবির সৃষ্টিও এমনই, যার মূলে কোনো অভাব দূর করার অভিপ্রায় নেই। উক্তিটিতে সৃষ্টির এই উদ্দেশ্যহীন আনন্দময় স্বরূপই বোঝানো হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নুরজাহানের সৃষ্টিকর্মের উদ্দেশ্যের সঙ্গে প্রবন্ধে বর্ণিত কবির সৃষ্টির উদ্দেশ্যের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। প্রমথ চৌধুরীর মতে কবির সৃষ্টির মূলে কোনো অভাব দূর করার অভিপ্রায় থাকে না; তার মূল অন্তরের স্ফূর্তি আর ফল আনন্দ। এ ধরনের কর্মই নিষ্কাম কর্ম। নুরজাহান নকশিকাঁথা সেলাই করেন বিক্রি বা লাভের জন্য নয়; কাঁথা শেষ হলে নিজের মনে যে তৃপ্তি পান, সেটিই তাঁর একমাত্র পুরস্কার। অর্থাৎ তাঁর কাজের চালিকাশক্তি স্ফূর্তি, ফল আনন্দ। আবার প্রবন্ধে আনন্দকে সংক্রামক বলা হয়েছে; নুরজাহানের সৃষ্টি দেখে প্রতিবেশীরাও মুগ্ধ হয়, যা সেই সংক্রামকতারই প্রকাশ। এভাবে উদ্দীপকের নুরজাহান এবং প্রবন্ধের কবি উভয়ের সৃষ্টিই উদ্দেশ্যহীন আনন্দ থেকে উৎসারিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নুরজাহান ব্যবসায়ীর প্রস্তাবে রাজি হলে তাঁর সৃষ্টি স্ফূর্ত আনন্দের খেলা থেকে বাজারের পণ্যে পরিণত হতো। প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধে বলেছেন, যে লেখক কোনোরূপ কার্য-উদ্ধারের অভিপ্রায়ে লেখনী ধারণ করেন, তিনি সাহিত্যের মর্ম বোঝেন না। কেননা নিষ্কাম কর্মই প্রকৃত সৃষ্টির ভিত্তি। ক্রেতাদের পছন্দমতো নকশায় মাসে দশটি কাঁথা বানাতে গেলে নুরজাহানের সেলাইয়ের উদ্দেশ্য হতো আর্থিক লাভ ও ক্রেতার মনোরঞ্জন। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয় এবং লেখক নিজে খেলা না করে পরের জন্য খেলনা তৈরি করতে বসেন। একইভাবে নুরজাহানও নিজের মনের টানে নকশা না তুলে অন্যের ফরমায়েশ মেটাতেন। তখন তাঁর কাজ হতো সস্তা খেলনা গড়ার মতোই, যার আবেদন ক্ষণস্থায়ী। কাজের তৃপ্তি ও সৃজনের স্ফূর্তি হারিয়ে যেত, কারণ তখন আনন্দের বদলে আর্থিক প্রাপ্তিই কাজের লক্ষ্য হয়ে উঠত। অতএব প্রবন্ধের আলোকে বলা যায়, রাজি হলে তাঁর সৃষ্টি শিল্প না থেকে পণ্য হতো; নুরজাহানের প্রত্যাখ্যানই তাই তাঁর শিল্পীসত্তাকে রক্ষা করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও