বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংকব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

সাবিনা কাপড়ের ব্যবসায়ী। ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি প্রায় প্রতিদিন ব্যাংকে টাকা জমা দেন ও তোলেন, কিন্তু এ জন্য কোনো সুদ পান না। শিক্ষক জাহাঙ্গীর বেতনের কিছু টাকা একই ব্যাংকে জমা রাখেন এবং সপ্তাহে একবার প্রয়োজনমতো তোলেন, এ জন্য তিনি সামান্য সুদ পান। আর মিজান তার জমানো দুই লাখ টাকা পাঁচ বছরের জন্য ওই ব্যাংকে রেখেছেন এবং বেশি হারে সুদ পাচ্ছেন।

  1. ক)

    ব্যাংকের আমানত কয় প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    বাট্টা ধার্য করে বিনিময় বিল ভাঙিয়ে দেওয়া বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাবিনা, জাহাঙ্গীর ও মিজানের আমানত কোন কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মিজানের মতো আমানতকারীদের জমা অর্থ ব্যাংক কীভাবে ব্যবহার করে? এর মাধ্যমে ব্যাংক ও অর্থনীতি কীভাবে লাভবান হয়? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্যাংকের আমানত সাধারণত তিন প্রকার—চলতি আমানত, সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো ব্যবসায়ী ধারে পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতার কাছ থেকে একটি বিনিময় বিল পান, যার একটি মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকার প্রয়োজন হলে ওই বিলের মালিক বাণিজ্যিক ব্যাংকে যান। ব্যাংক বিলের মূল্য থেকে নির্দিষ্ট হারে বাট্টা বা ছাড় কেটে রেখে তাকে নগদ টাকা দেয়। এতে ব্যাংক মুনাফা অর্জন করে, আবার বিলের মালিকও প্রয়োজনের সময় নগদ টাকা পান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তিন ব্যক্তির আমানত তিন ভিন্ন ধরনের।
    সাবিনা: তিনি যেকোনো সময় টাকা জমা দেন ও তোলেন এবং সুদ পান না। এটি চলতি আমানত। এ আমানতে ব্যাংক কোনো সুদ দেয় না।
    জাহাঙ্গীর: তিনি সপ্তাহে একবার টাকা তোলেন এবং সামান্য সুদ পান। এটি সঞ্চয়ী আমানত। এ আমানত থেকে সপ্তাহে এক বা দুইবার অর্থ উত্তোলন করা যায় এবং অল্প সুদ দেওয়া হয়।
    মিজান: তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য টাকা রেখেছেন এবং বেশি সুদ পাচ্ছেন। এটি স্থায়ী আমানত। নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর এ আমানত তোলা যায় এবং এর জন্য উচ্চ হারে সুদ দেওয়া হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিজানের আমানত হলো স্থায়ী আমানত। এ অর্থ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাংকের কাছে থাকে বলে ব্যাংক নিশ্চিন্তে তা কাজে লাগাতে পারে।
    ব্যাংক জনসাধারণের কাছ থেকে গৃহীত অর্থের নির্দিষ্ট অংশ গচ্ছিত রেখে বাকি অংশ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ঋণ হিসেবে দেয়। সাধারণত মূল্যবান সম্পত্তি বন্ধক রেখে স্বল্পমেয়াদি এবং প্রয়োজনে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়।
    ব্যাংকের লাভ: ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ব্যাংক যে সুদ নেয়, তা আমানতকারীকে দেওয়া সুদের চেয়ে বেশি। এই সুদের হারের পার্থক্যই ব্যাংকের মুনাফা। এর ওপর ভর করেই ব্যাংক টিকে থাকে।
    অর্থনীতির লাভ: আমানতের অর্থ ঋণ হিসেবে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ হলে উৎপাদন বাড়ে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে। অন্যদিকে মিজানের মতো সঞ্চয়কারীরা সুদ পায় ও তাদের অর্থ নিরাপদ থাকে।
    অতএব, আমানতের সঠিক ব্যবহারে ব্যাংক, আমানতকারী ও অর্থনীতি—সবাই উপকৃত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও