সাহিত্য পাঠ • জীবন ও বৃক্ষ

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

কলেজের বিতর্ক ক্লাবে তানিয়া ও সুমি জীবনের প্রতীক নিয়ে আলোচনা করছিল। তানিয়া বলল, ‘জীবন নদীর মতো, বাধা ডিঙিয়ে অবিরাম ছুটে চলাই জীবনের সার্থকতা। এখানেই মানুষের বেদনা স্পষ্ট হয়।’ সুমি বলল, ‘না, মানুষের সাধনা হবে গাছের মতো ধীরস্থির ও নীরব। গাছ ফুলে-ফলে ভরে ওঠে, আর সেই ফুল-ফল সে অন্যকে দিয়ে দেয়। তার প্রাপ্তি আর দান আলাদা নয়।’

  1. ক)

    মোতাহের হোসেন চৌধুরীর আলোচিত গ্রন্থের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “বৃক্ষে প্রাপ্তি ও দান এক হয়ে গেছে”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    সুমির বক্তব্যে ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের কোন ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “তানিয়ার ভাবনা রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মেলে, কিন্তু প্রাবন্ধিক তা গ্রহণ করেননি”—এর কারণ ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মোতাহের হোসেন চৌধুরীর আলোচিত গ্রন্থের নাম ‘সংস্কৃতি-কথা’।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃক্ষ মাটি থেকে রস টেনে নিয়ে নিজেকে বিকশিত করে এবং ফুল ও ফলে পরিপূর্ণ হয়। এই ফুল ও ফল তার সাধনার প্রাপ্তি। আবার সে এগুলো অন্যের হাতে তুলে দেয়, তাই এগুলোই তার দানও। অর্থাৎ বৃক্ষ যা অর্জন করে তা-ই সে অন্যকে দান করে। এজন্যই লেখক বলেছেন, বৃক্ষে প্রাপ্তি ও দান এক হয়ে গেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুমির বক্তব্যে ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের বৃক্ষের নীরব সাধনা এবং প্রাপ্তি ও দানের একাত্মতার ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে। প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, বৃক্ষের সাধনায় একটি ধীরস্থির ভাব আছে এবং গোপন ও নীরব সাধনা বৃক্ষেরই অধিকতর বৈশিষ্ট্য। বৃক্ষ ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে অপরের সেবার জন্য প্রস্তুত হয়। তার ফুল ও ফল একই সঙ্গে প্রাপ্তি ও দান। সুমিও গাছের ধীরস্থির, নীরব সাধনা এবং ফুল-ফল অন্যকে দেওয়ার কথা বলেছে। তাই তার বক্তব্য প্রবন্ধের এই ভাবনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রবন্ধে বলা হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ফুলের ফোটা ও নদীর গতির তুলনা করে নদীর গতির মধ্যেই মনুষ্যত্বের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে মনুষ্যত্বের বেদনা নদীর গতিতেই উপলব্ধ হয়, কারণ নদীকে অনেক বাধা ডিঙিয়ে চলতে হয়। তানিয়ার বক্তব্যও একই। কিন্তু প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী বৃক্ষকেই সার্থকতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    প্রথমত, লেখকের মতে অনবরত ধেয়ে চলা মানুষের সাধনা হওয়া উচিত নয়। বৃক্ষের মতো ধীরস্থির ভাবই মানুষের সাধনায় কাম্য, আর গোপন ও নীরব সাধনা বৃক্ষেরই বৈশিষ্ট্য, নদীর নয়।

    দ্বিতীয়ত, বৃক্ষের সার্থকতার ছবি প্রত্যহ চোখে পড়ে। নদী সাগরে পতিত হয় সত্য, কিন্তু সেই ছবি আমরা প্রতিদিন দেখতে পাই না।

    তৃতীয়ত, সাধনায় প্রাপ্তি একটি বড় বিষয়। নদীর সাগরে পতন প্রাপ্তি নয়, আত্মবিসর্জন; অথচ বৃক্ষের ফুল-ফল চোখের সামনে সাধনার সার্থকতা হয়ে ফুটে ওঠে এবং সেখানে প্রাপ্তি ও দান এক হয়ে যায়।

    চতুর্থত, নদীর দুঃখ সহজে স্পষ্ট হলেও কল্পনা ও অনুভূতির চক্ষু বড় করলে বৃক্ষের বেদনাও সহজে উপলব্ধি করা যায়। এছাড়া বৃক্ষ সর্বদা নতি, শান্তি ও সেবার বাণী প্রচার করে।

    এসব কারণে লেখক নদীর পরিবর্তে বৃক্ষকে জীবনের আদর্শ প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং তানিয়ার মতো ভাবনা গ্রহণ করেননি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও