সহপাঠ • ১৯৭১

সহপাঠ প্রশ্ন

একাত্তরের এক রাতে সন্ধ্যার সভায় ইউনিয়নের প্রবীণ মেম্বার আলতাফ হোসেন গ্রামবাসীকে বলেন, ‘আমরা এই এলাকারই মানুষ, নামাজ-কালাম করি। আমাদের কেউ কিছু করবে না। সবাই ঘরে গিয়ে আল্লাহর নাম নাও, কোনো ভয় নেই।’ লোকজন তাঁর কথায় নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরে যায়। সে রাতেই দখলদার বাহিনী গ্রামে ঢুকে মেম্বারের প্রতিবেশী ছাত্তারের স্ত্রী ও কিশোরী শ্যালিকার ওপর অত্যাচার চালায়। ছাত্তার তখন বাড়িতে ছিল না।

  1. ক)

    সফরউল্লাহর স্ত্রীর ছোট বোনের বয়স কত ছিল?

    (1)
  2. খ)

    “মুসলমানদের শাইলে এরা হাত দেয় না।”—জয়মাল মিয়া এ কথা বলেছেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলতাফ হোসেনের বক্তব্য ‘১৯৭১’ উপন্যাসের কোন চরিত্রের বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “জয়মাল মিয়ার ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না।”—উদ্দীপক ও ‘১৯৭১’ উপন্যাসের আলোকে যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সফরউল্লাহর স্ত্রীর ছোট বোনের বয়স ছিল বারো বছর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জয়মাল মিয়া সফরউল্লাহর পরিবারের মেয়েদের গ্রামের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করতে এ কথা বলেছেন। তাঁর ধারণা ছিল, মিলিটারিরা মুসলমান বলে মুসলমান মেয়েদের ক্ষতি করবে না। তিনি যুক্তি হিসেবে দেখান, এ গ্রামে যে তিনজন মারা গেছে তাদের কেউ মুসলমান নয়। তা ছাড়া মেজর সাহেব অন্ধ মীর আলিকে সালাম দিয়েছেন। এই ঘটনাগুলোর ভিত্তিতেই তিনি মুসলমান মেয়েদের নিরাপদ মনে করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আলতাফ হোসেনের বক্তব্য ‘১৯৭১’ উপন্যাসের জয়মাল মিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উপন্যাসে মেয়েদের গ্রামের বাইরে পাঠানোর কথা উঠলে জয়মাল মিয়া দৃঢ়স্বরে বলেন, এর কোনো দরকার নেই। তিনি সবাইকে বাড়ি গিয়ে ‘আল্লাহ খোদার নাম’ নিতে এবং ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলে নিশ্চিন্ত থাকতে বলেন। উদ্দীপকের মেম্বারও নামাজ-কালামের দোহাই দিয়ে সবাইকে বলেন কোনো ভয় নেই, আল্লাহর নাম নিতে। দুই ক্ষেত্রেই ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে ভ্রান্ত নিরাপত্তাবোধ এবং বিপদ সম্পর্কে অবাস্তব ধারণা প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। জয়মাল মিয়া ভেবেছিলেন ধর্মীয় পরিচয়ই মুসলমানদের রক্ষা করবে। কিন্তু উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ ও উদ্দীপকের চিত্র দেখায়, যুদ্ধে ধর্ম নয়, বাঙালি পরিচয়ই ছিল আক্রমণের লক্ষ্য। ১. সফরউল্লাহর পরিবারের পরিণতি: জয়মাল মিয়া যখন মেয়েদের নিরাপদ বলছিলেন, ঠিক সেই সময় ঝড়ের রাতে একজন মিলিটারি সুবাদার ও তিন রাজাকার সফরউল্লাহর মুসলমান স্ত্রী ও বারো বছরের শ্যালিকার ওপর অত্যাচার করে। ২. ইমাম ও আজিজ মাস্টার: মুসলমান ইমাম সাহেবকে মেজর তিনবার চড় মারেন এবং আজিজ মাস্টারকে নগ্ন করে অপমান করেন, পরে রাজাকাররা তাঁকে বিলের দিকে নিয়ে যায়। ৩. রফিকের উপলব্ধি: রফিক জানায় মসজিদ থেকেও মানুষকে টেনে বের করে মারা হয়েছে, আল্লাহ তাদের রক্ষা করতে পারেননি। ৪. উদ্দীপকের সাদৃশ্য: আলতাফ হোসেনের আশ্বাসও একই রাতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়, যখন মেম্বারের প্রতিবেশীর পরিবার নির্যাতিত হয়। ৫. একটি সত্য ঘটনা: মেজর মীর আলিকে সালাম দিয়েছিলেন নিজের অন্ধ বাবার কথা মনে করে, সব মুসলমানকে সম্মান করার কারণে নয়। সুতরাং জয়মাল মিয়ার ধারণা ছিল ভ্রান্ত ও বাস্তবতাবিরোধী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও