সাহিত্য পাঠ • একটি তুলসী গাছের কাহিনি
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
গ্রামের মসজিদ কমিটির সভাপতি জহির সাহেব পাশের হিন্দুপাড়ার একটি পুরোনো মন্দিরের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে সভায় জোরগলায় বলেন, ‘ওদের কারণেই আমাদের সমাজের এত অশান্তি। ওদের কোনো চিহ্ন এখানে রাখা চলবে না।’ উপস্থিত সবাই চুপ থাকে। সভা শেষে সকলে একে একে ফিরে যায়, কিন্তু রাতে কয়েকজন গোপনে মন্দিরের আঙিনা পরিষ্কার করে আসে। সংখ্যায় এরা অল্প, কিন্তু মানুষের প্রতি তাদের টান গভীর।
- ক)(1)
মোদালেক নিমের ডাল দিয়ে কী করছিল?
- খ)(2)
‘বামপন্থী মকসুদ আজ একা।’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের জহির সাহেবের সঙ্গে ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? তার আচরণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আড়ালে মানুষের ভেতরের মানবিক বোধ আসলে মরে যায় না।’—উদ্দীপক ও ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্প অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মোদালেক নিমের ডাল দিয়ে মেছোয়াক করছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মকসুদ দলের মধ্যে প্রগতিশীল ও বামপন্থী বলে পরিচিত ছিল। তুলসী গাছকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক আলোচনার দিনে অন্য সবাই হিন্দুদের অত্যাচারের উদাহরণ দিয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। মকসুদ প্রতিবাদ করলেও তার পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। এই নিঃসঙ্গ অবস্থার কারণেই তাকে ‘আজ একা’ বলা হয়েছে। ফলে তার বিশ্বাসের কাঁটাও দ্বিধায় দুলে শেষ পর্যন্ত ডান দিকে হেলে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জহির সাহেবের সঙ্গে গল্পের মোদালেকের মিল রয়েছে। জহির সাহেব মন্দিরের দুরবস্থা দেখে সভায় সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেন। মোদালেকও উঠানে তুলসী গাছ দেখে তারস্বরে চিৎকার করে ওঠে। সে বলে, এ বাড়িতে এসে ওঠার পর হিন্দুয়ানির কোনো চিহ্ন সহ্য করা হবে না এবং গাছটি উপড়ে ফেলতে হবে। সে হুজুগে মানুষ বলে সামান্য ব্যাপারে হুংকার তুলে অন্যদের প্রভাবিত করতে চায়। রাতে সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে আড্ডায় সে বলে, হিন্দুদের নীচতা ও গোঁড়ামির জন্যই দেশ ভাগ হয়েছে। তাই দুজনের আচরণেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও উগ্রতা ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি গল্প ও উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই যথার্থ। উদ্দীপকে জহির সাহেব জোরালো ভাষায় বিদ্বেষমূলক কথা বলেন এবং কেউ প্রতিবাদ করে না। অথচ রাতে কয়েকজন গোপনে মন্দিরের আঙিনা পরিষ্কার করে আসে। এতে বোঝা যায়, প্রকাশ্য উত্তেজনার নিচে মানবিকতা টিকে ছিল। গল্পেও একই চিত্র দেখা যায়। তুলসী গাছ দেখে মোদালেক গাছটি উপড়ে ফেলার হুকুম দেয়, কিন্তু কেউ নড়ে না। ইউনুস সর্দি-কাশির উপকারের অজুহাতে গাছটি রাখার কথা বলে। মৌলভি ধরনের এনায়েতও চুপ থাকে। সবার মনে গৃহকর্ত্রীর প্রদীপ জ্বালানোর ছবি ও সজল চোখের দৃশ্য জেগে ওঠে। তারা যে অস্বস্তি বোধ করে, সেই অস্বস্তি ঢাকতেই আড্ডায় সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে উত্তপ্ত তর্ক জমে ওঠে। মকসুদ প্রতিবাদ করলেও শেষে দুর্বল হয়ে পড়ে। মোদাচ্ছের কঞ্চি চালালেও গাছের ওপর দিয়েই চালায়, গাছ অক্ষত থাকে; কেউ গোপনে পানিও দেয়। এই ঘটনাগুলো দেখায়, বাইরের উগ্র কথার পেছনে ভেতরের মানবিক বোধ মরেনি। তবে বোধটি দুর্বল ও গোপন, তাই পুলিশের আতঙ্কে তা হারিয়ে যায়। সুতরাং মন্তব্যটি সার্থক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও