বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • রাষ্ট্র, নাগরিকতা ও আইন

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

প্রাচীন গ্রিসের এথেন্স নগর-রাষ্ট্রে কেবল সেইসব পুরুষ নাগরিক বলে গণ্য হতেন, যাঁরা সরাসরি শাসনকার্যে অংশ নিতেন। সেখানে দাস ও নারীদের নাগরিক ধরা হতো না। অন্যদিকে আজকের বাংলাদেশে রাহেলা বেগম একজন গৃহিণী। তিনি রাষ্ট্রের আইন মেনে চলেন, নিয়মিত ভোট দেন এবং রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

  1. ক)

    নাগরিক শব্দটি কোন ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে?

    (1)
  2. খ)

    লাস্কির মতে নাগরিক কে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের এথেন্সের ধারণা অ্যারিস্টটলের নাগরিক সংজ্ঞার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের রাহেলা বেগমকে কি নাগরিক বলা যায়? এথেন্সের ধারণা ও আধুনিক ধারণার তুলনা করে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাগরিক (Citizen) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Civics থেকে এসেছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আধুনিক ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে, তিনিই নাগরিক। এখানে শাসনকার্যে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের চেয়ে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও সুবিধা ভোগকে মাপকাঠি ধরা হয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রে জনসংখ্যা বিপুল হওয়ায় সবাইকে সরাসরি শাসনকার্যে যুক্ত করা সম্ভব নয়, তাই এই সংজ্ঞা অধিক গ্রহণযোগ্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যারিস্টটলের মতে, সে ব্যক্তিই নাগরিক যে নগর-রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব ও শাসনকার্যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
    উদ্দীপকে এথেন্সে কেবল তাঁদেরই নাগরিক ধরা হতো, যাঁরা সরাসরি শাসনকার্যে অংশ নিতেন। এটি অ্যারিস্টটলের সংজ্ঞার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। অ্যারিস্টটল মনে করতেন, অধিকাংশ মানুষের নাগরিক অধিকার প্রয়োগের সামর্থ্য কিংবা অফুরন্ত সময় নেই। এই যুক্তিতেই গ্রিক নগর-রাষ্ট্রে দাস ও নারীদের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হতো না এবং তারা রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করতে পারত না। উদ্দীপকের চিত্রটি তাই অ্যারিস্টটলের ধারণারই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাহেলা বেগমকে আধুনিক ধারণা অনুযায়ী অবশ্যই নাগরিক বলা যায়, যদিও এথেন্সের ধারণায় তিনি নাগরিক হতেন না।
    এথেন্সে শাসনকার্যে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল নাগরিকত্বের শর্ত। নারী হওয়ায় রাহেলা বেগম সেখানে নাগরিক গণ্য হতেন না। কিন্তু বর্তমানে নগর-রাষ্ট্রের স্থলে জাতীয় রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়েছে, যেখানে জনসংখ্যা বিপুল। তাই এখন নাগরিকত্বের মাপকাঠি হলো রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ।
    লাস্কির সংজ্ঞা অনুযায়ী যিনি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন ও আনুগত্য স্বীকার করেন, তিনিই নাগরিক। উদ্দীপকের রাহেলা বেগম আইন মেনে চলেন, ভোট দেন এবং রাষ্ট্রের সকল সুবিধা ভোগ করেন। অর্থাৎ তিনি আনুগত্য ও সুবিধা ভোগ দুটি শর্তই পূরণ করেন। বর্তমানে নারী-পুরুষ, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে সকলেই নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারে এবং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করে।
    সুতরাং আধুনিক ধারণায় রাহেলা বেগম নাগরিক, যা এথেন্সের সীমিত ধারণার চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও