ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
ঢাকার উপকণ্ঠে একটি ইটভাটার চিমনি মাত্র ৬০ ফুট উঁচু। সেখান থেকে নির্গত ধোঁয়া আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামবাসীরা এ বিষয়ে সরকারি একটি সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ করে। সংস্থাটি মাঠ পরিদর্শনের পর ভাটা মালিককে নোটিশ দেয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। একই সংস্থা শহরে ধোঁয়া নির্গমনকারী পুরনো যানবাহনের বিরুদ্ধেও অভিযান চালায়।
- ক)(1)
কত সালে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়?
- খ)(2)
পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সংস্থাটি অভিযোগ নিষ্পত্তিতে যে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত দূষণ প্রতিরোধে সংস্থাটির নেওয়া পদক্ষেপগুলো যথাযথ হয়েছে কি না, তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৮৯ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পলিথিন সহজে পচে না এবং মাটিতে মিশে যায় না। এটি মাটি ও পানিকে দূষিত করে, নর্দমা আটকে দেয় এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। এই দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তর ২০০২ সালে ঢাকায় ও পরে সমগ্র বাংলাদেশে সব ধরনের পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সংস্থাটি হলো পরিবেশ অধিদপ্তর, যা পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করে।
এই কাজের প্রাথমিক কার্যক্রম হলো অভিযোগ বা প্রতিকার প্রার্থনার আবেদনপত্র গ্রহণ, সরেজমিন পরিদর্শন, তদন্ত পরিচালনা এবং প্রযোজ্যক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ। উদ্দীপকে গ্রামবাসীরা লিখিত অভিযোগ করলে সংস্থাটি মাঠ পরিদর্শন করে, ভাটা মালিককে নোটিশ দেয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এগুলো শিল্পদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্ধারিত ধাপের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে এ ধরনের অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ইটভাটা ও যানবাহন থেকে বায়ুদূষণ ঘটছে। এই দূষণ প্রতিরোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের গৃহীত পদক্ষেপগুলো যথাযথ বলে আমি মনে করি।
ইটভাটার ক্ষেত্রে অধিদপ্তর শর্ত দিয়েছে যে চিমনির উচ্চতা ১২০ ফুটের নিচে হতে পারবে না। উদ্দীপকের ভাটার চিমনি মাত্র ৬০ ফুট, তাই সেটি নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। নোটিশ প্রদান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শিল্পদূষণ নিয়ন্ত্রণের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ। এছাড়া কংক্রিট ব্লক ইটের উৎপাদন ও কম সালফার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দূষণ কমানো যায়।
যানবাহনের ক্ষেত্রে অধিদপ্তর দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করে। এছাড়া অনুঘটক কনভার্টার ও ডিজেল পার্টিকেলেট ফিল্টার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ঢাকায় ২০ ও ২৫ বছরের পুরনো যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ।
তবে পদক্ষেপগুলোর পূর্ণ সাফল্যের জন্য নিয়মিত তদারকি এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সার্বিকভাবে অধিদপ্তরের পদক্ষেপগুলো যথাযথ ও কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও