ইতিহাস ২য় পত্র • শিল্পবিপ্লব
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
‘ক’ দেশে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর একটি সুসংহত শাসনতন্ত্র প্রণীত হয়। জমিদারি প্রথার অবসান হওয়ায় সেখানে একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। দেশটির ব্যবসায়ীরা বিদেশে ও অধীনস্থ অঞ্চলের বাজারে প্রচুর পণ্য বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করছে। দেশটিতে কয়লা ও লোহার প্রচুর মজুদ থাকায় নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কারের পাশাপাশি তা কাজে লাগানোও সহজ হয়েছে।
- ক)(1)
শিল্পবিপ্লব কথাটি সর্বপ্রথম কে ব্যবহার করেন?
- খ)(2)
ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লবে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লবের কোন কোন শ্রেণির কারণের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কারণগুলোর মধ্যে ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লব সংঘটনে কোনটিকে তুমি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে কর? পাঠ্যবইয়ের আলোকে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফরাসি সমাজতান্ত্রিক লেখক অগাস্ট ব্ল্যাঙ্কি সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব কথাটি ব্যবহার করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সামাজিক ক্রমবিকাশের ফলে ব্রিটেনে একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম হয়। শিল্পের সংগঠক ও শিল্পপতিরা এই শ্রেণি থেকেই সৃষ্টি হয়। জমিদারদের সাথে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় তারা নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। এছাড়া নতুন আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে তারা শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লবের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণের প্রতিফলন ঘটেছে। ১. রাজনৈতিক কারণ: ১৬৮৮ খ্রিষ্টাব্দের পর ব্রিটেনে একটি সুসংহত ও স্থিতিশীল শাসনতন্ত্র প্রণীত হয়, যা শিল্পে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের সুসংহত শাসনতন্ত্র এরই ইঙ্গিতবাহী। ২. সামাজিক কারণ: ব্রিটেনে সামন্ত ও জমিদারি প্রথার সর্বপ্রথম বিলোপ ঘটে এবং শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম হয়। উদ্দীপকে জমিদারি প্রথার অবসান ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব তা নির্দেশ করে। ৩. অর্থনৈতিক কারণ: ব্রিটেন বৈদেশিক বাণিজ্য ও উপনিবেশের বাজারে পণ্য বিক্রি করত এবং লোহা ও কয়লার মতো প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল। উদ্দীপকের বিদেশে পণ্য বিক্রি ও কয়লা-লোহার মজুদ সেই অর্থনৈতিক কারণের প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কারণগুলোর মধ্যে আমার মতে বৈদেশিক বাণিজ্য ও উপনিবেশের বাজার সম্প্রসারণই ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লবের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পাঠ্যবইয়ে গুরুত্বের ক্রম হিসেবে বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, নতুন নতুন আবিষ্কার ও মহৎ ধারণার প্রভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তিসমূহ নিম্নরূপ। ১. চাহিদা সৃষ্টি: শিল্পবিপ্লবের বহু পূর্বেই ব্রিটেন আমেরিকা ও এশিয়ায় উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। উপনিবেশগুলো ছিল ব্রিটিশ পণ্যের বাজার। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ায় পণ্যের চাহিদা বাড়ে এবং উৎপাদকদের মধ্যে আরও বেশি উৎপাদনের স্পৃহা সৃষ্টি হয়। ২. মূলধন সৃষ্টি: বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ ব্রিটেনে সংগৃহীত হয়, যা শিল্পে বিনিয়োগ করা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়। ৩. আবিষ্কারের প্রেরণা: ব্রিটিশ শিল্পপণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় অধিক উৎপাদনের তাগিদে কারিগরি উন্নয়ন ও নতুন আবিষ্কার উৎসাহিত হয়। ৪. অন্যান্য কারণের নির্ভরতা: স্থিতিশীল শাসনতন্ত্র, মধ্যবিত্ত শ্রেণি বা কয়লা-লোহার মজুদ থাকলেও বাজার ও চাহিদা না থাকলে যন্ত্র আবিষ্কার ও বড় আকারের উৎপাদনের প্রয়োজন হতো না। তবে এককভাবে কোনো কারণই যথেষ্ট ছিল না; রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সম্পদ ও আবিষ্কার একসাথে শিল্পবিপ্লবকে সম্ভব করেছে। এ বিবেচনায় বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণকেই আমি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও