সাহিত্য পাঠ • অর্ধাঙ্গী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মৃত্যুর আগে জমিদার আবদুস সামাদ সাহেবের সব সম্পত্তি তিন ছেলে ও একমাত্র মেয়ে সুফিয়ার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর ভাইয়েরা বলল, “বিয়েতে অনেক খরচ হয়েছে, তাই সুফিয়ার আর কিছু পাওনা নেই।” সুফিয়া ইসলামি বিধান জানা সত্ত্বেও কিছুই পেল না। বাবার আদর-যত্নের ক্ষেত্রেও সে ভাইদের তুলনায় অনেক কম পেয়েছে। কলেজে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।

  1. ক)

    মহম্মদী আইনে পৈতৃক সম্পত্তিতে কন্যা কতটুকু ভাগ পাবে?

    (1)
  2. খ)

    “এ নিয়মটি কিন্তু পুস্তকেই সীমাবদ্ধ।”—ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সুফিয়ার প্রতি যে বৈষম্য প্রকাশ পেয়েছে তা ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক ও ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে নারীর এই বঞ্চনার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো এবং লেখকের মতানুসারে এর প্রতিকারের পথ নির্দেশ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মহম্মদী আইনে পৈতৃক সম্পত্তিতে কন্যা পুত্রের অর্ধেক ভাগ পাবে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মহম্মদী আইনে পৈতৃক সম্পত্তিতে কন্যা পুত্রের অর্ধেক ভাগ পাওয়ার বিধান থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয় না। লেখকের মতে, কোনো ধনবান মুসলমানের সম্পত্তি বণ্টন দেখলে বোঝা যায় কার্যত কন্যার ভাগে শূন্য বা যৎসামান্য পড়ে। অর্থাৎ নিয়মটি শুধু বইয়ের পাতায় আছে, সমাজে কার্যকর নেই। এভাবে লেখক নারীর অধিকার হরণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সুফিয়ার প্রতি সম্পত্তি বণ্টন, স্নেহ-যত্ন ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রকাশ পেয়েছে। ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রোকেয়া দেখিয়েছেন, মুসলমান সমাজে বিধান অনুযায়ী কন্যার পৈতৃক সম্পত্তির অর্ধেক পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সে শূন্য বা সামান্য পায়। উদ্দীপকে ভাইয়েরা বিয়ের খরচের অজুহাতে সুফিয়াকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে। তা ছাড়া প্রবন্ধে পুত্রের জন্য শিক্ষক নিযুক্ত করা কিন্তু কন্যার শিক্ষাকে অবহেলা করার যে চিত্র আছে, উদ্দীপকে সুফিয়ার কলেজে পড়ার সুযোগ না পাওয়ার মধ্যেও তা প্রতিফলিত হয়েছে। সুতরাং উদ্দীপকে প্রবন্ধে বর্ণিত পার্থিব ও অপার্থিব উভয় ধরনের বৈষম্যই ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপক ও প্রবন্ধে নারীর বঞ্চনা দুই স্তরে দেখা যায়—পার্থিব ও অপার্থিব। প্রবন্ধে রোকেয়া বলেছেন, সম্পত্তিতে নারী আইনত অর্ধেক পাওয়ার কথা হলেও কার্যত শূন্য পায়। উদ্দীপকের সুফিয়াও ভাইদের অজুহাতে সম্পত্তি হারিয়েছে। এরপর লেখক অপার্থিব সম্পত্তি অর্থাৎ পিতার স্নেহ-যত্ন ও হিতৈষিতার কথা বলেছেন, যেখানে পক্ষপাতিতা আরও বেশি। পুত্রের জন্য চারজন শিক্ষক, কন্যার জন্য একজন শিক্ষয়িত্রীও নয়; ছেলেরা বি.এ. পাস করলে মেয়েরা এন্ট্রান্সও শেষ করে না। উদ্দীপকের সুফিয়ার কলেজে পড়ার সুযোগ না পাওয়া এই বঞ্চনারই প্রমাণ।
    প্রতিকার হিসেবে লেখকের মূল কথা হলো নারীকে সমান শিক্ষা ও অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া, কারণ সুযোগ পেলে নারীও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারত। তিনি বলেছেন, ঈশ্বর বা মা কেউ পুত্র-কন্যায় ভেদ করেন না; তাই সমাজেরও পক্ষপাত বর্জন করা উচিত। নারীকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং ‘হাজার হোক ব্যাটা ছেলে’ মনোভাব ত্যাগ করে আত্মমর্যাদা অর্জন করতে হবে। এভাবে শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমেই এ বঞ্চনার অবসান সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও