সাহিত্য পাঠ • ব্ল্যাক-আউটের পূর্ণিমায়
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
১৯৭১ সালের এক রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্দেশে ঢাকার সব বাড়ির জানালায় কালো কাগজ লাগানো হলো, যেন একটুও আলো বাইরে না যায়। নূরজাহান বেগম বেশি লেখাপড়া জানতেন না, কিন্তু তাঁর মনের জোর ছিল অসীম। সেই নিকষ কালো রাতেও তিনি গোপনে ছাদে একটি প্রদীপ জ্বেলে রাখলেন, যেন মুক্তিযোদ্ধারা পথ চিনে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছাতে পারে।
- ক)(1)
ব্ল্যাক-আউট কী?
- খ)(2)
‘কনি আঙুল’ দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
“মগজের কুণ্ডলীকৃত মেঘে পিস্তলের প্রোজ্জ্বল আদল”—পঙ্ক্তিটি উদ্দীপকের নূরজাহান বেগমের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের নূরজাহান বেগম কবিতার ‘বিদ্রোহী পূর্ণিমা’রই প্রতীকী রূপ।”—যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্ল্যাক-আউট হলো নিষ্প্রদীপ অবস্থা, অর্থাৎ যুদ্ধ বা জরুরি অবস্থায় কোনো এলাকাকে অন্ধকারে ঢেকে রাখার কৌশল, যাতে বাইরে আলো না যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রাচীন গ্রিসে হাতের পাঁচ আঙুল দিয়ে পাঁচ দেবতাকে বোঝানো হতো। কনিষ্ঠ আঙুল গ্রিক যুদ্ধ-দেবতা এরিসের প্রতীক, যা লড়াইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা প্রদানেরও প্রতীক। কবি স্বদেশকে আঙটির মতো এই আঙুলে ধারণ করে এরিসের মতো অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশমাতৃকার নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবিতায় মানুষের মগজকে কুণ্ডলী পাকানো মেঘের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা বিপদের চিহ্নও বহন করে। এই বিপদ থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন প্রতিরোধ, আর সেই লড়াইয়ে শারীরিক শক্তির চেয়ে মানসিক শক্তি বেশি জরুরি। তাই কবির কল্পনায় মস্তিষ্ক নিজেই পিস্তলের আকার ধারণ করে। উদ্দীপকে নূরজাহান বেগম অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু তাঁর অসীম মনের জোর তাঁকে ব্ল্যাক-আউটের মধ্যে প্রদীপ জ্বালানোর সাহস দিয়েছে। এই চেতনা ও বোধই তাঁর অস্ত্র। কবিতার ঐ পঙ্ক্তির মূল ভাবও তাই, অর্থাৎ বোধ ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়েই সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যুক্তিসংগত। কবিতায় ‘ব্ল্যাক-আউট অমান্য করে তুমি দিগন্তে জ্বেলে দিলে বিদ্রোহী পূর্ণিমা’ বলে স্বদেশ ও তার নিসর্গের বিদ্রোহী ভূমিকাকে বোঝানো হয়েছে। চারদিকে যখন অন্ধকার ও শত্রুর নিয়ন্ত্রণ, তখন পূর্ণিমার আলো প্রতিরোধ, আশা ও মুক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে হানাদারদের ব্ল্যাক-আউটের নির্দেশ অমান্য করে নূরজাহান বেগম ছাদে প্রদীপ জ্বেলেছেন। তাঁর এই কাজ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের পথ দেখানোর সংকেত। অন্ধকারকে উপেক্ষা করে আলো জ্বালানোর মধ্য দিয়ে তিনি শত্রুর আদেশ অগ্রাহ্য করেছেন, যা বিদ্রোহী পূর্ণিমার মতোই আশা ও সাহসের প্রতীক। তবে কবিতায় এই আলো দিগন্তজুড়ে ছড়ানো এবং সমগ্র প্রকৃতির প্রতিরোধের প্রকাশ, আর উদ্দীপকে তা একজন ব্যক্তির সীমিত সাহসী উদ্যোগ। তবু তাৎপর্যের দিক থেকে নূরজাহানের প্রদীপ বিদ্রোহী পূর্ণিমার ক্ষুদ্র কিন্তু যথার্থ প্রতীকী রূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও