সহপাঠ • বহিপীর

সহপাঠ প্রশ্ন

ফারিয়ার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাবা তাকে এক প্রৌঢ় লোকের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করলে সে রাতে পালিয়ে প্রতিবেশী রুবিনা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। রুবিনা বেগম বলেন, ‘বিয়ে নসিবের ব্যাপার; ঘর ছেড়ে পালানো ঠিক হয়নি। ওকে বাবার কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।’ কিন্তু তাঁর ছেলে সাজিদ ফারিয়ার অবস্থা বুঝে মাকে বলে, ‘ওকে এখন কিছু বলো না, আমরা ওকে আশ্রয় দিয়েছি; এখন ওর দায়িত্ব আমাদের।’ ফারিয়াকে ফিরিয়ে নিতে লোকজন এলে সাজিদ সবার বিরোধিতার মুখেও তার পক্ষে দাঁড়ায়।

  1. ক)

    তাহেরাকে কোন ঘাট থেকে বজরায় তুলে নেওয়া হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    “অত ভাবলে কি কেউ পালাতে পারে?”— তাহেরার এই উক্তির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রুবিনা বেগম ও সাজিদের মনোভাবে ‘বহিপীর’ নাটকের কোন দুটি চরিত্রের কোন দিক ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের সাজিদের চেয়ে ‘বহিপীর’ নাটকের হাশেম আলির ভূমিকা অনেক বেশি সাহসী ও ত্যাগের।”— তুমি কি একমত? যুক্তিসহ লেখো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তাহেরাকে ডেমরার ঘাট থেকে বজরায় তুলে নেওয়া হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর খোদেজা তাহেরাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, পালানোর সময় সে কোথায় যাবে, কী হবে— এসব ভেবেছিল কি না। উত্তরে তাহেরা এ কথা বলে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, জোর করে বৃদ্ধ পীরের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ায় সে এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিল যে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার অবস্থা তার ছিল না। অনিশ্চয়তার ঝুঁকি নিয়েও সে অন্যায় বিয়ে থেকে মুক্তি চেয়েছে। কথাটি তার সাহসী ও দৃঢ় মনোভাবের পরিচায়ক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রুবিনা বেগম ও সাজিদের মনোভাবে ‘বহিপীর’ নাটকের যথাক্রমে খোদেজা ও হাশেম আলির দিক ফুটে উঠেছে। নাটকে খোদেজা তাহেরাকে বজরায় আশ্রয় দিলেও পালিয়ে আসাকে গুনাহ মনে করেন। তিনি বলেন, বিয়ে তকদিরের কথা, তাই বলে পালাতে হয় না। পরে তাহেরা পীরের স্ত্রী জানার পর তাকে ফিরিয়ে দিতে চান। রুবিনা বেগমও বলেন, বিয়ে নসিবের ব্যাপার, পালানো ঠিক হয়নি এবং ফারিয়াকে বাবার কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যদিকে হাশেম আলি তাহেরার পরিস্থিতি বুঝে মাকে বলে, বিপন্ন মেয়েকে আশ্রয় দিয়ে তার প্রতি তাঁদের দায়িত্ব আছে। সাজিদও আশ্রয় দেওয়ার দায়িত্বের কথা বলে ফারিয়ার পাশে দাঁড়ায়। অর্থাৎ রুবিনা বেগমের মধ্যে সংস্কারাচ্ছন্ন খোদেজা এবং সাজিদের মধ্যে সহানুভূতিশীল হাশেম আলি প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমি মন্তব্যটির সাথে একমত। সাজিদ ও হাশেম আলি উভয়েই বিপন্ন মেয়ের পক্ষ নিয়েছে, কিন্তু হাশেম আলির ভূমিকা আরও বিস্তৃত ও ত্যাগের। ১. উদ্দীপকে সাজিদ ফারিয়াকে আশ্রয় দেওয়ার দায়িত্বের কথা বলে এবং বিরোধিতার মুখেও তার পক্ষে দাঁড়ায়। নাটকেও হাশেম আলি একই কাজ করেছে। তাহেরা পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিলে সে তাকে আশ্বাস দেয়, বহিপীরের সঙ্গে তাকে যেতে হবে না। ২. হাশেম আলি পুরো বজরার মানুষ বিরুদ্ধে থাকলেও পক্ষ ত্যাগ করেনি। মায়ের সাবধানবাণী, বহিপীরের ভর্ৎসনা এবং পিতার করুণ মুখও তাকে টলাতে পারেনি। সে তাহেরাকে বাঁচাতে প্রয়োজনে বিয়ে করতেও প্রস্তুত ছিল। ৩. সে জমিদারপুত্র হয়েও বৈষয়িক সুবিধা ত্যাগ করেছে। শেষ পর্যন্ত তাহেরাকে নিয়ে অনিশ্চিত ও অজানার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। উদ্দীপকে সাজিদের এমন ত্যাগ বা ঝুঁকির কোনো উল্লেখ নেই। ৪. হাশেম আলির বিরোধিতা কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি ধর্মীয় কুসংস্কার ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। সাজিদের ভূমিকা সেই মাত্রায় পৌঁছায়নি। সুতরাং, মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও