সাহিত্য পাঠ • সুচেতনা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

যুদ্ধে ঘরবাড়ি হারিয়েও কিশোর রাহাত ভেঙে পড়েনি। সে স্কুলের ভাঙা দেয়ালে কয়লা দিয়ে লিখে রাখে, “রাত যত গভীরই হোক, ভোর আসবেই।” প্রতিদিন সঙ্গীদের নিয়ে সে ইটের স্তূপ সরিয়ে পড়ার একটু জায়গা তৈরি করে। ধ্বংস আর মৃত্যুর মাঝেও তার বিশ্বাস, একদিন এই জনপদ আবার আলোয় ভরে উঠবে।

  1. ক)

    জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা সত্য; তবু শেষ সত্য নয়”—ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রাহাতের বিশ্বাসের সঙ্গে ‘সুচেতনা’ কবিতার কোন চরণের ভাবগত মিল রয়েছে? কারণসহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “রাহাতের আশাবাদ ও ‘সুচেতনা’ কবিতার আশাবাদ একরকম নয়।”—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘ঝরা পালক’।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সভ্যতার বিকাশের পাশাপাশি পৃথিবীতে বহু যুদ্ধ, রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটেছে এবং এখনো ঘটছে। এগুলো পৃথিবীর বাস্তব ও অস্বীকার করার মতো নয়। কিন্তু কবির বিশ্বাস, এই ধ্বংস ও সংঘাতই মানবজীবনের চূড়ান্ত পরিণতি নয়। এর ঊর্ধ্বে শুভ চেতনা, প্রেম ও কল্যাণের এক বৃহত্তর সত্য রয়েছে। সেই সত্যই শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রাহাতের বিশ্বাসের সঙ্গে ‘সুচেতনা’ কবিতার “শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়” চরণটির ভাবগত মিল রয়েছে। এই চরণে কবি বুঝিয়েছেন, পৃথিবীর অন্ধকার বা বিপর্যয়ের অন্তরালেই লুকিয়ে আছে সূর্যোদয়, অর্থাৎ মুক্তির দিশা। সুচেতনার বিকাশে একদিন আলোকোজ্জ্বল পৃথিবীর দেখা মিলবে। উদ্দীপকে যুদ্ধে সব হারিয়েও রাহাত দেয়ালে লিখে রাখে, “রাত যত গভীরই হোক, ভোর আসবেই।” এখানে যুদ্ধ ও ধ্বংসের অন্ধকার রাতের প্রতীক এবং ভোর আশা ও মুক্তির প্রতীক। রাহাত ইটের স্তূপ সরিয়ে পড়ার জায়গা তৈরি করে নতুন জীবনের প্রত্যাশা বুনে চলেছে। অন্ধকারের মধ্যেও আলোর আগমনে এই দৃঢ় আস্থা কবিতার চরণটির ভাবেরই অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রাহাতের আশাবাদ ও ‘সুচেতনা’ কবিতার আশাবাদের মধ্যে মিল থাকলেও দুটি একরকম নয়—মন্তব্যটি যথার্থ। মিলের জায়গা হলো, উভয়ই ধ্বংস ও অন্ধকারের মধ্যে আলোর প্রত্যাশা করে। রাহাত বিশ্বাস করে যুদ্ধের রাত শেষে ভোর আসবে; কবিও বিশ্বাস করেন রণ-রক্ত শেষ সত্য নয় এবং রাত্রির বুকে অনন্ত সূর্যোদয় লুকিয়ে আছে। কিন্তু পার্থক্য রয়েছে গভীরতা ও পরিধিতে। রাহাতের আশা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদ ও তার তাৎক্ষণিক পুনর্গঠনকে ঘিরে। অন্যদিকে কবির আশা বিশ্বমানবতার প্রেক্ষাপটে প্রসারিত। কবি স্বীকার করেছেন, মানুষকে ভালোবাসা দিতে গিয়ে তাঁর নিজের হাতেও ভাই-বোন-বন্ধুর মৃত্যু ঘটেছে এবং পৃথিবী গভীর অসুখে আক্রান্ত। অর্থাৎ কবির আশাবাদ আত্মসমালোচনা ও বেদনাবোধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। এছাড়া কবি জানেন, শুভ চেতনার আলো জ্বেলে পৃথিবীর ক্রমমুক্তি ঘটানো অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ, তাই তিনি তাঁর স্বপ্ন সুদূর ‘অন্তিম প্রভাতে’র জন্য রেখেছেন। রাহাতের আশা নিকট ভবিষ্যতের, কবির আশা সুদূর ও দার্শনিক। সুতরাং দুটি আশাবাদ মূলত সমধর্মী হলেও ব্যাপ্তি ও গভীরতায় ভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও