সাহিত্য পাঠ • একটি তুলসী গাছের কাহিনি

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

দেশবিভাগের পর বিমলবাবু ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় চলে যান। সেখানে ঘিঞ্জি বস্তিতে ভাড়া থেকে প্রতিদিন তিনি ফেলে আসা বাড়ির আম-জামের গাছ আর উঠানের স্মৃতি মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। এদিকে সেই বাড়িতে এসে উঠেছে একটি ছিন্নমূল পরিবার। তারা ঘরের এককোণে বিমলবাবুর স্ত্রীর ফেলে যাওয়া একটি পুরোনো প্রদীপ পেয়ে থমকে যায়। রাতে সেই প্রদীপটি তারা যত্ন করে একটি তাকে সাজিয়ে রাখে।

  1. ক)

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত একটি নাটকের নাম লেখো।

    (1)
  2. খ)

    ‘গল্পের সীমিত পরিসরে জীবনের গভীর কোনো তাৎপর্যকে ইঙ্গিতময় ও ব্যঞ্জনাঋদ্ধ করে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মুন্সিয়ানা রয়েছে।’—‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে এমন কোন দিকটি রয়েছে, যা ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘উদ্দীপকে দেশভাগের কেবল মধুর মানবিক দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পটি দেশভাগের বহুমাত্রিক বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে।’—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত একটি নাটক ‘বহিপীর’ (অথবা ‘তরঙ্গভঙ্গ’ বা ‘সুড়ঙ্গ’)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পে লেখক একটি সাধারণ তুলসী গাছের মাধ্যমে দেশভাগের পরবর্তী সময়ের গভীর সামাজিক ও মানবিক সংকট ফুটিয়ে তুলেছেন। গাছটি উপড়ে ফেলা হবে কি না, এই সামান্য ঘটনার ভেতর দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা, উদ্বাস্তু জীবনের যন্ত্রণা ও মানবিক দ্বন্দ্ব ইঙ্গিতে প্রকাশ পেয়েছে। গল্পের শেষে শুকিয়ে যাওয়া গাছটি দেশভাগের শিকার অসংখ্য মানুষের বিপন্ন জীবনের প্রতীক হয়ে ওঠে। এভাবে সীমিত পরিসরে ব্যঞ্জনার মাধ্যমে বড় তাৎপর্য প্রকাশ করার ক্ষমতা লেখকের মুন্সিয়ানা প্রমাণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ফেলে আসা বাড়ির প্রতি স্মৃতিকাতরতা এবং সেই বাড়ির নতুন বাসিন্দাদের সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ—এই দুটি দিক রয়েছে। গল্পে দিকগুলো ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। উদ্দীপকে বিমলবাবুর স্মৃতিকাতরতা সরাসরি বর্ণিত। গল্পে গৃহকর্ত্রীর অনুপস্থিতি তুলসী গাছের মাধ্যমে ইঙ্গিতে প্রকাশ পেয়েছে এবং মতিন কল্পনা করেছে, সে হয়তো রেলপত্তিতে বা ট্রেনের জানালায় বসে আছে। উদ্দীপকের নতুন বাসিন্দারা প্রদীপটি সম্মানের সঙ্গে সাজিয়ে রাখে। গল্পের নতুন বাসিন্দারা তুলসী গাছ উপড়ে ফেলতে চেয়েছিল, পরে দ্বিধা ও অস্বস্তিতে গাছটি রেখে দেয়, আর শেষে অবহেলায় সেটি শুকিয়ে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে দেশভাগের পর বিমলবাবুর কলকাতায় বস্তিজীবন এবং ঢাকার বাড়িতে ছিন্নমূল পরিবারের আশ্রয়ের কথা আছে। বিমলবাবু স্মৃতিকাতর এবং নতুন বাসিন্দারা তাঁর স্ত্রীর প্রদীপের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এতে একটি কোমল মানবিক সম্পর্কের ছবি ফুটে উঠেছে। কিন্তু উদ্দীপকে ধর্মীয় বিদ্বেষ, উচ্ছেদের আতঙ্ক বা দ্বিধার কোনো ইঙ্গিত নেই। গল্পে দেশভাগের চিত্রটি অনেক ব্যাপক। কলকাতার ঘিঞ্জি পাড়া থেকে আসা কেরানিরা পরিত্যক্ত বাড়ি বেআইনিভাবে দখল করে, আবার সেই বাড়ি দখল করতে না পেরে অন্য আশ্রয়প্রার্থীরা ঈর্ষায় পুলিশে খবর দেয়। তুলসী গাছ দেখে কেউ কেউ ‘হিন্দুয়ানির চিহ্ন’ বলে ক্ষিপ্ত হয়, আড্ডায় সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে উত্তপ্ত তর্ক হয়। আবার গৃহকর্ত্রীর কল্পিত ছবি ও গোপনে গাছে পানি দেওয়ার মধ্য দিয়ে মানবিকতাও প্রকাশ পায়। শেষ পর্যন্ত সরকারি রিকুইজিশনে সবাইকে বাড়ি ছাড়তে হয় এবং গাছটি আবার শুকিয়ে যায়। এভাবে গল্পে ঈর্ষা, সাম্প্রদায়িকতা, মানবিকতা, আশ্রয়হীনতা ও রাজনৈতিক দুর্ভাগ্য একসঙ্গে ধরা পড়েছে। সুতরাং উদ্দীপক শুধু মধুর মানবিক দিকটি ধারণ করেছে, আর গল্পটি দেশভাগের বহুমাত্রিক বাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছে; মন্তব্যটি সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও