সাহিত্য পাঠ • গন্তব্য কাবুল

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

একটি দিনের কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় গ্রামের পাঠশালায় বসে মিনা শুনছে ঝিঁঝির ডাক আর দূরের নদীর কুলুকুলু। চারদিকে শ্যামল গাছপালা, ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ। তার মনে হলো, এমন নিভৃত, স্নিগ্ধ ও শান্ত জায়গা পৃথিবীতে আর নেই। গ্রামে নিয়মিত বৃষ্টি হয়, পাশের নদীর জলে সবাই নিয়মিত উঠান-গোয়াল ধোয়, তাই কোথাও দুর্গন্ধ নেই।

  1. ক)

    সরাইয়ের দেয়াল কত ফুট উঁচু ছিল?

    (1)
  2. খ)

    “সূচিভেদ্য অন্ধকার দেখেছি, এই প্রথম সূচিভেদ্য দুর্গন্ধ শুঁকলুম।”- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সঙ্গে তুলনা করে রচনার সরাইয়ে দুর্গন্ধ জমে ওঠার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের চিত্র ও রচনার সরাইয়ের চিত্রে বৈসাদৃশ্য আছে, আর সেই বৈসাদৃশ্যের মধ্য দিয়েই লেখকের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।”- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আফগান সরাইয়ের দেয়াল ছিল ত্রিশ ফুট উঁচু।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আফগান সরাইয়ের ভেতরে ঢুকে লেখক এমন তীব্র ও ঘন দুর্গন্ধের মুখোমুখি হন, যা যেন শরীরের ওপর ধাক্কা দেয়। ‘সূচিভেদ্য অন্ধকার’ বলতে বোঝায় এতটাই ঘন অন্ধকার যে সূচ দিয়েও ভেদ করা যায় না। তেমনি সরাইয়ের গন্ধও এতই ঘনীভূত ও স্তরীভূত যে ধাক্কা দিয়ে না সরালে এগোনো অসম্ভব মনে হয়। অর্থাৎ উক্তিটিতে দুর্গন্ধের চরম তীব্রতা ও অসহনীয়তা বোঝানো হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের গ্রামে নিয়মিত বৃষ্টি হয় এবং নদীর জলে নিয়মিত ধোয়ামোছা হয়, তাই সেখানে দুর্গন্ধ জমতে পারে না। ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার সরাইয়ের পরিবেশ এর সম্পূর্ণ বিপরীত।

    লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী সরাইয়ের এলাকাটি মৌসুমি হাওয়ার বাইরে, তাই সেখানে বৃষ্টি হয় না। জায়গাটি যথেষ্ট উঁচু নয় বলে বরফও পড়ে না। আশেপাশে নদী বা ঝরনা নেই বলে জল দিয়ে ধোয়ামোছার মতো বাজে খরচের কথা ওঠেই না। ফলে সিকন্দরশাহি বাজীরাজ থেকে শুরু করে পরশুদিনের আস্ত ভেড়ার পাল পর্যন্ত যারা এখানে এসেছে, তাদের ‘অবদান’ সময়ের সঙ্গে জমে স্তরে স্তরে গন্ধ হয়ে আছে। স্থূল অংশ মাঝে মাঝে সাফ করা হলেও সূক্ষ্ম গন্ধ সর্বত্র এমনভাবে স্তরীভূত হয়ে আছে যে ধাক্কা না দিলে এগোনো যায় না।

    তাই বলা যায়, বৃষ্টি, বরফ ও জলের উৎসের অভাবে প্রাকৃতিক ধোয়ামোছা না হওয়াই রচনার সরাইয়ে দুর্গন্ধ জমে ওঠার প্রধান কারণ। উদ্দীপকে এর বিপরীত অবস্থা বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত নিভৃত পাঠশালার সঙ্গে রচনার সরাইয়ের বৈসাদৃশ্য সুস্পষ্ট, আর এই বৈসাদৃশ্যের মধ্য দিয়ে লেখকের অনুভূতিও ধরা পড়ে।

    উদ্দীপকে সন্ধ্যার শান্ত পরিবেশ, নদীর কুলুকুলু, শ্যামল প্রকৃতি সবকিছুই স্নিগ্ধতার ছবি আঁকে। লেখক নিজেই লিখেছেন, ‘কর্মঅন্তে নিভৃত পাঠশালাতে’ বলতে আমাদের চোখে যে স্নিগ্ধতার ছবি ফুটে ওঠে, সরাইয়ের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

    সরাইয়ের চেহারা এর ঠিক উল্টো। সেটি দেখতে সরাই নয়, ভীষণ দুশমনের মতো দাঁড়িয়ে থাকা এক চৌকো দুর্গ। ত্রিশ ফুট উঁচু হলদে মাটির নিরেট চারটি দেয়াল, সামনে বিরাট দরজা, যেখানে ডবল-ডেকার বাসও ঢুকতে পারে। ভেতরে ঢুকলে মনে হয়, এই দানবের পেট থেকে আর বেরোনো যাবে না। তার ওপর কত শত শতাব্দীর জমে থাকা দুর্গন্ধ।

    এই বর্ণনায় লেখকের রসবোধ ও কৌতুক যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি অস্বস্তি ও ভীতির অনুভূতিও স্পষ্ট। স্নিগ্ধ পাঠশালার তুলনায় সরাইকে ভয়ংকর দেখানোর মাধ্যমেই লেখক বিদেশের কঠোর বাস্তবতার সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতাকে পাঠকের সামনে জীবন্ত করে তুলেছেন। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও