বাংলা ১ম পত্র • জীবনে শিল্পের স্থান
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ব্যবসায়ী হাজি আবদুল মান্নান শহরে পাঁচতলা দালান তুলেছেন। ঘরে আছে দামি সোফা, বিদেশি ঝাড়বাতি ও নানা ধরনের শোপিস। কিন্তু সব জিনিস এলোমেলো ঠাসা, দেয়ালের রঙের সঙ্গে পর্দার রঙ মেলে না, আর দালানের সামনের জায়গাটি ইট-সুরকি ও জঞ্জালে ভরা। অতিথিরা দামি আসবাব দেখে অবাক হলেও বেশিক্ষণ বসে থাকতে অস্বস্তি বোধ করেন।
- ক)(1)
‘জীবনের শিল্প’ গ্রন্থটি কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
“যে গৃহস্বামী Taste বা রুচি জিনিসটার সঙ্গে দূর সম্পর্কও রাখে না”— বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
‘জীবনে শিল্পের স্থান’ প্রবন্ধের সৌন্দর্যচেতনার আদর্শের সঙ্গে উদ্দীপকের হাজি আবদুল মান্নানের ঘরবাড়ির কোথায় অমিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“অর্থ থাকলেই সৌন্দর্যবোধ থাকে না”— উদ্দীপক ও ‘জীবনে শিল্পের স্থান’ প্রবন্ধ অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘জীবনের শিল্প’ গ্রন্থটি ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখক গ্রামের কিছু কোঠাবাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখেছেন, সেখানে ফার্নিচার ও ছবি থাকলেও সৌন্দর্যের কোনো ছাপ নেই। এসব ঘরের মালিকের সুন্দর-অসুন্দরের কোনো বোধ নেই। তারা অর্থ ব্যয় করে জিনিস কিনেছে, কিন্তু তা সাজানোর রুচি দেখাতে পারেনি। তাই লেখক বলেছেন, গৃহস্বামী রুচির সঙ্গে দূর সম্পর্কও রাখে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘জীবনে শিল্পের স্থান’ প্রবন্ধের আদর্শ অনুযায়ী বাড়ি, প্রাঙ্গণ, আসবাবপত্র, সাজ-সরঞ্জাম ও বাড়ির বেষ্টনী সবকিছুই সুন্দর হওয়া চাই। উদ্দীপকে হাজি আবদুল মান্নানের ঘরে দামি আসবাব থাকলেও সেগুলো এলোমেলো করে রাখা এবং পর্দা ও দেয়ালের রঙে মিল নেই। দালানের সামনের জায়গা জঞ্জালে ভরা, যা প্রবন্ধে উল্লিখিত বাড়ির বেষ্টনী সুন্দর রাখার আদর্শের পরিপন্থী। প্রবন্ধে সৌন্দর্যের মানদণ্ড হলো রুচিশীল সাজসজ্জা ও পরিচ্ছন্নতা, দামি জিনিস নয়। উদ্দীপকে ব্যয় আছে, রুচি নেই। এখানেই আদর্শ ও বাস্তবের অমিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত। ‘জীবনে শিল্পের স্থান’ প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন, গ্রামে বহু কোঠাবাড়ি নির্মাণে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় হলেও সৌন্দর্যানুভূতির কোনো নিদর্শন ভেতরে বা বাইরে পাওয়া যায় না। ১. অর্থ ও রুচির পার্থক্য: প্রবন্ধে ফার্নিচার ও ছবি থাকা সত্ত্বেও গৃহস্বামীকে রুচিহীন বলা হয়েছে। উদ্দীপকে দামি সোফা ও ঝাড়বাতি থাকলেও এলোমেলো সাজসজ্জা তাঁর রুচির অভাব প্রমাণ করে। ২. পরিবেশের প্রতি উদাসীনতা: লেখক বলেছেন, এক কাঠা জমিও কেউ সুন্দরভাবে সাজাতে চেষ্টা করেনি। উদ্দীপকে দালানের সামনে জঞ্জাল পড়ে থাকা একই উদাসীনতার প্রকাশ। ৩. সৌন্দর্য সাধনার বিষয়: লেখকের মতে সৌন্দর্য অনুভূতি, যত্ন ও চর্চার ব্যাপার, যা কেবল টাকায় কেনা যায় না। তাই অতিথিরা দামি আসবাব দেখে বিস্মিত হলেও স্বস্তি পান না। সুতরাং অর্থ প্রয়োজনীয় হলেও সৌন্দর্যবোধের জন্য তা যথেষ্ট নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও