জীববিজ্ঞান • খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
দশম শ্রেণির ছাত্র তানভীর একদিনের দুপুরের খাবারে নিচের খাদ্য উপাদান গ্রহণ করল: শর্করা ৬০ গ্রাম, আমিষ ২০ গ্রাম ও স্নেহ পদার্থ ১৫ গ্রাম। পরদিন সে খাবারে তেল কমিয়ে স্নেহ পদার্থ ৫ গ্রাম নিল এবং ভাতের পরিমাণ বাড়িয়ে শর্করা ৮৫ গ্রাম নিল, আমিষ একই রাখল।
[ধরো, প্রতি গ্রাম শর্করা ও আমিষ থেকে ৪ কিলোক্যালরি এবং প্রতি গ্রাম স্নেহ পদার্থ থেকে ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।]
- ক)(1)
ক্যালরি কী?
- খ)(2)
সিদ্ধ আলুর চেয়ে ভাজা আলুতে ক্যালরি বেশি কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রথম দিন তানভীর মোট কত কিলোক্যালরি শক্তি পেয়েছিল? নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় দিনের খাবার পরিবর্তনের ফলে তানভীরের শক্তি প্রাপ্তি ও ক্ষুধা অনুভবের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন হবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ক্যালরি হলো প্রাণিদেহে শক্তি মাপার একটি একক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভাজা আলু তৈরিতে তেল বা চর্বি ব্যবহার করা হয়। স্নেহজাতীয় খাদ্যে শর্করা ও আমিষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে। ভাজার সময় আলুতে তেল যুক্ত হয়, ফলে খাদ্যের মোট ক্যালরি বেড়ে যায়। সিদ্ধ আলুতে এই বাড়তি স্নেহ পদার্থ থাকে না। তাই সিদ্ধ আলুর চেয়ে ভাজা আলুতে ক্যালরি বেশি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শর্করা থেকে শক্তি = ৬০ × ৪ = ২৪০ কিলোক্যালরি
আমিষ থেকে শক্তি = ২০ × ৪ = ৮০ কিলোক্যালরি
স্নেহ পদার্থ থেকে শক্তি = ১৫ × ৯ = ১৩৫ কিলোক্যালরি
মোট শক্তি = ২৪০ + ৮০ + ১৩৫ = ৪৫৫ কিলোক্যালরি
উত্তর: প্রথম দিন তানভীর মোট ৪৫৫ কিলোক্যালরি শক্তি পেয়েছিল। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দ্বিতীয় দিনের শক্তি:
শর্করা থেকে = ৮৫ × ৪ = ৩৪০ কিলোক্যালরি
আমিষ থেকে = ২০ × ৪ = ৮০ কিলোক্যালরি
স্নেহ পদার্থ থেকে = ৫ × ৯ = ৪৫ কিলোক্যালরি
মোট = ৩৪০ + ৮০ + ৪৫ = ৪৬৫ কিলোক্যালরি
প্রথম দিনে পাওয়া শক্তি ছিল ৪৫৫ কিলোক্যালরি। অর্থাৎ দ্বিতীয় দিনে শক্তি মাত্র ১০ কিলোক্যালরি বেশি, পরিমাণগতভাবে প্রায় সমান।
তবে শক্তির উৎসের অনুপাত ভিন্ন। প্রথম দিনে স্নেহ পদার্থ থেকে পাওয়া শক্তি ছিল ১৩৫ কিলোক্যালরি (প্রায় ৩০%), দ্বিতীয় দিনে তা কমে ৪৫ কিলোক্যালরি (প্রায় ১০%) হয়েছে। অন্যদিকে শর্করা থেকে পাওয়া শক্তি ২৪০ কিলোক্যালরি (প্রায় ৫৩%) থেকে বেড়ে ৩৪০ কিলোক্যালরি (প্রায় ৭৩%) হয়েছে। স্নেহ পদার্থ পাকস্থলীতে অনেকক্ষণ থাকে, তাই তখন ক্ষুধা পায় না। দ্বিতীয় দিনে স্নেহ পদার্থ কমে যাওয়ায় তানভীরের তুলনামূলক দ্রুত ক্ষুধা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার শর্করা সরল শর্করায় পরিণত হয়ে শোষিত হয়, তাই দ্বিতীয় দিনে কর্মশক্তির যোগান বেশি শর্করা-নির্ভর হবে, আর প্রথম দিনে তাপ উৎপাদনকারী স্নেহ পদার্থের অবদান ছিল তুলনামূলক বেশি।
সুতরাং শক্তির পরিমাণ প্রায় সমান থাকলেও ক্ষুধা অনুভবের সময় ও শক্তির উৎসের অনুপাতের দিক থেকে পরিবর্তন ঘটবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও