বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। তখন জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া ছিল এবং কোনো অধিবেশন চালু ছিল না। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের একটি নতুন বিধান দ্রুত চালু করা জরুরি হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- ক)(1)
রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ কত দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন?
- খ)(2)
সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রধান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রাষ্ট্রপতির কোন ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনাটি যদি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন করে, তবে রাষ্ট্রপতি আর কী ব্যবস্থা নিতে পারেন? রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন ক্ষমতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাষ্ট্রপতি অনধিক একশত কুড়ি (১২০) দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রধান এবং প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়। কিন্তু তাঁর হাতে প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা থাকে না। প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা প্রয়োগ করেন। রাষ্ট্রপতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। এ কারণেই তাঁকে নিয়মতান্ত্রিক প্রধান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটেছে।
সংসদ ভেঙে গেলে বা সংসদের অধিবেশন না থাকলে কোনো বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এ অধ্যাদেশ সংসদ প্রণীত আইনের মতোই ক্ষমতাসম্পন্ন।
উদ্দীপকে বন্যার কারণে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের একটি নতুন বিধান দ্রুত চালু করা প্রয়োজন হয়েছে। অথচ তখন সংসদ ভাঙা ছিল এবং কোনো অধিবেশন চালু ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে আইনের মতো কার্যকর বিধান চালু করার একমাত্র উপায় অধ্যাদেশ জারি। তাই রাষ্ট্রপতি এ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন বলে বোঝা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনা যদি এমন ভয়াবহ রূপ নেয় যে দেশের বা এর কোনো অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন হয়, তবে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
সংবিধানের ১৪১ক (১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হলে যে যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগে দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন, তিনি অনধিক ১২০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
এছাড়া এ পরিস্থিতিতে তাঁর অন্যান্য ক্ষমতাও কার্যকর হতে পারে। প্রথমত, অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা অনুযায়ী তিনি সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা করতে পারেন, ফলে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য অর্থের জোগান সম্ভব হয়। দ্বিতীয়ত, সংসদ না থাকলে তিনি অধ্যাদেশ জারি করে দ্রুত আইনি কাঠামো তৈরি করতে পারেন। তৃতীয়ত, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি নিরাপত্তা রক্ষা ও উদ্ধারকাজে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
তবে সংসদীয় ব্যবস্থায় এসব ক্ষমতা সাধারণত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয়। সুতরাং রাষ্ট্রপতির এসব ক্ষমতা সংকটকালে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণের জীবন ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও