বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

'ক' রাষ্ট্রে উচ্চ আদালতের বিচারক জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। 'খ' রাষ্ট্রে আইনসভা বিচারক নির্বাচন করে। 'গ' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে বিচারক নিয়োগ দেন। রাষ্ট্র তিনটির নাগরিকরা নিজ নিজ বিচার ব্যবস্থার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করছেন। 'গ' রাষ্ট্রের একজন নাগরিক বললেন, তাঁদের পদ্ধতিটি বাংলাদেশের মতো।

  1. ক)

    বাংলাদেশে অধস্তন আদালতের বিচারকগণ কীভাবে নিয়োগ পান?

    (1)
  2. খ)

    বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতিকে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক', 'খ' ও 'গ' রাষ্ট্রে বিচারক নিয়োগের যে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা হয়েছে তার নাম লেখো এবং বাংলাদেশের সঙ্গে মিল আছে এমন পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'গ' রাষ্ট্রের নাগরিকের মন্তব্যের আলোকে বিচারক নিয়োগের তিনটি পদ্ধতির মধ্যে কোনটি তুমি সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করো? যুক্তিসহ মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে অধস্তন আদালতসমূহের বিচারকগণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিচারক নিয়োগের পদ্ধতির ওপর বিচারকদের নিরপেক্ষতা অনেকটা নির্ভর করে। নিয়োগে যোগ্যতার শর্ত না থাকলে বা নিয়োগে বাহ্যিক প্রভাব থাকলে বিচারক স্বাধীনভাবে রায় দিতে পারেন না। বাংলাদেশে সংবিধানে বিচারকদের যোগ্যতার শর্ত উল্লেখ আছে এবং রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে নিয়োগ দেন। এভাবে নিয়োগ হলে বিচারবিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। তাই একে স্বাধীনতা রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'ক' রাষ্ট্রে অনুসৃত পদ্ধতি হলো জনসাধারণ কর্তৃক নির্বাচন। 'খ' রাষ্ট্রে পদ্ধতিটি আইনসভা কর্তৃক নির্বাচন। 'গ' রাষ্ট্রে পদ্ধতিটি শাসনবিভাগের প্রধান কর্তৃক নিয়োগ।
    বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রয়েছে 'গ' রাষ্ট্রের পদ্ধতির। বাংলাদেশে সংবিধানে বিচারকদের যোগ্যতার শর্ত নির্ধারিত আছে। রাষ্ট্রপতি সেই শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে বিচারক নিয়োগ দেন। প্রধান বিচারপতি ও উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের নিয়োগ সাধারণত রাষ্ট্রপতিই দিয়ে থাকেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের তিনটি পদ্ধতির মধ্যে 'গ' রাষ্ট্রের পদ্ধতি, অর্থাৎ শাসনবিভাগের প্রধান কর্তৃক নিয়োগ আমার কাছে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়।
    ১. 'ক' রাষ্ট্রের জনসাধারণ কর্তৃক নির্বাচনে জটিলতা রয়েছে। বিচারকরা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারেন, যা নিরপেক্ষ বিচারের পরিপন্থী।
    ২. 'খ' রাষ্ট্রে আইনসভা কর্তৃক নির্বাচনেও জটিলতা আছে। দলীয় রাজনীতির প্রভাবে যোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্য প্রাধান্য পেতে পারে।
    ৩. 'গ' রাষ্ট্রে সংবিধানে নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এবং প্রধান বিচারপতির পরামর্শক্রমে নিয়োগ হয়। ফলে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিরা নিয়োগ পান এবং বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা পায়।
    ৪. অন্য দুটি পদ্ধতিতে বিভিন্ন জটিলতা থাকায় বর্তমানে অধিকাংশ রাষ্ট্র শাসনবিভাগের প্রধান কর্তৃক বিচারপতি নিয়োগ করে থাকে। বাংলাদেশও এই পদ্ধতি অনুসরণ করে।
    অতএব, যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা রক্ষার দিক বিবেচনায় 'গ' রাষ্ট্রের পদ্ধতিই সবচেয়ে উপযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও