পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
শাপলা কলেজে প্রতি চার বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের জন্য কলেজের সকল ছাত্রের একটি অভিন্ন ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়, এ তালিকার বাইরে কেউ ভোট দিতে পারে না। ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নামের পাশে প্রতীক থাকে এবং ভোটাররা আড়ালে গিয়ে নির্দিষ্ট সিল দিয়ে ভোট দেয়। অধ্যক্ষ কর্তৃক গঠিত একটি স্বাধীন কমিটি নির্বাচন পরিচালনা করে। তবে কলেজের ছাত্রীরা এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারে না।
- ক)(1)
সর্বজনীন ভোটাধিকার কী?
- খ)(2)
গোপন ভোট পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার কোন কোন বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের নির্বাচন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার সবগুলো বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে কি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ ও ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটদানের অধিকারকে সর্বজনীন ভোটাধিকার বলে। বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়স্ক সকল নাগরিক এ অধিকার ভোগ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর গোপন ভোট পদ্ধতি হলো এমন এক ধরনের পদ্ধতি, যেখানে ভোটাররা প্রকাশ্যে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না জানিয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখে নিজের পছন্দের প্রতিনিধিকে ভোট দেন। বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালট পেপারে গোপনে সিল মেরে ভোট প্রদান করেন। এতে ভোটার কাকে ভোট দিলেন তা অন্য কেউ জানতে পারে না। ফলে ভয়ভীতি বা চাপ ছাড়াই ভোটার স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ভোটার তালিকা, সরল ভোট পদ্ধতি, গোপন ভোট পদ্ধতি, নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নির্বাচন কমিশন—এ বৈশিষ্ট্যগুলো প্রতিফলিত হয়েছে।
১. ভোটার তালিকা: বাংলাদেশে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জন্য একটি অভিন্ন ভোটার তালিকা থাকে এবং এ তালিকা ছাড়া অন্য কোনো তালিকা গ্রহণযোগ্য নয়। উদ্দীপকে শাপলা কলেজেও সকলের জন্য অভিন্ন তালিকা রয়েছে।
২. সরল ও গোপন ভোট পদ্ধতি: আমাদের দেশে প্রার্থীর নামের পাশে প্রতীকসহ ব্যালট পেপারে সিল মেরে গোপনে ভোট দেওয়া হয়। উদ্দীপকে প্রতীকযুক্ত ব্যালটে আড়ালে গিয়ে সিল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৩. নির্বাচন অনুষ্ঠান: সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে প্রতি চার বছর পর নির্বাচনের উল্লেখ আছে।
৪. নির্বাচন কমিশন: বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে। উদ্দীপকের স্বাধীন কমিটি এ কমিশনের মতোই ভূমিকা রাখে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নির্বাচন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার সবগুলো বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়নি—এ মত যথার্থ।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সর্বজনীন ভোটাধিকার। এখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ১৮ বছর বয়সী সকল নাগরিক ভোটাধিকারের অধিকারী এবং ধনী-নির্ধন, নারী-পুরুষ সকলের ভোটদানের অধিকার সমান। কিন্তু উদ্দীপকে ছাত্রীদের ভোটদান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ফলে সর্বজনীন ভোটাধিকার ও সমান অধিকারের নীতি এখানে লঙ্ঘিত হয়েছে।
অন্যদিকে ভোটার তালিকা, সরল ভোট পদ্ধতি, প্রতীকযুক্ত ব্যালট, গোপন ভোট, নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিটির মতো বৈশিষ্ট্যগুলো উদ্দীপকে বিদ্যমান। তবে উদ্দীপকে নির্বাচনী এলাকা বিভাজন, উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণ কিংবা সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক কমিশনের মতো বিষয় নেই। কলেজের কমিটি অধ্যক্ষ কর্তৃক গঠিত, সংবিধান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বতন্ত্র সাংবিধানিক সংস্থা নয়।
সুতরাং ভোটার তালিকা, গোপন ও সরল ভোট প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হলেও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মতো মৌলিক বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতির কারণে উদ্দীপকের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন বলা যায় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও